সাধারণ মানুষের শতভাগ সেবা নিশ্চিতে নৌকা চান কবু

যশোর জেলার খবর

যশোর অফিস : বঙ্গবন্ধু’র সোনার বাংলা গঠর স্বপ্ন বাস্তবায়ন করার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় অংশ নিতে ও মানুষের শতভাগ সেবা নিশ্চিত করার জন্য যশোর পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে অংশগ্রহণ করতে দলীয় নৌকা প্রতিক চাচ্ছেন জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক এ. এস. এম. হুমায়ূন কবীর কবু। বুধবার (২৭ জানুয়ারি) চারিদিক.কম এ দেয়া স্বাক্ষাতকারে তিনি একথা বলেন।

এ. এস. এম. হুমায়ুন কবির কবু পৌরসভা এলাকার ঘোপ ৩নং ওয়ার্ডের ২২৫ নওয়াপাড়া রোডের বাসিন্দা। তার পিতা আজাদ হোসেন ও মাতা নাসিমা আজাদ। পারিবারিকভাবেই আওয়ামী লীগ পরিবারের সদস্য। পিতার অনুপ্রেরণায় তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতি শুরু করেন। তাই স্কুলের ছাত্র অবস্থায় তিনি ছাত্রলীগের রাজনীতির মাধ্যমে হাতেখড়ি নেন। তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্যবস্থাপনা বিষয়ে এম কম ডিগ্রিধারী।

তিনি জানান, তিনি ১৯৮১ সাল থেকে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাথে ছিলেন। এ সময় স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে ঢাকা ও যশোরের রাজপথে সক্রিয় ছিলেন। ১৯৯২ সাল থেকে অদ্যবধি আওয়ামীলীগের রাজনীতি, বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনার আদর্শের সাথে রাজপথে সক্রিয় আছেন। এই কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ দল আমাকে ২০০৪ সাল থেকে অদ্যবধি যশোর জেলা আওয়ামী লীগের শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব দিয়েছে। আওয়ামীলীগের একজন প্রতিনিধি হিসেবে যশোর জেলার  সকল ব্যবসায়িদের সুবিধা অসুবিধা নিয়ে প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছেন।

২০০১ সাল থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত যশোর আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে পদযাত্রা সহ সকল বড় বড় কর্মসূচির জন্য তহবিল সংগ্রহ ও ব্যয় ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব সততা ও নিষ্ঠার সাথে কাজ করে সকল নেতা কর্মীদের আস্থা অর্জনে সক্ষম হন। তার পিতামহ,  পিতা,  চাচা ও ফুফুরা, ভাই ও বোনেরা, এমনকি চাচাতো ভাই বোন সকলেই জাতীর পিতা বঙ্গবন্ধুর আদর্শের রাজনীতির সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত ছিলেন এবং আছেন। অধ্যবদি তার পরিবারের কেউই আওয়ামী লীগের রাজনীতি ও বঙ্গবন্ধুর আদর্শ থেকে বিচ্যুত হয়নি। তার  মাতামহ, মাতা, মামা ও খালারা, এমনকি মামাতো ভাই বোন সকলেই আওয়ামী রাজনীতি ও আদর্শের সাথে সম্পৃক্ত ও একাত্ন। তার সহধর্মিনীর বাবা, মা, ভাই, বোন ও সকলেই আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক আদর্শে দৃঢ় বিশ্বাসী। দলের মূলধারার বাইরে পরিবারের কেউই কখনোই যাইনি।

‘নেতারা নয়, কর্মীরাই আওয়ামী লীগের বড় শক্তি’

যশোর জেলা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, শ্রমিকলীগ, স্বেচ্ছাসেবকলীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড, বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের সাথে ব্যক্তি স্বার্থ ও দলীয় অন্ত:কলহের উর্ধ্বে থেকে সকলের সাথে সুসম্পর্ক রেখে কাজ করে যাচ্ছেন।

তিনি আরো জানান, যশোর চেম্বার অব কর্মাস এন্ড ইন্ডা. নির্বাচন ২০১০-২০১১ তে আমি আওয়ামী লীগের প্যানেল থেকে নির্বাচন করি। উক্ত নির্বাচনে ৪২ জন প্রার্থীর মধ্যে আমি সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে পরিচালক নির্বাচিত হয়। বর্তমানে আমি যশোর চেম্বার অব কর্মাস এন্ড ইন্ডা. থেকে এফ বি সি সি আই এর জিবি মেম্বার হিসেবে কাজ করছি।  প্রাইভেট ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক মালিক সমিতির যশোর জেলা শাখার সিনিয়র সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। ইট প্রস্তুতকারক মালিক সমিতির যশোর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ১৯৯৪ সাল থেকে ২০০৬ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করি।  যশোরের ঐতিহ্যবাহী ক্লাব যশোর ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। আমার নিজ উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত কে এল ফাউন্ডেশন থেকে এতিম, প্রতিবন্দী, অসহায় মুক্তিযোদ্ধা, অসহায় আওয়ামী লীগ পরিবার, গরীব মেধাবী ছাত্র ও সুবিধা বঞ্চিতদের বিভিন্নভাবে সহয়তা করে থাকি। হাসপাতাল ব্যবসায় আমি ২১ বছর নিয়োজিত আছি। স্বাস্থ্য সেবাকে আমি শুধুমাত্র ব্যবসা হিসেবে গ্রহণ না করে মানুষের কল্যাণ ও সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করেছি। উক্ত সময়ে এই প্রতিষ্ঠান থেকে আমি অসহায়, দরিদ্র, ও আওয়ামীলীগের রাজনিতির সাথে জড়িতদের হ্রাসকৃতমূল্যে/বিনামূল্যে এছাড়াও আরো  অসংখ্য মানুষকে সেবা দিয়েছি এবং দিয়ে যাচ্ছি।

