নতুন কাপড়ে নিরানন্দ ঈদ

দেশের খবর

চারিদিক ডেস্ক : বাইরে মহামারি করোনা কিন্তু ভিতরে অনাবিল ঈদের আনন্দ। মুসলমানদের সবচেয়ে বড় খুশির দিন আজ। যত বাধা থাকুক, এই আনন্দকে আটকানোর সাধ্য কারো নেই।

কবি নজরুলের ভাষায় ঈদের আনন্দ আজ সকলের মাঝে পড়ুক ছড়িয়ে। হিংসা-বিদ্বেষ, ধনী-গরিব ভেদাভেদ ভুলে জাত, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে মিলিত হই ঈদের এই সীমাহীন আনন্দ-উৎসবে।

ঈদ মানেই পরম তৃপ্তির আনন্দ। ঈদ মানেই নতুন জামাকাপড়, নতুন জুতো, আতর, সুরমা আর টুপির বাহারি ডিসপ্লে। ঈদ মানে দুই হাতে শখের মেহেদি লাগানো, সকাল বেলা মায়ের হাতের সেমাই খাওয়া, আত্মীয়-স্বজন আর বন্ধুদের মিলনমেলা, হৈ-হুল্লোড়, ঘুরে বেড়ানো, খাওয়া-দাওয়া আর আড্ডা।

নামাজ শেষে পরস্পরের সাথে কোলাকুলি করা, হাসি মুখে শুভেচ্ছা বিনিময় করা। কিন্তু বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাসের কারণে এবারের ঈদ আনন্দের সব কিছুতেই যেন ভাটা পড়েছে। তাই বলে থেমে গেছে ঈদের আনন্দ?

এরই ফাঁকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঈদের শুভেচ্ছা জানানোর কমতি নেই মানুষের। করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে ঘরবন্দি এই সময়ে এসব প্ল্যাটফর্মইতো হয়ে উঠেছে উৎসবে আনন্দ ভাগাভাগির জায়গা।

ঈদের দিন সকালে ঘুম থেকে উঠে মুসলিম ধর্মাবলম্বীরা গোসল শেষে পাক পবিত্র হয়ে সাধ্যমত নতুন ও পরিষ্কার জামা কাপড় পরিধান করে খুশবু আতর লাগিয়ে পবিত্রতার সঙ্গে পারলে একটু মিষ্টিমুখ করে সুন্দর, পরিবেশে ঈদের জামায়াতে শরিক হন। ঈদের জামাত খোলা জায়গায় না হয়ে মসজিদে মসজিদে হলেও মোনাজাতে আল্লাহর দরবারে পাপ মুক্তি চেয়ে এবং নিজের ও দেশের এই সংকট থেকে মুক্তির জন্য করা হয় প্রার্থনা।

ঈদের নামাজের পর পরই শুরু হয় ঈদের আসল আনুষ্ঠানিকতা। পরিচিত অপরিচিত সবার সঙ্গেই ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়ের পালা। ধনী হোক গরিব, কালো হোক আর সুন্দর মনের সবাই বুক মিলিয়ে আপন করে নেন একে অপরকে। পবিত্র ঈদ উল ফিতর যেন বৈষম্যহীন এক মিলনমেলা। ঈদে শুভেচ্ছা বিনিময়ের মাধ্যমে পরস্পর মিলনমেলার এক আবহ তৈরি হয়। এ সময় ধনী-গরিব কোন ব্যবধান থাকে না।

ঈদের আনন্দ সর্বজনীন এই আনন্দ সৃষ্টার কাছে বান্দার প্রাপ্তির আনন্দ। এই আনন্দ আল্লাহর তাকওয়া অর্জনের সাফল্যের আনন্দ। আর এই আনন্দ এবার রূপ নেয় পারিবারিক উৎসবে। ঈদুল ফিতর পরিণত হয়েছে সার্বজনীন পারিবারিক উৎসবে। পরিবারের সকল সদস্য এই আনন্দ ভাগাভাগি করে নেয় পরস্পরের মধ্যে।

টানা এক মাস রোজা রাখার ফলে একজন রোযাদার ব্যক্তির কাছে ঈদের অনাবিল আনন্দ বয়ে আনে এক অপার্থিব অনুভূতি। এ আনন্দ পরকালীন জীবনের জন্য শান্তি ও মুক্তি লাভের এক অনন্য মাধ্যম হয়ে ওঠে । তাই রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের রমজান শেষে শাওয়ালের নতুন চাঁদ দেখামাত্রই খুশির জোয়ার বয়ে যায় প্রতিটি রোজাদারের দেহ মনে। এই আনন্দ ছড়িয়ে পড়ে ধনী-গরিব, ছোট-বড় সবার মধ্যে। প্রতিটি প্রাণে দোলা দেয় ঈদের আনন্দ।

বাদ যায় না কেউ এই অনাবিল আনন্দ থেকে। উন্নতমানের খাবার সরবরাহ করা হয় বিভিন্ন হাসপাতাল, কারাগার, সরকারি শিশু সদন, ভবঘুরে কেন্দ্র ও এতিমখানায়।

জীবন চলে জীবনের নিয়মে, এ কারণে ঈদের অনেক অনুষঙ্গ উদযাপিত হয়। মানুষ একে অপরকে শুভেচ্ছা জানান ভিন্ন ভিন্ন উপায়ে। বাণী আসে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে। কিন্তু গেল বারের মতো এবারও বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এবং গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঈদের দিনের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন নি।

সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, দূরপাল্লার বাস, লঞ্চ ও ট্রেন বন্ধ রয়েছে। তারপরও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নাড়ির টানে ঘরে ফেরার চেষ্টা করেছেন অনেক মানুষ। যারা সরকারের নির্দেশ মান্য করে বাড়ি যাওয়ার সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছেন তারা নতুন পোশাক কিনতে বিপণিবিতান থেকে শুরু করে ফুটপাত পর্যন্ত স্বাস্থ্যবিধির তোয়াক্কা না করে জমিয়েছেন ভিড়।

ঈদের সময় যারা শহরে অবস্থান করে তাদের আনন্দের জন্য প্রতি বছরই নতুন করে সাজে চিড়িয়াখানা, শিশুপার্কের মতো বিনোদন কেন্দ্রগুলো। যেখানে ঈদের দিন থেকে টানা এক সপ্তাহ ভিড় জমান লাখো মানুষ। কিন্তু করোনা মহামারির কারণে এবারও তারা বঞ্চিত হচ্ছেন ছেলে মেয়ে পরিবার পরিজন নিয়ে এসব বিনোদন কেন্দ্রে গিয়ে আনন্দ করতে।

ফলে রাজধানীবাসী ঘরে বসেই উদযাপন করছে ঈদ। আর চোখ রাখছে টেলিভিশনের পর্দায়। প্রায় সব চ্যানেলেই রয়েছে ঈদ অনুষ্ঠানমালা। এছাড়াও ইউটিউব ও বিভিন্ন ওটিটি অ্যাপে রয়েছে ঈদের নতুন নাটক, টেলিফিল্ম ও ওয়েব ফিল্ম৷ তবে প্রেক্ষাগৃহ বন্ধ থাকায় ঈদ উপলক্ষে নতুন হোক আর পুরনো কোনো চলচ্চিত্রই দেখার সুযোগ হচ্ছে না কারই।

চারিদিক/সাকিব