সঞ্জয় হত্যা : রিমান্ড শেষে ৪ আসামিকে আদালতে প্রেরণ

অপরাধ ও আইন যশোর জেলার খবর

অভয়নগর (যশোর) প্রতিনিধি : যশোরের অভয়নগরে কাঠ ব্যবসায়ী দেবাশীষ সরকার ওরফে সঞ্জয় হত্যাকাণ্ড ও ডাকাতি মামলায় ‘সন্দিগ্ধ’ গ্রেপ্তারকৃত ৪ জন আসামিকে ৩ দিনের পৃথক রিমান্ড শেষে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

বুধবার (৫ মে) অভয়নগর থানা পুলিশ তাদেরকে যশোর আদালতে প্রেরণ করে। রিমান্ডে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে বলে দাবি করেছে পুলিশ।

আসামিরা হলেন- উপজেলার চলিশিয়া ইউনিয়নের চলিশিয়া গ্রামের মৃত আবু তালেব বিশ্বাসের ছেলে সেলিম বিশ্বাস (৫২), একই ইউনিয়নের কোটা গ্রামের ঋষিপাড়া এলাকার ইশারত আলী বিশ্বাস ওরফে ইশার ছেলে আক্কাস আলী (৩২), চলিশিয়া গ্রামের পালপাড়া এলাকার অশোক পালের ছেলে বিশ্বজিৎ পাল ওরফে বিশু (২০) ও বাগদাহ গ্রামের আনোয়ার মোল্যার ছেলে রাজু আহম্মেদ (২৭)।

উল্লেখিত ৪ জনের বিরুদ্ধে চুরি, ডাকাতি, ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকান্ডের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

জানা গেছে, গত ২৬ এপ্রিল রাত আনুমানিক ৩ টার সময় মুখোশধারী ৭/৮ জন ডাকাতদলের হামলায় নিজ বাড়িতে খুন হয় নওয়াপাড়া বাজারের বিশিষ্ট কাঠ ব্যবসায়ী ও সাবেক সিবিএ নেতা দেবাশীষ সরকার ওরফে সঞ্জয়। এ সময় ডাকাতদলের হামলায় আহত হয় সঞ্জয়ের মা মিনতী সরকার, স্ত্রী রিপা সরকার, একমাত্র মেয়ে দেবীকা সরকার। গুরুতর আহত অবস্থায় স্ত্রী রিপা সরকারকে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। হত্যাকাণ্ড ও মারপিট শেষে ডাকাতদল নগদ ৪ লাখ টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে যায়। যার আনুমানিক মূল্য ১৯ লাখ টাকা। এ ঘটনায় নিহতের শ্যালক বাদি হয়ে অভয়নগর থানায় হত্যাসহ ডাকাতি মামলা দায়ের করেন।

এ ব্যাপারে অভয়নগর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মিলন কুমার মন্ডল জানান, দেবাশীষ সরকার ওরফে সঞ্জয় হত্যাকান্ড ও ডাকাতি মামলায় সন্দিগ্ধ গ্রেপ্তারকৃত রাজু আহম্মেদ ও বিশ্বজিৎ পাল ওরফে বিশুকে গত ৩ মে আদালতে সোপর্দ করে ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়। বিজ্ঞ আদালত ২ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। গত ৪ মে সেলিম বিশ্বাস ও আক্কাস আলীকে আদালতে সোপর্দ করে ৭ দিনের রিমান্ড চাইলে বিজ্ঞ আদালত ১ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ড শেষে চার আসামিকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, চার আসামির ৩ দিনের পৃথক রিমান্ডে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। মামলার স্বার্থে আবারও রিমান্ডের আবেদন করা হতে পারে। মামলা তদন্তাধীন থাকায় প্রাপ্ত তথ্য জানানো সম্ভব হচ্ছে না।

মাসুদ তাজ/চারিদিক/সাকিব