যশোরের প্রাচীনতম ঘোপ নওয়াপাড়া রোড জামে মসজিদের সাধারণ সস্পাদক হিসেবে খেদমত করছি। যশোরের সর্ববৃহৎ কারবালা জামে মসজিদের নির্মাণ কমিটির যুগ্ম আহব্বায়ক হিসেবে কাজ করছি। যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের বেসরকারি পরিদর্শক হিসেবে ২০১৪ সাল থেকে অদ্যবধি দায়িত্ব পালন করে আসছি। দেশের অন্যতম বৃহৎ উন্নয়ন সংস্থা জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশনের সাধারণ পরিষদের সদস্য হিসেবে কাজ করছি। যশোরের বৃহৎ বেসরকারি কলেজ ডা: আব্দুর রাজ্জাক কলেজের গভর্নিং বডির সদস্য হিসেবে ২০১৪ সাল থেকে অদ্যবধি কাজ করছি। এস এম সুলতান ফাইন আর্ট কলেজের গভর্নিং বডির সদস্য হিসেবে ২০১৪ সাল থেকে অদ্যবধি কাজ করছি। এছাড়াও বিভিন্ন স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে আর্থিক সহায়তা করে থাকি। যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক ছাত্র-ছাত্রী প্রতি বছর আমার প্রতিষ্ঠিত কুইন্স হসপিটাল (প্রা.) লি. থেকে ইন্টার্নশিপ করে থাকে।

তিনি আরো জানান, বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠি যশোর জেলা শাখার উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করে যাচ্ছি। চাঁদের হাট যশোর এর উপদেষ্ঠা হিসেবে কাজ করে যাচ্ছি। পুনশ্চ যশোরের উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করে যাচ্ছি। আমি যশোর ইনস্টিটিউটের আজীবন সদস্য। আমি যশোর শিল্পকলা একাডেমীর আজীবন সদস্য। আমি ব্যক্তি জীবনে অসাম্প্রদায়িক এবং স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের আদর্শের প্রতি বিশ্বাসী ও অনুশীলনকারী একজন মানুষ। এছাড়াও আমি যশোর জেলার সব পেশা ও শ্রেনীর মানুষের কাছে আস্থাভাজন ও কর্মঠ হিসেবে পরিচিত যা আপনি আপনার একান্ত  বিশ্বস্থ কারও মাধ্যমে তথ্য নিলে জানতে পারবেন। পারিবারিক জীবনে আমি এক ছেলে এবং এক মেয়ের বাবা। ছেলে বর্তমানে আইন বিষয়ে অনার্সে অধ্যয়নরত এবং মেয়ে অর্থনীতি বিষয়ে অনার্সে অধ্যয়নরত । এছাড়াও আমি ব্যবসায়ীক ভাবে আল্লাহর ইচ্ছায় সফল। এমতাবস্থায় মানুষের জন্য কাজ করা আমার জন্য অনেক সহজতর ।

কবু বলেন, করোনাকালীন সময়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার ৩১ দফা ২৫ হাজারের অধিক হ্যান্ডবিল আকারে বিতরণ করেছি।  মানুষের মাঝে প্রায় ১৫ হাজার স্বাস্থ্যসম্মত ম্যাস্ক বিতরণ করেছি। বাংলাদেশ করোনা প্রাদুর্ভাবের সময় থেকে মানুষের জন্য ডাক্তারী সহায়তা ও ফ্রি অক্সিজেন সরবরাহ ব্যবস্থা নিশ্চিত করেছি, যাহা এখন পর্যন্ত চলমান। যশোর পৌরসভার প্রত্যেকটি ওয়ার্ড, পাড়া-মহল্লায় এবং যশোর সদর উপজেলার প্রত্যেকটি ইউনিয়নে করোন ভাইরাস বিষয়ে জনসচেতনতা মূলক মাইকিং, ব্যানার, পোস্টার, হ্যান্ডবিলের মাধ্যমে মানুষকে সচেতন করি। এছাড়া করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে ম্যাস্ক, হ্যান্ড স্যানিটাইজার, সাবান, হুইল পা্উডার ইত্যাদি প্রায় ৪ হাজারের অধিক সাধারণ মানুষের মাঝে বিতরণ করেছি। যশোর সদর উপজেলা ও যশোর পৌরসভার প্রায় ৩০০০ এর অধিক দরিদ্র পরিবারের মাঝে চাল, ডাল, তেল, আলুসহ অন্যান্য নিত্য প্রয়োজনীয় পন্য ৯০দিন ব্যাপি প্রদান করেছি। বিভিন্ন জনসচেতনতা মূলক কর্মকান্ড ও হ্যান্ডবিল বিতরণ করেছি।

তাই দলীয়ভাবে যশোর পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে আমাকে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন দিলে আমি দলের সম্মান যথাযথভাবে রাখতে পারব এবং মানুষের পাশে থেকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ও বঙ্গবন্ধুর আদর্শে যশোর পৌরসভাকে একটি আধুনিক, ডিজিটাল ও মডেল পৌরসভা হিসাবে গড়ে তুলতে পারবো। শেখ হাসিনার একজন কর্মী হিসেবে উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় শতভাগ সফল হবো বলে আশা করি।

চারিদিক/এম