অভয়নগরে দ্বিগুণ দামে কয়লা বিক্রি, দিশেহারা ক্রেতারা

যশোর জেলার খবর

অভয়নগর (যশোর) প্রতিনিধি : যশোরের অভয়নগরে শিল্পশহর নওয়াপাড়ায় কয়লা আমদানিকারকরা তিন মাসে চার দফা কয়লার দাম বৃদ্ধি করেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বৃদ্ধি না হলেও ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে অধিক মুনাফায় কয়লা বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। ভোগান্তিতে পড়েছে ভাটা মালিক ও ক্রেতারা। নিরব ভূমিকায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ইন্দোনেশিয়া, সাউথ আফ্রিকা এবং অষ্ট্রেলিয়া থেকে কয়লা আমদানি করে আসছে নওয়াপাড়া বাজারের ৮ থেকে ১০টি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান। ইন্দোনেশিয়া থেকে আমদানি করা কয়লা ৫২ থেকে ৫৭ ডলারে ক্রয় করা হয়। যার দেশীয় মূল্য ৪ হাজার পাঁচশ’ টাকা থেকে ৫ হাজার টাকা। এই কয়লা নওয়াপাড়ায় এনে ড্যাম্পিং পর্যন্ত টন প্রতি পরিবহন খরচ পড়ে সর্বোচ্চ ২ হাজার ৫শ’ টাকা। সেই হিসেবে প্রতি টন কয়লা আমদানি, ড্যাম্পিং ও পরিবহন বাবদ খরচ হয় ৬ হাজার ৫শ’ ৫০ টাকা থেকে ৭ হাজার ৫শ’ টাকা। অথচ নওয়াপাড়ায় প্রতিটন কয়লা বিক্রি হচ্ছে সাড়ে ১২ হাজার থেকে ১৩ হাজার টাকা।

আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোর লাভের পরিমাণ টন প্রতি প্রায় দ্বিগুণ। একটি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান বছরে কমপক্ষে ৮ থেকে ১০টি ‘এলসি’ করতে পারে। প্রতি এলসিতে ৬০ থেকে ৬৫ হাজার মেট্রিক টন কয়লা আমদানি করা হয়। সেই হিসেবে কয়লা আমদানিকারক একটি প্রতিষ্ঠান বছরে ৪ থেকে ৬ লাখ মেট্রিক টন কয়লা আমদানি করে থাকে।

অভয়নগর ইটভাটা মালিক সমিতির সভাপতি আফছার মোল্যা জানান, ‘একজন ইটভাটা মালিক নিজের স্বর্বস্ব উজাড় করে ইটভাটা পরিচালনা করেন। গত তিন মাসে নওয়াপাড়ার ব্যবসায়ীরা তিন থেকে চার দফা কয়লার দাম বাড়িয়েছে। জ্বালানী খরচ বেড়ে যাওয়ায় লাভের মুখতো দুরের কথা বছর শেষে ঋণ মেটাতে জমি বিক্রি করতে হবে। কয়লা আমদানিকারকদের অধিক লাভের কারণে এখন ইটভাটা বন্ধ করা ছাড়া কোন পথ দেখছি না।’

কয়লা আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান সাহারা এন্টারপ্রাইজের নওয়াপাড়া সেল্স সেন্টারের ইনচার্জ রেদুওয়ান হোসেন জানান, ‘বর্তমানে আমাদের কাছে অস্ট্রলিয়ার কয়লা আছে, যা প্রতি টন ৯ হাজার ৫শ’ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে।’

প্রতি টন আমদানি খরচ কেমন হয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এটা মালিক বলতে পারবে, আমরা জানি না।’

আমদানিকারক মোশারফ এন্ড ব্রাদার্সের ইনচার্জ মনিরুজ্জামান মিন্টু জানান, ‘বর্তমানে আমাদের কোন কয়লার স্টক নেই। তবে উত্তরা প্রাইভেট লিমিটেড ও জেএইচএম ইন্টারন্যাশনাল ইন্দোনেশিয়া থেকে আমদানি করা কয়লা প্রতি টন ১৩ হাজার টাকায় বিক্রি করছে।’

নওয়াপাড়া কয়লা ব্যবসায়ী সমিতির সহ-সভাপতি মোজাফ্ফার আহমেদ জানান, ‘আমদানিকারকরা কয়লার দাম গত তিন মাসে চার দফা বাড়িয়েছে। যে কয়লা প্রতি টন ৯ হাজার টাকা দরে বিক্রি করা হতো সেই কয়লা এখন ১৩ হাজার টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। আমদানিকারকদের স্বেচ্ছাচারিতার কারণে নওয়াপাড়ার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও ইটভাটা বন্ধ হতে চলেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি।’

অভয়নগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আমিনুর রহমান জানান, ‘কয়লার বিষয়টি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধিনে। এর সাথে সংশ্লিষ্ট রয়েছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। তাদের সাথে কথা বলে বিস্তারিত জেনে বিধি মোতাবেক কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।’

জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর যশোর জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. ওয়ালিদ বিন হাবিব মুঠোফোনে চারিদিককে জানান, ‘যদি কোন পণ্যের দাম সরকার নির্ধারণ করে দেয়, তাহলে নির্ধারিত মূল্যের থেকে যদি কেও বেশি দামে বিক্রি করে ভোক্তা-অধিকার তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। নওয়াপাড়ায় কয়লার বিষয়টি উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

মাসুদ তাজ/চারিদিক/সাকিব