তিনমাসেও সুস্থ হয়নি সাংবাদিক বিষ্ণু প্রসাদ চক্রবর্তী!

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল দেশের খবর

মহিদুল ইসলাম, শরণখোলা (বাগেরহাট) : তিন মাসেও সুস্থ হতে পারেননি কালের কণ্ঠের বাগেরহাট জেলা প্রতিনিধি বিষ্ণু প্রসাদ চক্রবর্তী। গত ৭ ফেব্রুয়ারি করোনাভাইরাস টিকার প্রথম ডোজ গ্রহণের পর থেকে নানা উপসর্গ দেখা দেয় তার শরীরে। চাপা যন্ত্রনা নিয়ে জীবনের সঙ্গে যুদ্ধ করে চলেছেন তিনি। প্রতিনিয়ত তার শরীরে নতুন নতুন উপসর্গ যুক্ত হচ্ছে।

এ অবস্থায় প্রথমে বাগেরহাট সদর হাসপাতাল এবং পরবর্তীতে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সিসিইউতে ভর্তি করা হয় তাকে। সেখানে বিশেষজ্ঞ মেডিক্যাল বোর্ড নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেও তার কোনো সুনির্দিষ্ট রোগ নির্ণয় করতে পারেনি।

সর্বশেষ, গত ১৬ মার্চ বাগেরহাট থেকে হেলিকপ্টারযোগে (এয়ার অ্যাম্বুলেন্স) তাকে ঢাকায় নিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) ভর্তি করা হয়। সেখানেও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্বাবধানে প্রায় ২০ দিন চিকিৎসা গ্রহণ করেন। কিন্তু তারাও কোনো রোগ সনাক্ত করতে পারেনি। এর পর গত ৬ এপ্রিল বিএসএমএমইউ থেকে রিলিজ নিয়ে বাগেরহাটের বাসায় ফিরে আসেন তিনি। বর্তমানে বাসাতেই তার যন্ত্রনাদায়ক দিন কাটছে।

এদিকে, শনিবার (৮ মে) বিকেলে বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক (ডিসি) আ ন ম ফয়জুল হক অসুস্থ সাংবাদিক বিষ্ণু প্রসাদ চক্রবর্তীকে দেখতে তার শহরের শালতলার বাসায় যান। ডিসি তার শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন এবং চিকিৎসা সহায়তা হিসেবে তাকে ৫০ হাজার টাকা অনুদান প্রদান করেন।

এ সময় সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ মুছাব্বেরুল ইসলাম তার সঙ্গে ছিলেন।

সাংবাদিক বিষ্ণু প্রসাদ চক্রবর্তী জানান, ‘বর্তমানে তার শরীরে আরো কয়েকটি নতুন উপসর্গ যুক্ত হয়েছে। ধীরে ধীরে নিস্তেজ হয়ে পড়ছেন। সর্বশেষ বিএসএমএমইউতে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরাও তার কোনো রোগ ধরতে পারেনি। এতে আরো হতাশ হয়েছেন তিনি। সেখানে থাকাকালীন পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য কয়েকটি স্যাম্পল দেওয়া হয়। সেগুলোর রিপোর্টও এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। ওই রিপোর্ট পেলে আবারও তাকে চিকিৎসার জন্য ঢাকায় যেতে হবে।’

মহিদুল ইসলাম/চারিদিক/সাকিব