মাদরাসা ছাত্রী ধর্ষণ মামলায় সুপারের যাবজ্জীবন

অপরাধ ও আইন দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল দেশের খবর

মহিদুল ইসলাম,শরণখোলা (বাগেরহাট)।।
বাগেরহাটের শরণখোলায় পঞ্চম শ্রেণির মাদরাসা ছাত্রী (১১) ধর্ষণের দায়ে মাদরাসার সুপার ইলিয়াছ জোমাদ্দারকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড দিয়েছেন আদালত। একই সাথে ২০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদপ্রদান করা হয়।
বৃহষ্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুপুর সোয়া ১২ টায় বাগেরহাট জজ আদালতের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারক জেলা ও দায়রা জজ মো. নূরে আলম আসামীর উপস্থিতিতে এই রায় ঘোষণা করেন। এই মামলায় বাদী পক্ষের ১৫ জন এবং আসামী পক্ষের দু’জনসহ মোট ১৭জন সাক্ষীর স্বাক্ষ্য গ্রহণ করেন বিচারক।

ধর্ষক ইলিয়াছ জোমাদ্দার এই মামলায় একাই আসামী। তিনি শরণখোলা উপজেলার উত্তর খোন্তাকাটা রাশিদিয়া স্বতন্ত্র এবতেদায়ী মাদরাসার সুপার এবং উপজেলার পূর্ব রাজাপুর গ্রামের আব্দুল গফফার জোমাদ্দারের ছেলে। মেয়েটি ওই মাদ্রাসার পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী। তার বাড়ি মাদ্রাসার পাশ্ববর্তী উত্তর খোন্তাকাটা গ্রামে।

মামলার বরাত দিয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী বাগেরহাট নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিশেষ সহকারি কৌশলী (এপিপি) রনজিৎ কুমার মন্ডল বলেন, ২০১৯ সালের ৮ আগষ্ট সকাল সাতটায় আরবি শিক্ষা নিতে গেলে ওই ছাত্রীকে মাদরাসার লাইব্রেরিতে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে সুপার ইলিয়াস জোমাদ্দার। পরে ওই ছাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়লে সুপার ইলিয়াস জিনে ধরার কথা বলে পানি পড়া ও ঝাড়-ফুক দেন। এতে সুস্থ্য না হওয়ায় মেয়েটির বাবা-মা স্থানীয় গ্রাম্য চিকিৎসকের কাছে চিকিৎসা করান।

একপর্যায়ে মেয়েটি তার মাকে ঘটনা খুলে বলে। ঘটনার এগারোদিন পর ১৯ আগষ্ট মেয়েটির বাবা বাদী হয়ে শরণখোলা থানায় সুপার ইলিয়াস জোমাদ্দারের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা করেন। পরে মামলাটি তদন্ত করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
এরপর পিবিআই”র উপ পরিদর্শক (এসআই) আবু সাইয়েদ পালিয়ে বেড়ানো মাদ্রাসা সুপার ইলিয়াছ জোমাদ্দারকে ঘটনার প্রায় দুই মাস পরে ওই বছরের ১৭ অক্টোবর গ্রেপ্তার করেন। গ্রেপ্তারের পর সুপার ইলিয়াছ ধর্ষণের কথা স্বীকার করে তিনদিন পর আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সাইয়েদ তদন্ত শেষে ধর্ষণের সত্যতা পেয়ে ১৩ নভেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন। বিচারক মামলাটিকে আমলে নিয়ে ২০২০ সালের ৯মার্চ চার্জ গঠন করেন।

এরপর গত ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে ২৯ অক্টোবরের মধ্যে আদালতের বিচারক চিকিৎসক, পুলিশ, বাদী, বিবাদী মিলিয়ে মোট ১৭ জন সাক্ষীর স্বাক্ষ্যগ্রহণ করেন। গত রোববার এই মামলার বাদী-বিবাদী পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে আদালতের বিচারক এই রায় ঘোষণা করেন।

মামলার বাদী ও রাস্ট্রপক্ষের কৌশলী এ রায়ে শন্তোষ প্রকাশ করেছেন। অপরদিকে আসামী পক্ষের কৌশলী মো. আলী আকবর বলেন, তার মক্কেল ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছে। এব্যাপারে উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে।