উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যানের একি কাণ্ড!

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল দেশের খবর

হায়াতুজ্জামান মিরাজ, আমতলী (বরগুনা) :
বরগুনার তালতলীতে অভিযোগের নোটিশের জবাব দেওয়ার পূর্বেই আল-মদিনা অটো সেন্টার শো-রুম ম্যানেজারকে পিটিয়ে হাসপাতালে পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে তালতলী উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ও তার সাথে থাকা লোকজনদের বিরুদ্ধে।

বৃহস্পতিবার (১০ জুন) রাত ১০টার দিকে উপজেলার মালিপাড়া এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার দক্ষিণ সদর রোডস্থ মালিপাড়া এলাকায় আল-মদিনা অটো সেন্টার শো রুম থেকে নাজমুল নামের এক ব্যক্তি একটি অটো-বোরাক ইজিবাইক কিস্তিতে ক্রয় করেন। ১৫ থেকে ২০ দিন পরে ওই ইজিবাইকের ব্যাটারিতে সমস্যা দেখা দেয়। এ বিষয়ে নাজমুল নামে এক বোরাক অটো ড্রাইভারসহ বেশ কয়েকজন ক্রেতা উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাকের কাছে একটি অভিযোগ করেন। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে উপজেলা পরিষদ কার্যালয়ের প্যাডে আল-মদিনা অটো সেন্টার নামে শো রুমের মালিক পক্ষ ম্যানেজার মো. রফিকুল ইসলামকে নোটিশ প্রদান করা হয়।

নোটিশে বৃহস্পতিবার (১০ জুন) বিকেল ৫টার মধ্যে নোটিশের জবাব দেয়াসহ শো রুমের সকল প্রকার কাগজপত্র নিয়ে তার ব্যক্তিগত কার্যালয়ে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়। নির্ধারিত সময়ে নোটিশের জবাব ও উপস্থিত না হওয়ায় ভাইস চেয়ারম্যান বাদল, রুহুল আমিন, রাকিবুল, মেহেদী হাসানসহ (সুমনকারী) পাঠিয়ে শো-রুমের ম্যানেজার মো. রফিকুল ইসলামকে ডেকে পাঠায়। এ সময় ম্যানেজার যেতে পারবেন না বলে জানায়। একথা ভাইস চেয়ারম্যানকে জানালে কিছুক্ষণ রাত সাড়ে ৯টার দিকে তিনি নিজেই সাথে বেশ কয়েকজনকে নিয়ে স্ব-শরীরে আল-মদিনা অটো সেন্টার শো-রুমে চলে আসেন। এ সময় তার অফিসে না যাওয়ার কারণ জিজ্ঞাসা করেন ম্যানেজার রফিককে। উভয়ের মধ্যে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে তার সাথে থাকা লোকজন এবং তিনি নিজেই ম্যানেজারকে মারধর করেন বলে শো-রুমের ম্যানেজার রফিকুল ইসলাম অভিযোগ করেন। স্থানীয়রা আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করে বলে জানান ম্যানেজার।

বেশ কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, ‘প্রথমদিকে ৭ থেকে ৮ জন শো-রুমের ম্যানেজার রফিকুল ইসলামকে নিয়ে আসার জন্য আসে। পরে উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক নিজেই স্ব-শরীরে চলে আসেন। এসেই উত্তেজিত হয়ে ম্যানেজার রফিকুল ইসলামের সাথে কথার কাটাকাটি এক পর্যায়ে তাকে চড়থাপ্পর মেরে তার ব্যক্তিগত চেম্বারে নিয়ে যায়।’

আহত আল-মদিনা অটো সেন্টার শো-রুমের ম্যানেজার মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘নির্ধারিত সময়ে নোটিশের জবাব ও উপস্থিত না হওয়ায় ভাইস চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাকসহ বাদল, রুহুল আমিন, রাকিবুল, মেহেদী হাসানসহ (সুমনকারী) ৭ থেকে ৮ জন আমার শো-রুমে এসে আমাকে মারধর করে। এ সময় শো-রুমে থাকা গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ও নগদ ৮৬ হাজার টাকা নিয়ে গেছে।’

এদিকে বিষয়টি অস্বীকার করে তালতলী উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক মুঠোফোনে বলেন, ‘তালতলী উপজেলাবাসী আমাকে ২৮ হাজার ভোট দিয়ে নিবার্চিত করেছেন। তাই তালতলীর সকলের প্রতি আমার একটা দায়বদ্ধতা আছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘শো-রুমে পুরাতন ও অকেজো ব্যাটারী দিয়ে বোরাক অটো ইজিবাইক বিক্রি করেন। গাড়ী কেনার ১৫ থেকে ২০ দিনের মধ্যে ব্যাটারী অকেজো হয়ে যায় বলে একাধিক ইজিবাইক ক্রেতারা আমার কাছে লিখিত অভিযোগ দেয়। ওই অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিষয়টি জানতে আমি শো-রুমের মালিক পক্ষকে নোটিশ করে আমার অফিসে আসতে বলি। কিন্তু মালিক পক্ষ নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত না হয়ে তাদের অপকর্ম ঢাকতে উল্টো আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছেন।’

তালতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামরুজ্জামান বলেন, এ বিষয়ে থানায় কেউ অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত পূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

হায়াতুজ্জামান মিরাজ/চারিদিক/আকাশ