দখলে শ্মশান, দাহন বাধাগ্রস্থ

যশোর জেলার খবর

অভয়নগর (যশোর) প্রতিনিধি : যশোরের অভয়নগরে শ্মশান কেন্দ্রীত গড়ে উঠেছে কয়লা ও বালুর ড্যাম্প (স্তুপ)। যত্রতত্র মালামাল রাখায় বাধাগ্রস্থ হচ্ছে শবদেহ দাহন কার্যক্রম। দ্রুত সময়ের মধ্যে কয়লা ও বালু অপসারণ করা না হলে আন্দোলনের হুশিয়ারী। প্রতিকার না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করছে এলাকাবাসী। নিরব ভূমিকায় শ্মশান কমিটি।

জানা গেছে, অভয়নগর উপজেলায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবদাহের জন্য রয়েছে প্রায় ৫০টি ছোট-বড় শ্মশান। এর মধ্যে ভৈরব নদ কেন্দ্রীক রয়েছে ১৫টি শ্মশান। এই ১৫টি শ্মশানের চারিপাশে গড়ে উঠেছে কয়লা, বালু ও সারের ড্যাম্প। ফলে শবদেহ দাহন বাধাগ্রস্থ হয়ে ধর্মীয় কার্যক্রম বন্ধ হতে চলেছে।

সরেজমিনে বিভিন্ন শ্মশান ঘুরে দেখা গেছে, যশোর-খুলনা মহাসড়ক সংলগ্ন ভৈরব নদ তীরবর্তী নওয়াপাড়া মহাশ্মশানের ঘাট ব্যবহার করে জাহাজ থেকে কয়লা ও বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। সেই কয়লা ও বালু রাখা হচ্ছে মূল ফটকের দুই পাশে। চেঙ্গুটিয়া এলাকায় মহাকাল মহাশ্মশানের দুই পাশে রাখা হয়েছে আমদানীকারক প্রতিষ্ঠান সাহারা গ্রুপের কয়লা। ওই শ্মশানে শবদেহ নিয়ে যাওয়ার পথ ব্যবহার করে চলছে মালবাহী যানবাহন।

কয়লার দূষণে পুরো এলাকাজুড়ে কালো রঙ ধারণ করেছে। এসব ড্যাম্পে নেই কোন সীমানা প্রাচির। মানা হয়নি কয়লা সংরক্ষণের কোন আইন। উপজেলার শ্রীধরপুর ইউনিয়নের শংকরপাশা, দিয়াপাড়া ও মধ্যপুর শ্মশানের একই অবস্থা। রাজঘাটের নাহার ঘাট সংলগ্ন শ্মশানের চারপাশে জাহাজ ও কার্গোর রশি দিয়ে যাতায়াতের পথ রোধ করা হয়েছে। ড্যাম্প করা হচ্ছে কয়লা ও সারের। চলাচলের পথ নেই বললে চলে।

উপজেলার বলারাবাদ গ্রামের বিধান রায় জানান, আমার মা মারা যাওয়ার পর নওয়াপাড়া মহাশ্মশানে শহদেহ দাহন কাজ করতে এসে বিড়ম্বনার শিকার হয়। ঘাট শ্রমিকদের কয়লা ও বালু জাহাজ থেকে আনলোডের কারণে দাহন কাজ বাধাগ্রস্থ হয়। এ ধরণের পবিত্র স্থান সার্বক্ষনিক বাঁধামুক্ত ও পরিচ্ছন্ন রাখা উচিৎ।

নওয়াপাড়া গ্রামের প্রতাপ কুমার সাহা জানান, কিছুদিন আগে তাঁর ভাগ্নে শ্যামল কুমার সাহা মারা যায়। তাঁর দাহন কাজ করতে এসে কয়লা ও বালুর কারণে শ্মশানে ঢুকতে বিলম্ব হয়। শ্মশান এলাকায় এহেন কর্মকান্ড বন্ধ রাখতে হবে।

শিক্ষক সুনীল দাস জানান, উপজেলার কোদলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বাবুলাল তহবিলদার ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। প্রথমে তার দেহ শংকরপাশা শ্মশানে নেয়া হলে কয়লা ও বালুর কারণে দাহন কাজ করা সম্ভব হয়নি। পরে অন্য শ্মশানে নিয়ে প্রায় পাঁচ ঘন্টা বিলম্বে তাঁর দাহন কাজ সম্পন্ন করতে হয়।

নওয়াপাড়া মহাশ্মশান কমিটির সভাপতি তাপস কুন্ডুর ০১৭১১-১১৭৪৯৪ মোবাইল ফোনে বার বার যোগাযোগ করা হলে ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

এ ব্যাপারে মহাকাল মহাশ্মশানের সাধারণ সম্পাদক কালিদাস জানান, পূর্বের কমিটি পদক্ষেপ নিলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। আমরা নতুন কমিটি আন্দোলনে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি।

অভয়নগর উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বিষ্ণুপদ দত্ত জানান, সকল শ্মশানের পবিত্রতা রক্ষা করতে হবে। অন্যথায় আন্দোলনের মাধ্যমে সকল শ্মশানের চারিপাশ কয়লা, বালু ও সারের ড্যাম্পমুক্ত করা হবে।

স্থানীয় কয়লা ও বালু ব্যবসায়ীরা জানান, ধর্মীয় স্থানগুলোর পাশের জমি মালিককরা জমি ভাড়া না দিলে এমন সমস্যা সৃষ্টি হতো না। সরকারি নিয়ম না মেনে ড্যাম্প করা হয়েছে এমন প্রশ্নের উত্তর তারা এড়িয়ে যান।

উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) নারায়ন চন্দ্র পাল মুঠোফোনে জানান, ইতিপূর্বে উপজেলা পূজা উদযাপন ও শ্মশান কমিটির কাছে সমস্যা আছে এমন শ্মশানগুলোর তালিকা চেয়েছি। কিন্তু এখনও কোন তালিকা তারা আমাকে দেয়নি। তবে যদি কোন শ্মশান কমিটি অভিযোগ করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

চারিদিক/সাকিব