স্বামীর বাড়ি আশ্রয় না পেয়ে অন্তঃস্বত্তা গৃহবধূর আত্মহত্যার চেষ্টা

অপরাধ ও আইন

গফরগাঁও (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি : ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে সানী আক্তার (২১) নামে অন্তঃস্বত্তা এক গৃহবধূ স্বামীর বাড়িতে আশ্রয় না পেয়ে ঘুমের ট্যাবলেট খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা চালিয়েছেন। স্থানীয় লোকজন উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে অবস্থার অবনতি হওয়ায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

শনিবার (১০ এপ্রিল) বিকেলে পৌর শহরের ৭ নম্বর ওয়ার্ড শিলাসী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, উপজেলার পাগলা থানাধীন দিয়ারগাঁও গ্রামের ওমান প্রবাসী রুহুল আমীনের মেয়ে সানী আক্তারের সাথে সরকারি কর্মচারী হারুন অর রশিদের ছেলে শামছুল হুদা’র (৩০) প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। গত জানুয়ারী মাসে তারা গোপনে কাবিন রেজিষ্ট্রি মূলে বিয়ে করে ভালুকা মাস্টার বাড়ি এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস করছিল। এ সময় সানী অন্তঃস্বত্তা হয়ে পড়ে। কিন্তু বিয়ের পর সানী জানতে পারে শামছুল হুদা পূর্বে বিয়ে করেছে এবং তার সংসার রয়েছে। এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে অশান্তির জের ধরে সানীকে শামছুল হুদা মারধর করতো। দুই দিন পূর্বে শামছুল হুদা সানীকে মারধর করে বাসা থেকে বের করে দেয়। শুক্রবার (৯ এপ্রিল) রাতে সানী আক্তার গফরগাঁও পৌরসভার সাত নম্বর ওয়ার্ড শিলাসী এলাকায় শামছুল হুদার বাসায় এসে উঠেন। কিন্তু শামছুল হুদার পরিবারের লোকজন গভীর রাতে মারধর করে বের করে দেয়।

শনিবার বিকেলে সানী আবারো শামছুল হুদার বাসায় উঠার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে ঘুমের ট্যাবলেট খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা চালায়। পরে অচেতন অবস্থায় স্থানীয় লোকজন উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন।

সানীর মা রুমা আক্তার বলেন, ‘আমার মেয়েকে শামছুল হুদা ফুসলিয়ে বিয়ে করে মারধর করে বাসা থেকে বের করে দিয়েছে। আমরা সঠিক বিচার চাই।’

এ ব্যাপারে শামছুল হুদার বাবা হারুন অর রশিদ বলেন, ‘আমার ছেলে আগে বিয়ে করেছে তার সংসার আছে। এ বিয়ে ব্যাপারে আমরা কিছু জানিনা।’

গফরগাঁও থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) অনুকুল সরকার বলেন, আমরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। মেয়েটি সুস্থ্য হলে কথা বলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেব।

নজরুল ইসলাম/চারিদিক/সাকিব