বিয়ের বছর না ঘুরতেই নববধূর আত্মহত্যা!

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল দেশের খবর

মহিদুল ইসলাম, শরণখোলা (বাগেরহাট) : মাহফুজা আক্তার (১৮) নামে এক নববধূর বিয়ের বছর না ঘুরতেই তাকে আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে হয়েছে। স্বামী ওমর সানী মল্লিকের যৌতুকের চাপ, মারধর আর শ্বশুর-শাশুড়ির নির্যাতন সইতে না পেরে শেষ পর্যন্ত গলায় দড়ি দেন ওই নববধূ। নিহতের মা মাজেদা বেগম সাংবাদিকদের কাছে এমন অভিযোগ করেছেন।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (১ এপ্রিল) সকাল ৯টার দিকে বাগেরহাটের শরণখোলার সাউথখালী ইউনিয়নের বকুলতলা গ্রামে বাবা সালেহ আহম্মদ আকনের বাড়ির ঘরের আড়ার সঙ্গে গলায় দড়ি দেন মাহফুজা। দেখতে পেয়ে পরিবারের লোকেরা সেখান থেকে দ্রুত উদ্ধার করে শরণখোলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্য চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। পরে পুলিশ হাসপাতাল থেকে ওই নববধূর মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বাগেরহাট সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।

নিহতের মা মাজেদা বেগম জানান, আট মাস আগে পার্শ্ববর্তী সোনাতলা গ্রামের জাকির মল্লিকের ছেলে ওমর সানী মল্লিকের সাথে বিয়ে দেন মেয়েকে। এর পরই ওমরসানী যৌতুক দাবি করতে থাকে। তার চাহিদা মেটাতে না পারায় মেয়ের ওপর শুরু হয় মারধর। শ্বশুর-শাশুড়িও নির্যাতন করে। এতে বেশ কিছুদিন ধরে তার মেয়ে শারীরিকভাবে অসুস্থ। এ অবস্থায় গত তিন দিন আগে ২৯ মার্চ মারধর করে মেয়েকে তাদের বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়। শারীরিক ও মানসিক জ্বালা-যন্ত্রনা সহ্য করতে না পেরেই তাদের মেয়ে আত্মহত্যা করেছে। স্ত্রীর মরার খবর পেয়েও স্বামী ও শ্বশুর বাড়ির কেউ মাহফুজাকে দেখতে আসেনি। এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন তিনি ।

স্থানীয় বকুলতলা ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. দেলোয়ার হোসেন খলিল জানান, বিয়ের পর থেকেই স্বামী টাকা-পয়সার জন্য চাপ দিতে থাকে স্ত্রীকে। এ নিয়ে স্বামী তাকে বিভিন্ন সময় মারধর করারও অভিযোগ করেন মেয়ের মা-বাবা।

শরণখোলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইদুর রহমান জানান, মেয়েটি শারীরিকভাবে অসুস্থ ছিল বলে জানা গেছে। আত্মহত্যার রহস্য উদ্ধারে চেষ্টা চলছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলে নির্যাতনের বিষয়টিও জানা যাবে। এ ব্যাপারে একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে।

জানতে চাইলে শ্বশুর জাকির মল্লিক নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করে মুঠোফোনে জানান, ছেলে কখনোই তার স্ত্রীকে মারধর করেনি। তাছাড়া যৌতুক দাবির অভিযোগও মিথ্যা। তবে, কি কারণে আত্মহত্যা করেছে তা তিনি জানেন না।

চারিদিক/সাকিব