উদ্বোধনের আগেই চার কোটি টাকার ব্রীজের অ্যাপ্রোচে ধস!

দেশের খবর ফিচার

সিরাজ আল মাসুদ, টাঙ্গাইল : চার কোটির বেশি টাকা মূল্যের ব্রীজটি মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। ব্রীজের উভয় পাশের অ্যাপ্রোচের মাটি সরে গিয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়াও ব্রীজের সীমানা পিলারগুলো পড়ে রয়েছে দু’পাশে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে কাজ করায় অল্প দিনেই ব্রীজের এমন দুর্দশা। দ্রুত সময়ের মধ্যে ব্রীজটির অ্যাপ্রোচ সংস্কারের দাবি জানিয়েছে এলাকাবাসী।

এলজিইডি সূত্রে জানা যায়, চার কোটি ২৩ লাখ ১৪৬ টাকা মূল্যে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার ছিটকিবাড়ী-চরপৌলী সড়কের ধলেশ্বরী শাখা নদীর উপর ৮১ মিটার ব্রীজের দরপত্র আহ্বান করে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। ব্রীজটির নির্মাণ কাজ পায় মেসার্স ফ্রেন্ডস এন্ড নাইজ (জেভি) জয়েন ভেন্সার নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ২০১৮ সালের ২৭ অক্টোবর ব্রীজটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন টাঙ্গাইল-৫ আসনের সংসদ সদস্য ছানোয়ার হোসেন।

স্থানীয়রা জানান, ‘এক বছর আগে ব্রীজটির নির্মাণ কাজ শেষ হলেও উদ্বোধন করা হয়নি। তবে তার আগেই ব্রীজটির দুই অ্যাপ্রোচের মাটি সরে গিয়ে মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে।’

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ব্রীজটি দক্ষিণ পাশের অ্যাপ্রোচের পূর্ব পাশে প্রায় ১০ ফিট অংশের মাটি সরে গেছে। অপরদিকে উত্তর পাশের অ্যাপ্রোচের দুই দিকে ১২ ফিট করে মাটি সরে গেছে। এছাড়াও ব্রীজের উভয় প্রান্তের সীমানা পিলারগুলো পড়ে আছে। দিনের বেলা পথচারীরা স্বাভাবিক গতিতে চলাচল করলেও রাতে দুর্ঘটনার আতঙ্কে চলাচল করতে হয় এই ব্রীজ দিয়ে। এর আগে দক্ষিণ প্রান্তের এপ্রোচে প্রায় ১৫ ফিট অংশে থেকে মাটি ও কার্পেটিং সরে গেলে এলাকাবাসীর উদ্যোগে ঢালাই করে ভরাট করা হয়।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায় , ‘ব্রীজটি দিয়ে যুগনী, বাঘিল, ছিটকি বাড়ি, পৌলি, শিবপুরসহ আশে পাশের ১৫ এলাকার লক্ষাধিক মানুষ চলাচল করে। কিন্তু নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে কাজ করায় ব্রীজটির অ্যাপ্রোচের ও পিলার উদ্বোধনের আগেই ধ্বসে গিয়েছে। স্থানীয় চেয়ারম্যান রফিককে জানালেও ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। তবে ব্রীজ নির্মাণের শুরু থেকেই নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ করলেও এলজিইডি থেকে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। এখন পুরোদমে বন্যা শুরু হয়নি। বন্যার আগে এপ্রোচ ঠিক না হলে বন্যায় উভয় পাশের অ্যাপ্রোচ ধসে চলাচল বন্ধ হতে পারে। এপ্রোচ বন্যায় ধ্বসে গেলে নৌকা ছাড়া আর কোন গতি থাকবে না আমাদের। তাই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।’

সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহজাহান আনছারী বলেন, ‘ব্রীজটি পরিদর্শনের পর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য এলজিইডির প্রকৌশলীকে তাগিদ দেওয়া হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে সংস্কার করা হবে।’

এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্বত্তাধিকারী সৈয়দ শাহিন বলেন, ‘করোনাভাইরাসের কারণে এখনও উদ্বোধন করা সম্ভব হয়নি। বৃষ্টি হলে এ ধরনের ঘটনা প্রায়ই ঘটে। ব্রীজে কোন ক্ষতি হয়নি। তবে রাস্তা যে কোন সময় ভেঙ্গে যেতে পারে। দ্রুত সময়ের মধ্যে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

টাঙ্গাইল সদর উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী একেএম হেদায়েত উল্ল্যাহ্ বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

সিরাজ আল মাসুদ/চারিদিক/আকাশ