যৌতুকের টাকা না পেয়ে গৃহবধূর হাত পা ভেঙ্গে দিল স্বামী-শ্বাশুড়ী

অপরাধ ও আইন যশোর জেলার খবর

স্টাফ রিপোর্টার : ২০১০ সালে একলাখ টাকার কাবিনে মুসলিম শরিয়াহ অনুযায়ি যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার জহুরপুর ইউনিয়নের ছোটখুদড়া গ্রামের নূর আলীর ছেলে ইকরামুলের সাথে বিয়ে হয় রেহানা খাতুনের। বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন সময় স্বামীর বাড়ির লোকজন যৌতুক দাবি করে আসতে থাকে। ভ্যানচালক বাবা মেয়ের সুখের আশায় কয়েক কিস্তিতে দেড় লাখ টাকা পরিশোধও করেন। কিন্তু আরো এক লাখ টাকা দাবি না মেটাতে পারায় প্রায়ই শারীরিক নির্যাতন করা হতো রেহানাকে। ভয়ে মুখ খুলতে পারতেন না রেহানা ও তার বাবার বাড়ির লোকজন। এভাবেই চলছিল।

সম্প্রতি ওই এক লাখ টাকার জন্য স্বামী ও শ্বাশুড়ী চাপ দিতে থাকে রেহানাকে। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে গত বৃহস্পতিবার (২৯ এপ্রিল) রেহানার দুই হাত ও দুই পা ভেঙ্গে দেয় স্বামী ও শ্বাশুড়ী। রেহানা খাতুনকে গুরুতর আহত অবস্থায় বাঘারপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

রেহেনার বাবা আনোয়ার হোসেন জানান, তার স্ত্রী রাস্তার শ্রমিকের কাজ করে। সে ভ্যান চালান। সামান্য আয়ে চলে তাদের সংসার। তারপরও মেয়ের সুখের কথা চিন্তা করে পর্যায়ক্রমে দেড় লক্ষ টাকা দেওয়া হয়। আরো একলাখ টাকার জন্য চাপ দেয়। এ টাকা না পেয়ে মেয়েকে মারপিট করে চার হাত পা ভেঙ্গে দিয়েছে। শুক্রবার সকালে তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় বাঘারপাড়া স্বাস্থ্যকমপ্লেক্স ভর্তি করা হয়।

গৃহবধু রেহেনা খাতুন বলেন, ‘আমার স্বামী নেশা করে। বিভিন্ন সময়ে বাবার কাছ থেকে টাকা আনতে বলে। না আনতে পারলেই মারপিট শুরু করে। গত বৃহস্পতিবার একলাখ টাকা আনতে বাবার বাড়ি যেতে বলে। আমি পারবো না বলার সাথে সাথে লাঠি দিয়ে মারপিট শুরু করে । এ সময় জ্ঞান হারিয়ে যায় আমার। পরে স্থানীদের সহযোগিতায় হাসপাতালে ভর্তি হই।’

অভিযুক্ত ইকরামুলের ফোনে যোগাযোগ করলে ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। তবে শ্বাশুড়ী জুলেখা বেগম মারপিটের কথা স্বীকার করেন। গাঁজা সেবনের অপরাধে তার ছেলে জেল খেটেছে বলে উল্লেখ করেন জুলেখা।

বাঘারপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ফারজানা সিনথিয়া জানান, ‘রেহেনার দু’হাত ও ডান পা ভেঙ্গে গেছে। বাম পা আঘাতে ফুলে উঠেছে। তাই ব্যান্ডেজ করা হয়েছে। এছাড়া শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের কারণে রক্ত জমাট বেঁধেছে।’

থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফিরোজ উদ্দিন জানান, ‘গৃহবধুকে হাত পা ভেঙ্গে দেওয়ার ঘটনায় মামলা রেকর্ড হয়েছে। তদন্ত অফিসার ইতোমধ্যে আসামি গ্রেফতারে কাজ শুরু করেছে।’

সিডি/চারিদিক/সাকিব