কচি হাতে সংসারের হাল ধরেছে শহিদ

দেশের খবর

বোয়ালমারী-আলফাডাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি : শহিদ বিশ্বাসের বয়স এখন নয় বছর। পরিবারের পাঁচ সদস্যের ছোট ছেলে। বড় ভাই হৃদয় বিশ্বাস (১২) গুনবহা ইউনিয়নের অমৃতনগর জান্নাতুল উলুম হাফেজিয়া মাদরাসায় লেখাপড়া করেন। আর বোনের বয়স ৭ মাস। এই বয়সে শহিদের পড়ালেখা আর হেসে-খেলে ও আনন্দ-উল্লাসে সময় কাটানোর কথা। কিন্ত সে তাদের সংসারের অভাব দূর করতে ব্যাটারিচালিত ভ্যান চালিয়ে বাবাকে সহযোগিতা করে। শহিদ বিশ্বাসকে বাবার সঙ্গে সংসারের ভার বহন করতে হচ্ছে।

ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার বোয়ালমারী পৌরসভার পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের রায়পুর (চরপাড়া) গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে শহিদ বিশ্বাস।

কখনো তাকে দেখা যায় পৌর বাজারের চাটাইপট্টি, ওয়াবদামোড় ও গুনবহার তালতলায়। আবার কখনো চৌরাস্তার বাসস্ট্যান্ডে ভ্যান নিয়ে অপেক্ষা করতে দেখা যায়। শনিবার (১০ এপ্রিল) দুপুরের দিকে পৌরসভার চৌরাস্তার লোকাল বাসস্ট্যান্ডে যাত্রী নামাতে দেখা যায়।

এ সময় শহিদ বিশ্বাসের সাথে কথা বলে জানা যায়, সে বোয়ালমারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণীর ছাত্র। করোনার কারণে স্কুল বন্ধ থাকায় সে প্রতিদিন এক বেলা ভ্যান চালায়। বাবা যেদিন সকালে ভ্যান চালায় সে সেদিন বিকেলে ভ্যান চালায়। তার বাবা আবার রান্নার (বাবুর্চি) কাজ করেন। বাবা যেদিন রান্নার কাজে যান, সেদিন দিনভর তার ভ্যান চালাতে হয়। তাই সংসার চালাতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিনিয়ত রাস্তায় ব্যাটারিচালিত ভ্যান চালাতে হয় তার। করোনাভাইরাসের কারণে তেমন ভাড়া হয় না। যা আয় হয় কোনমতে তাদের সংসার চলে।

বাবা আবুল হোসেন মুঠোফোনে চারিদিককে বলেন, আমার নিজের কোন জায়গা-জমি নেই। সরকারি ওয়াবদার জায়গায় কোন মতন ছাপড়া ঘর তুলে স্ত্রী ও তিন ছেলে-মেয়ে নিয়ে জীবন কাটাচ্ছি। আগে রান্নার কাজ করে মোটামুটিভাবে সংসার চালাতাম। কিন্তু করোনাকালীন সময়ে বড় কোন অনুষ্ঠান না হওয়ায় রান্নার কাজও নেই। বড় ছেলে হৃদয়কে (১৩) হাফেজিয়া মাদরাসায় পড়ালেখা করাচ্ছি। সংসারে সে কোন সহযোগিতা করতে পারে না। এজন্য ছোট ছেলে ভ্যান চালিয়ে আমার সংসারে কিছুটা সহযোগিতা করে। শুনেছি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নাকি অসহায়দের জমি ও ঘর দিচ্ছেন। কেউ যদি এগুলো দিয়ে সহযোগিতা করতেন তাহলে একটু মাথা গুজার ঠাঁই পেতাম।

বোয়ালমারী পৌরসভার নবনির্বাচিত পৌর মেয়র সেলিম রেজা লিপন মিয়া বলেন, ‘মাত্র দুইমাস দায়িত্ব নিয়েছি। শুনেছি শহিদ বিশ্বাসের পরিবারের কথা। তাকে পড়ালেখা করাতে যা যা প্রয়োজন সহযোগিতা করা হবে। তার পরিবারে যদি কোন ঘর বা জায়গা না থাকে তাহলে আবুল হোসেনের পরিবারকে উপজেলা প্রশাসনের সাথে কথা বলে ঘরের ব্যবস্থা করার চেষ্টা করবো। আমি অসহায়দের পাশে থাকবো সব সময় ইনশাআল্লাহ্।’

নুর ইসলাম/চারিদিক/সাকিব