শ্বাশুড়ির জানাযায় আসতে গিয়ে আরজু ও তার শিশুপুত্র ইয়ামিনের সলিল সমাধি

দেশের খবর

বোয়ালমারী -আলফাডাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি : মাদারীপুরের শিবচরে সোমবার (৩ মে) ভোরে স্পিডবোট ডুবিতে ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার শেখর ইউনিয়নের পচা মাগুরা গ্রামের আরজু সরদার (৫২) ও তার ছেলে ইয়ামিন (২) নিজ বাড়িতে লাশ হয়ে ফিরলেন।

রাত ১০টায় তাদের জানাজা হওয়ার কথা রয়েছে।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার টগরবন্দ ইউনিয়নের চরডাঙ্গা গ্রামের উদ্দ্যেশ্য শ্বাশুড়ির মৃত্যু খবর পেয়ে তার জানাযায় অংশ নিতে ঢাকা থেকে স্ত্রী আদরী বেগম (৪০), দুই বছরের ছেলে ইয়ামিনকে সাথে নিয়ে রওয়ানা দিয়েছিল তিনি। কিন্তু পৌঁছানোর আগেই চলে গেলেন পরপারে। ভাগ্যক্রমে বেঁচে যান তার স্ত্রী আদরী বেগম। তিনি তার স্বামী সন্তানের লাশ নিয়ে বিকেলে আলফাডাঙ্গার চরডাঙ্গা পিতার বাড়িতে ফেরেন।  এদিন বিকেলে আরজুর শ্বাশুড়ির নামাজে জানাযা অনুষ্ঠিত হয়।

পরে  পিতা-ছেলের লাশ নেওয়া হয় বোয়ালমারী উপজেলার পচামাগুরায় আরজুর নিজ বাড়িতে। বাবা ছেলের মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। স্বজনদের আহাজারিতে ভারি হয়ে উঠেছে এলাকার পরিবেশ।

শেখর ইউনিয়নের সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্য মাগুরা গ্রামের হানিফ শেখ বলেন, ‘আরজু ঢাকায় ছোটখাটো ব্যবসা  করতো। স্ত্রী-সন্তান নিয়ে সেখানেই থাকতো। শ্বাশুড়ির মৃত্যু সংবাদ পেয়ে শ্বশুর বাড়ি আসছিলেন। আরজু সরদার ও আদরী বেগমের একমাত্র সন্তান ছিল ইয়ামিন।’

এদিকে সোমবার রাত ৯টায় শেখর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ইস্রাফিল মোল্যা জানান, এদিকে সোমবার (৩ মে) বিকেলে বোয়ালমারীর শেখর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ইস্রাফিল মোল্যা জানান, এটি একটি হৃদয় বিদারক ঘটনা। আরজু সরদার আমার ইউনিয়নের বাসিন্দা। তিনি দুই বিয়ে করলেও প্রথম স্ত্রীর ঘরে একটি মেয়ে ছিলো, সেও আগেই মারা গেছে। দ্বিতীয় স্ত্রী আদুরী বেগমের ঘরে মো. ইয়ামিন সরদার নামে একটি মাত্র ছেলে সন্তান ছিলো। আল্লাহ তাকেও নিয়ে গেলেন। এখন দ্বিতীয় স্ত্রী আদুরী ছাড়া আর সংসারে কেউ রইলো না। আরজু সরদার ও ছেলে ইয়ামিনের লাশ বাড়িতে আনা হয়েছে। রাত ১০টায় জানাযা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে।

নুর ইসলাম/চারিদিক/সাকিব