পাল্টাপাল্টি অভিযোগে উত্তপ্ত হচ্ছে নির্বাচনী মাঠ

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল দেশের খবর

মহিদুল ইসলাম, শরণখোলা (বাগেরহাট) : আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠছে বাগেরহাটের শরণখোলার নির্বাচনী মাঠ। মেম্বর প্রার্থীরা একে অন্যের বিরুদ্ধে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ দায়ের করছেন। উপজেলার সাউথখালী ইউনিয়নের ১ নম্বর সোনাতলা ওয়ার্ডের মেম্বর প্রার্থী (বর্তমান মেম্বর) শফিকুল ইসলাম ডালিম তার প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে অগ্নিসংযোগ, মারধর ও হুমকি-ধমকির অভিযোগ করেছেন।

শনিবার (২০ মার্চ) দুপুরে শরণখোলা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে ডালিম মেম্বর তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী জাহাঙ্গীর হাওলাদার ও তার পৃষ্টপোষক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান হাসানুজ্জামান পারভেজেরে বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ উত্থাপন করেন।

অপরদিকে, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী জাহাঙ্গীর হাওলাদারের অভিযোগ, ডালিম মেম্বরের বিরুদ্ধে শুক্রবার সকালে তার কর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ করেছেন। ডালিমের লোকজন তার ১৩ জন কর্মীকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর জখম করে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মেম্বর শফিকুল ইসলাম ডালিম বলেন, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান হাসানুজ্জামান পারভেজ তার পছন্দের প্রার্থীকে জাহাঙ্গীর হাওলাদারকে বিজয়ী করতে আমাকেসহ আমার কর্মী-সমার্থকদের মারধর ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করছেন। শুক্রবার (১৯ মার্চ) দিবাগত রাতে আমার কর্মী আনসার হাওলাদার ও পান্না আকনের দোকানে অগ্নি সংযোগ করে। এতে তাদের প্রায় ৪ লাখ টাকার ক্ষতি হয়।

লিখিত বক্তব্যে ডালিম মেম্বর আরো বলেন, আমি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করলে উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আমাকে মোবাইল ফোনে গালাগালিসহ এলাকা ছেড়ে যেতে হুমকি দেন। ইতোমধ্যে তিনি বিভিন্ন পথসভায় সাউথখালী ইউনিয়নের কোন ওয়ার্ড থেকে কে মেম্বর হবেন তা তিনি নির্ধারণ করবেন বলে ঘোষণা দেন। প্রতিদ্বন্দ্বী জাহাঙ্গীর তার লোকজন নিয়ে রাতে অন্ধকারে আমার কর্মীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে এলাকা ছেড়ে যেতে হুমকি দিচ্ছে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান হাসানুজ্জামান পারভেজ বলেন, মেম্বর প্রার্থী ডালিম ও তার লোকজন প্রতিপক্ষ প্রার্থী জাহাঙ্গীর হাওলাদারের কুপিয়ে কর্মীদের রক্তাক্ত জখম করেছে। এখন নিজের অপরাধ ঢাকতে আমাকে জড়ানোর অপচেষ্টা করছে।

শরণখোলা থানার ভারপ্রপ্তা কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইদুর রহমান জানান, নির্বাচনী সহিংসতা এড়াতে উপজেলার সবখানেই পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে। সাউথখালী ইউনিয়নটি পুলিশেল বিশেষ নজরদারিতে রয়েছে। দোকানে আগুন লাগার বিষয়টি নির্বাচনী সহিংসতার অংশ কিনা তা তদন্ত করা হচ্ছে।

চারিদিক/সাকিব