‘চার দিনের চেষ্টায় সুন্দরবনের আগুন সম্পূর্ণ নিভেছে’

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল দেশের খবর

মহিদুল ইসলাম, শরণখোলা (বাগেরহাট) : চার দিন পর সুন্দরবনের আগুন সম্পূর্ণ নিভে যাওয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে ফায়ার ব্রিগেড ও বনবিভাগ। টানা ১০ ঘন্টা চেষ্টা চালিয়ে বৃহস্পতিবার (৬ মে) বিকাল পাঁচটায় অগ্নি নির্বাপণ অভিযানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন বাগেরহাটের শরণখোলা ফায়ার স্টেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আব্দুস সাত্তার।

এর আগে বুধবার বিকাল সাড়ে চারটায় অভিযান স্থগিতের পর বৃহস্পতিবার সকাল ৭টা থেকে পুনরায় আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে শরণখোলা ও মোরেলগঞ্জের অগ্নি নির্বাপণ কর্মীরা।

তবে, এরই মধ্যে ১০ একরেরও বেশি বনভূমির ছোট গাছপালা ও লতাগুল্ম পুড়ে ছাই হয়ে গেছে বলে অগ্নি নির্বাপণ কাজে সম্পৃক্ত একাধিক সূত্র দাবি করেছে।

বনবিভাগ জানিয়েছে, আগুন সম্পূর্ণ নিভে গেলেও এলাকাটি সার্বক্ষণিক তাদের নজরদারিতে থাকবে। অগ্নিকাণ্ড সংঘটিত এলাকার কাছাকাছি একটি কূপ খননের কাজ চলছে। ওই কূপে পানি সংরক্ষণ করে রাখা হবে। যদি নতুন করে আবার আগুন বা ধোয়ার অস্তিত্ব পাওয়া যায় সেখান থেকে পানি নিয়ে বনবিভাগের কর্মীরাই তা নির্বাপণের কাজ করবেন।

প্রত্যক্ষদর্শী মো. রুবেল হোসেন জানান, ‘দুপুর দুইটার দিকে তিনি অগ্নিকান্ড এলাকায় যান। তখন কিছু বড় গাছের গোড়া ও মোথা থেকে মাঝে মাঝে আগুন জ্বলতে এবং ধোয়া উড়তে দেখেন। ছাইয়ের স্তুপ থেকেও ধোয়া উঠছিলো। আগুনে সুন্দরীসহ বেশ কিছু অন্যান্য গাছ গোড়া থেকে পুড়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে থাকতে দেখেছেন। যেখানে আগুন বা ধোয়া দেখা গেছে সেখাইনেই ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা পাইপের মাধ্যমে পানি মেরে তা নিভিয়েছেন।’

শরণখোলা ফায়ার সার্ভিসের স্টেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আব্দু সাত্তার জানান, আজ (বৃহস্পতিবার) তেমন একটা আগুন দেখা যায়নি। কিছু কিছু স্থানে সামন্য ধোয়া দেখা যায়। সকাল থেকে তারা মোরেলগঞ্জ স্টেশনের কর্মী ও এলাকাবাসীর সহযোগীতায় আগুন সম্পূর্ণ নেভাতে সক্ষম হয়েছেন। এর পরও যদি ছাইয়ের স্তুপের নিচে অথবা গাছের মোথায় থাকা সুপ্ত আগুন জ্বলে ওঠে, প্রয়োজনে আমরা আবার আসবো। বিকাল পাঁটায় আমাদের কার্যক্রম সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে।

বনবিভাগের গঠিত তদন্ত কমিটির প্রধান ও শরণখোলা রেঞ্জের সহকারী বনসংরক্ষক (এসিএফ) মো. জয়নাল আবেদীন বলেন, ‘অভিযানের শেষ পর্যন্ত কোথাও নতুন করে আগুন জ্বলতে দেখা যায়নি। এলাকাটি আমাদের কঠোর নজরদারিতে থাকবে। পাশেই একটি কূপ খননের কাজ চলছে। সেখানে পানি রিজার্ভ রাখার ব্যবস্থা করা হবে। কোনো রকম আগুনের অস্তিত্ব পেলে ওই পানি দিয়েই তা নেভানো সম্ভব হবে। তখন ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের আর প্রয়োজন হবে না।’

এসিএফ জানান, ‘আগুনে বড় ধরণের কোনো ক্ষতি হয়নি। কি কারণে আগুন লেগেছে এবং কি পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা নিরুপণে তাদের তদন্ত কাজ চলমান রয়েছে।’

উল্লেখ্য, গত সোমবার (৩ মে) সকালে পূর্ব বনবিভাগের শরণখোলা রেঞ্জের ২৪ নম্বর কম্পার্টমেন্টের দাসের ভারাণী টহল ফাঁড়ি সংলগ্ন বনে এই আগুনের সূত্রপাত হয়।

মহিদুল ইসলাম/চারিদিক/সাকিব