বিপুলের নেতৃত্বে সাত দিনে কাটা হল ১৫ বিঘা জমির ধান

যশোর জেলার খবর

স্টাফ রিপোর্টার : করোনাকালে শ্রমিক সংকটের কারণে মাঠের সোনালী ফসল নিয়ে বিপাকে পড়া কৃষকদের ১৫ বিঘা জমির ধান কেটে দিয়েছেন যশোর সদর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন বিপুল।

এক সপ্তাহ ধরে যুবলীগের নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে কাস্তে হাতে মাঠে ছিলেন তিনি। এই সময়ে উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের ১১ জন কৃষকের ধান কাটার পাশাপাশি তা বাড়িতে আনতে সহযোগিতা করেন বিপুলের নেতৃত্বে যুবলীগের নেতাকর্মীরা।

জানা যায়, গত ২৭ এপ্রিল থেকে সদর উপজেলার বিপাকে পড়া কৃষকের ধান বাড়িতে আনতে মাঠে নামেন জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন বিপুল। প্রথম দিন তিনি উপজেলার ইছালী ইউনিয়নের কয়েতখালী মাঠে কার্তিক চন্দ্র বিশ্বাসের দেড় বিঘা জমির ধান কেটে দেন। অসচ্ছল এই কৃষক বর্তমানে শারীরিকভাবে অসুস্থ। এজন্য চলাচলও করতে পারছেন না। খবর পেয়ে প্রথমে তার মাঠের ধান বাড়িতে তোলার উদ্যোগ নেন আনোয়ার হোসেন বিপুল।

পরদিন বসুন্দিয়া ইউনিয়নের শাখারীগাতী গ্রারেম শহিদুল ইসলামের দুই বিঘা জমির ধান কাটেন যুবলীগের নেতাকর্মীরা। ২৯ এপ্রিল নরেন্দ্রপুর ইউনিয়নের ফারুক বিশ্বাস নামে এক কৃষকের আরো দেড় বিঘা জমির ধান কেটে দেন তারা। ১ মে কচুয়া ইউনিয়নের নিমতলী গ্রামের হাফিজুর রহমান নামে এক কৃষকের দুই বিঘা জমির ধান কাটেন।

এর আগের দিন ফতেপুর ইউনিয়নের আশিক ইসলাম নামে একজনের ধান কাটা হয় আরো দুই বিঘা জমির। ২ মে দেয়াড়া ইউনিয়ন তেঘরিয়া গ্রামের কৃষক সাগর হোসেনের এক বিঘা জমির ধান কাটা হয়। এছাড়া আরবপুরের জামাত আলীর দুই বিঘা জমির ধান কাটেন আনোয়ার হোসেন বিপুলের দলে থাকা যুবলীগের নেতাকর্মীরা।

সপ্তাহব্যাপী এই কর্মকাণ্ডে যুবলীগের শতাধিক নেতাকর্মী অংশ নেন। তাদের এই ধারাবাহিকভাবে পাশে দাঁড়ানোর কর্মসূচিতে খুশি সুবিধাভোগী কৃষকেরা।

তাদেরই একজন ইছালী ইউনিয়নের হাশিমপুরের কার্তিক চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, ‘বেশ কিছুদিন ধরে শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ে আছি। বিছানা থেকে উঠতে পারছি না। ধান কাটার শ্রমিকের অভাব। আর পাওয়া গেলেও পয়সা দিয়ে ধান কাটার সামর্থ্য ছিল না। শহর থেকে এসে যুবলীগের নেতাকর্মীরা আমার ধান কেটে বাড়িতে এনে দিয়েছে। আমি তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ।’

কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন নরেন্দ্রপুর ইউনিয়নের কৃষক ফারুক বিশ্বাস বলেন, ‘ধান কাটা নিয়ে সংকটে ছিলাম। সদর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক রাজু আহমেদকে বিষয়টি আমি বলেছিলাম। পরে যুবলীগের নেতাকর্মীরা এসে আমার ধান কেটে দিয়েছেন। আমি ভেবেছিলাম ওরা শহরের মানুষ, এসে সেলফি-টেলপি তুলে চলে যাবে। কিন্তু সত্যি সত্যি ওরা আমার ধান কেটে দিয়েছে। তারা খুবই কর্মঠ।’

সুবিধাভোগী আরেকজন কচুয়া ইউনিয়নের নিমতলী গ্রামের কৃষক হাফিজুর রহমান বলেন, ‘মাঠে ধান পাকা ছিল। করোনার কারণে শ্রমিক পারছিলাম না। দুই একজন পাওয়া গেলেও অনেক খরচ। যুবলীগের নেতাকর্মীরা আমার ধান কেটে দেওয়ায় আমার বড় উপকার হলো।’

নিয়মিত ধান কাটা কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া জাবের হোসেন জাহিদ বলেন, ‘আমাদের নেতা আনোয়ার হোসেন বিপুল কৃষকের পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্তের বিষয়টি আমাদের জানান। আমরা সবাই তার সাথে ধান কাটতে যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিই। তবে তিনি আমাদের প্রথমেই জানিয়ে দিয়েছিলেন ধান কাটতে গিয়ে অবশ্যই ধান কাটতে হবে। শুধু সেলফি তোলার জন্য গেলে হবে না। আমরা প্রখর রোদের মধ্যে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধান কেটেছি। সেই ধান আবার কৃষকের বাড়িতে পৌঁছে দিয়েছে। বেশি সংকটে পড়া কয়েকজন কৃষকের ধান মাড়াই করেও দিয়েছি।’

ধান কাটা কর্মসূচির দলনেতা সদর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ও জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন বিপুল বলেন, ‘আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একজন কৃষক দরদী মানুষ। করোনাকালে কৃষক সংকটে পড়লে তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের তাদের পাশে দাঁড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন। যুবলীগের চেয়ারম্যান ও সাধারণ সম্পাদকও আমাদের কৃষকের পাশে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের সেই নির্দেশনা অনুযায়ী আমি দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে কৃষকদের সহযোগিতা করার চেষ্টা করেছি। সত্যি সত্যি যাতে তাদের উপকার হয় সেই কাজ আমরা করেছি। যুবলীগের একজন কর্মী হিসেবে, যশোর সদর উপজেলার একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে আমি এসব খেটে-খাওয়া মানুষদের পাশে সর্বদা থাকতে চাই।’

রুহুল আমিন/চারিদিক/সাকিব