‘নির্বাচনে কোথাও হিট করা লাগলে আমি পারভেজ করবো’

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল দেশের খবর

মহিদুল ইসলাম, শরণখোলা (বাগেরহাট) :

‘সবচাইতে বড় বিষয় হচ্ছে ভোটের শেষ সীমানা পর্যন্ত যেতে হবে। কোথাও হিট করা লাগলে আমি পারভেজ আমি করবো। আমার বাহিনী থাকবে, ঘুইরা ঘুইরা যার ওয়ার্ডে যে কাজ করা লাগবে আমার লোকেরা করে দিয়াসবে। আপনারা যে কোনো কাজ করবেন সেটা যেনো আমার নলেজে থাকে।’

আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান হাসানুজ্জামান পারভেজের এমন কঠোর নির্দেশনামূলক একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভিডিওটি ব্যাপক ভাইরাল হয়েছে।

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে উপজেলার সাউথখালী ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডে একের পর এক সংঘটিত সহিংস ঘটনা ভাইস চেয়ারম্যানের উস্কানি ওই নির্দেশনায় ঘটেছে বলে সচেতন মহলে ব্যাপক আলোচিত। তাছাড়া, প্রতিদ্বন্দ্বী মেম্বর প্রার্থী ও তাদের কর্মী-সমর্থকরা ওই ভিডিওর সূত্র ধরে সহিংসতার জন্য ভাইস চেয়ারম্যানকেই দায়ী করছেন। সাউথখালী ইউনিয়নের সকল ওয়ার্ডে তার মনোনিত ও পছন্দের মেম্বর প্রার্থীদের জয়ী করতে এমন হুমকিমূলক বক্তব্য দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন প্রতিদ্বন্দ্বীরা। ভাইস চেয়ারম্যান এবং তার লোকদের বিরুদ্ধে ওই ইউনিয়নের একাধিক মেম্বর প্রার্থী তাদের কর্মীদের ভয়ভীতি ও হুমকি-ধমকির বিষয়ে প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন।

তবে ভাইরাল হওয়া ভিডিওটির ব্যাপারে জানতে চাইলে শরণখোলা উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ও সাউথখালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. হাসানুজ্জামান পারভেজ বলেন, ‘ইউপি নির্বাচনে সাউথখালীতে যাতে কোনো প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে এবং আমার কর্মীরা যাতে কারো ওপর হামলা না করে সেজন্য সমস্ত দায়িত্ব আমার মাথায় নিয়ে তাদেরকে শান্তনা দিতে এই কথা বলেছি। কোনো কুচক্রি সেই কথা গোপনে ভিডিও করে নির্বাচনী পরিবেশ ঘোলাটে করতে এটি ভিন্নভাবে প্রচার করছে।’

পারভেজ আরো বলেন, ‘বক্তব্যে আমি আমার বাহিনীর কথা বলিনি। আমি বলেছি নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী থাকবে, সেই কথা এডিট করে ‘আইনশৃঙ্খলা’ কথা বাদ দিয়ে শুধু আমার বাহিনী রাখা হয়েছে। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক।’

তিনি বলেন, ‘এলাকার আমার কোনো নিজস্ব বাহিনী নেই। এমনকি আমার মনোনিত বা পছন্দের কোনো প্রার্থীও নেই। আমি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, দলীয় যে প্রার্থী নির্বাচিত হবেন, তিনিই আমার লোক। আমি নির্বাচনের সূষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে সর্বাত্মক চেষ্টা করছি। কোথাও কোনো রকম বিশৃঙ্খলার খবর পেলে সঙ্গে সঙ্গে আমি প্রশাসনকে অবহিত করি। সম্প্রতি ঘটে যাওয়া সহিংস ঘটনার সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।’

১ নন্বর সোনাতলা ওয়ার্ডের মেম্বর প্রার্থী শফিকুল ইসলাম ডালিম বলেন, ‘ভাইস চেয়ারম্যানের নির্দেশে এলাকা অশান্ত হয়ে উঠেছে।’

৫নং উত্তর সাউথখালী ওয়ার্ডের মেম্বর প্রার্থী আলামিন খান বলেন, ‘তার চাচা নৌকার মনোনায়ন পাওয়ার পরই ভাইস চেয়ারম্যান মোবাইলে আমাকে এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ার হুমকি দেন। এখন তার ভাই পলাশ মাহমুদ ক্যাডার বাহিনী নিয়ে আমার কর্মী-সমর্থকদের নির্বাচনী প্রচারনায় বাঁধা দিচ্ছে।’

৪ নম্বর তাফালবাড়ি-রায়েন্দা ওয়ার্ডের মেম্বর প্রার্থী শামসুল আলম রিপন বলেন, ‘ভাইস চেয়ারম্যান পারভেজ আমাকে হুমকি দিয়ে বলেন, তোকে নির্বাচন করতে দেওয়া হবে না। আমার কর্মীরা প্রচারে নামলে হাত-পা ভেঙে দেওয়ার হুমকি দেন।’

৯নং খুড়িয়াখালী ওয়ার্ডের মেম্বর প্রার্থী বাচ্চু মুন্সি বলেন, ‘ভাইস চেয়ারম্যানের ক্যাডার বাহিনীকে দেওয়া দিক নির্দেশনামূলক ভিডিও দেখে আমি ও আমার কর্মী-সমর্থকরা এখন আতঙ্কিত।’

শরণখোলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সরদার মোস্তফা শাহিন বলেন, বুধবার (২৪ মার্চ) সকালে ভাইস চেয়ারম্যান হাসানুজ্জামান পারভেজের বিরুদ্ধে সাউথখালীর এক মেম্বর প্রার্থী লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইদুর রহমান বলেন, সাউথখালীতে ভোটের সুষ্ঠু পরিবশে বজায় রাখতে বুধবার বিকেলে এলাকাবাসী ও মেম্বর প্রার্থীদের নিয়ে একটি আইনশৃঙ্খলা সভা করা হয়েছে। ভাইস চেয়ারম্যানও সেই সভায় উপস্থিত হয়ে পরবর্তীতে আর কোনো সহিংস ঘটনা যাতে না ঘটে সেব্যাপারে সবাইকে সতর্ক করেন।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান মিলন বলেন, আইনশৃঙ্খলার বিঘ্ন ঘটিয়ে কেউ দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করলে তার দায় ভার দল বহন করবে না।

চারিদিক/সাকিব