পদ্মায় দুই নৌযানের সংঘর্ষে হতাহতের তিনজনের বাড়ি বোয়ালমারী

দেশের খবর

বোয়ালমারী-আলফাডাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি : মাদারীপুরের শিবচরে বালুবোঝাই বাল্কহেড ও স্পিডবোটের সংঘর্ষের ঘটনায় ২৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় ৫ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।

সোমবার (৩ মে) সকালে উপজেলার বাংলাবাজার পুরাতন কাঁঠালবাড়ি ঘাটে পদ্মা নদীতে এ ঘটনা ঘটে।

হতাহতদের মধ্যে ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার একই পরিবারের তিন সদস্য রয়েছে। তারা হলেন, উপজেলার শেখর ইউনিয়নের পঁচা মাগুরা গ্রামের পান্নু সরদারের ছেলে আরজু সরদার (৫০), আরজুর ছেলে মো. ইয়ামিন সরদার (০২) নিহত হয়েছে। তবে আরজু সরদারের স্ত্রী আদুরী বেগম (৪০) জীবিত রয়েছেন।

তারা ঢাকা থেকে বোয়ালমারী উপজেলার পাশ্ববর্তী আলফাডাঙ্গা উপজেলার টগরবন্দ ইউনিয়নের চরডাঙ্গায় আদুরী বেগমের বাবার বাড়ি যাচ্ছিলেন।

আলফাডাঙ্গা উপজেলার চরডাঙ্গা গ্রামের সংর্শ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. আরিফুল ইসলাম জানান, আরজু সরদারের শ্বাশুড়ি মনোয়ারা বেগম মারা যাওয়ার খবর শুনে রোববার দিবাগত রাতে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে উপজেলার টগরবন্দ ইউনিয়নের চরডাঙ্গা গ্রামের শ্বশুরবাড়ির উদ্দ্যেশে রওনা দেয়। স্পিডবোটে পদ্মা নদী পার হওয়ার সময় শিবচর এলাকায় তারা দূর্ঘটনার শিকার হয়। এতে আরজু সরদার ও তার সন্তান ইয়ামিন মারা যায় এবং স্ত্রী আদুরী বেগম জীবিত অবস্থায় তার বাবার বাড়ি পৌছেঁছেন।

তিনি (ইউপি সদস্য) আরও জানান, আরজু সরদার ও তার ছেলে ইয়ামিনের মরদেহ বোয়ালমারীর শেখর ইউনিয়নের পঁচা মাগুরায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

এদিকে সোমবার (৩ মে) বিকেলে বোয়ালমারীর শেখর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ইস্রাফিল মোল্যা জানান, এটি একটি হৃদয় বিদারক ঘটনা। আরজু সরদার আমার ইউনিয়নের বাসিন্দা। তিনি দুই বিয়ে করলেও প্রথম স্ত্রীর ঘরে একটি মেয়ে ছিলো, সেও আগেই মারা গেছে। দ্বিতীয় স্ত্রী আদুরী বেগমের ঘরে মো. ইয়ামিন সরদার নামে একটি মাত্র ছেলে সন্তান ছিলো। আল্লাহ তাকেও নিয়ে গেলেন। এখন দ্বিতীয় স্ত্রী আদুরী ছাড়া আর সংসারে কেউ রইলো না। আরজু সরদার ও ছেলে ইয়ামিনের মরদেহ বাড়িতে আনা হচ্ছে। মরদেহ আসার পর বোয়ালমারী থানা পুলিশের সাথে পরামর্শ করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নুর ইসলাম/চারিদিক/সাকিব