প্রাইভেট পড়ানোর টাকা জমিয়ে দৃষ্টিনন্দন বাড়ি নির্মাণ

দেশের খবর

বোয়ালমারী-আলফাডাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি : ‘ইচ্ছা থাকলে উপায় হয়’ এই বাক্যটি মাথায় নিয়ে পড়ালেখার পাশাপাশি প্রাইভেট পড়ানোর টাকা জমিয়ে একটি দৃষ্টিনন্দন একতলা বাড়ি নির্মাণ করে এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার অনল কুমার দাস (২৫) (ফেদু) নামের এক কলেজ শিক্ষার্থী।

তিনি উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের পবনবেগ মালোপাড়ার বাবু অমর কুমার দাসের কনিষ্ঠ পুত্র ও ফরিদপুর রাজেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের মাষ্টার্স সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী।

তার বাবা অমর কুমার দাস (৬৭) আলফাডাঙ্গার কামারগ্রাম কাঞ্চন একাডেমীর অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ও কামারগ্রাম বেগম শাহানারা একাডেমীর বর্তমান অধ্যক্ষ। মাতা শোভারানী দাস (ডলি) (৬২) একজন গৃহিনী ও হোমিও চিকিৎসক। ফেদুর বড় ভাই আশিস কুমার দাস (৩৫) ও মেঝ ভাই তাপস কুমার দাস (৩৩) রাজেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ থেকে অনার্স-মাষ্টার্স শেষ করে ঢাকায় গার্মেন্টসে কর্মরত রয়েছেন। ফেদুর বড় বোন লাবনী দাস (৩২) পড়ালেখা শেষ করে শ্বশুর বাড়ি এলাকায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন। দ্বিতীয় বোন বনানী দাস (৩০) এইচএসসির গন্ডি পার হতেই বিবাহ হওয়ায় স্বামীর সংসারে ছেলে-সন্তান নিয়ে ব্যস্ত রয়েছেন।

কলেজ ছাত্র অনল কুমার দাসের বাবা বাবু অমর কুমার দাস জানান, ‘আমার ৫ ছেলে-মেয়ের মধ্যে কনিষ্ঠ পুত্র অনল। সে যখন ৩য় শ্রেনীতে পড়ালেখা করে তখন থেকে শিশু শিক্ষার্থীদের প্রাইভেট পড়ানো (টিউশনি) শুরু করে। সেই থেকে প্রাইভেট পড়ানো অনলের পেশা থেকে নেশায় পরিণত হয়েছে। বর্তমানে চলমান করোনাকালে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ, ছেলে-মেয়েরা বই থেকে প্রায় বিচ্ছিন্ন, এ দুর্যোগে স্বাস্থ্যবিধি মেনে প্রথম শ্রেনী থেকে এইচএসসি পর্যন্ত ধাপে ধাপে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিচ্ছে অনল।’

তিনি আরো জানান, ‘যে সময় তার লেখাপড়ার খরচ আমার বহন করার কথা; সে সময় নিজেই পড়ালেখার খরচ চালানোর পাশাপাশি ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অর্থ জমিয়ে আমার বাড়িতে একতলা ভবন করেছে অনল। ভবন করতে খরচ হয়েছে প্রায় ১৫ লক্ষ টাকা। পড়ালেখার শুরুতে আমি তাকে একটি টাকাও দেইনি। উল্টা সে তার উপর্জনের টাকা আমাকে দিয়েছে।’

অনল কুমার দাসের (ফেদু) প্রশংসা করে উপকারভোগী এক ছাত্র ও তার  অবিভাবক উপজেলার পাড়াগ্রামের নুর মোহাম্মদ ওরফে (মুন্নু) মোল্যা (৭৫) বলেন, ‘ফেদু আমার দুইটি ছেলে-মেয়েকে প্রাইভেট পড়িয়ে কোন সময় কিছু টাকা
নিয়েছে বা না দিতে পারলে নেয়নি। তবে ফেদু ছেলেটি কখনও টাকা পয়সার জন্য চাপ দেয়নি। ফেদুর উজ্বল ভবিষ্যত জীবনের জন্য মঙ্গল কামনা করছি।’

নুর ইসলাম/চারিদিক/সাকিব