শরণখোলায় নির্বাচনী সহিংসতায় নারীসহ আহত ২৫

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল দেশের খবর

মহিদুল ইসলাম, শরণখোলা (বাগেরহাট) : বাগেরহাটের শরণখোলায় ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পৃথক দু’টি সহিংসতায় ৯ জন নারীসহ অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন। আহতদের শরণখোলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও পরবর্তী সহিংসতা এড়াতে দু’টি ওয়ার্ডেই পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে।

শুক্রবার (১৯ মার্চ) সকালে উপজেলার সাউথখালী ইউনিয়নের ১নম্বর সোনাতলা ও ৫নম্বর উত্তর সাউথখালী ওয়ার্ডে প্রদ্বিন্দ্বী মেম্বর প্রার্থীদের সমর্থকদের মধ্যে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

সোনাতলা ওয়ার্ডের মেম্বর প্রার্থী মো. জাহাঙ্গীর হাওলাদারের অভিযোগে জানা যায়, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কর্মীদের নিয়ে নির্বাচনী কমিটি গঠনের জন্য তিনি আনোয়ার ফকিরের মুদি দোকানের সামনে বৈঠকে বসেন। তখন তার কর্মী এমাদুল ঘরামী এবং প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ও বর্তমান মেম্বর শফিকুল ইসলাম ডালিমের সমর্থক হাবিব ফকিরের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। ঘটনাটি হাবিব ফকির ফোন করে জানালে ডালিম মেম্বরের নেতৃত্বে ২৫-৩০ জন লোক দা, লাঠিসোটা নিয়ে এসে তাদের ওপর আক্রমন করে। তাদের হামলায় জাহাঙ্গীরের ৯জন কর্মী রক্তাক্ত জখম হন।

অপরদিকে, উত্তর সাউথখালী ওয়ার্ডের বর্তমান মেম্বর সাইফুল ইসলাম হালিম শাহ জানান, সকাল ১০টার দিকে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী আল-আমীন খানের শতাধিক কর্মী-সমর্থক মিছিল নিয়ে তার বাড়িতে হামলা চালায়। তারা বাড়ি ভাঙচুর করে এবং কর্মীদের এলোপাতাড়ি পিটিয়ে আট জন নারীসহ তার ১৪ জন কর্মীকে আহত করে। এ ঘটনায় প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী আল-আমীন খানের এক নারী ও এক পুরুষ সমর্থক আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

এ ব্যাপারে সোনাতলা ওয়ার্ডের বর্তমান মেম্বর শফিকুল ইসলাম ডালিম জানান, তার কর্মী হাবিব ফকিরকে জাহঙ্গীরের লোকজন মারধর করলে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে তার বেশ কয়েকজন কর্মী আহত হয়েছে। তাদেরকে ভয়ে হাসপাতালে না পাঠিয়ে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

তবে, উত্তর সাউথখালী ওয়ার্ডের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী আল-আমীন খানের সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

শরণখোলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইদুর রহমান জানান, পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেছে। সহিংসহ দুটি এলাকাতেই পুলিশ টহলে রয়েছে। এ ব্যাপারে মামলা হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

চারিদিক/সাকিব