স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী এবং আমাদের অর্জন

দেশের খবর ফিচার

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে দাঁড়িয়ে স্বাধীন বাংলাদেশের অর্জনগুলোকে বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে, সে অর্জন একেবারে কম কিছু নয়। হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে অর্জিত সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে তখন পৃথিবীর অনেক বড় বড় বোদ্ধারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন। তাদের ধারণা ছিল ব্যাপক জন অধ্যুষিত এই দেশটি কোন দিনই অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে পারবে না। তাইতো তৎকালীন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরি কিসিঞ্জার বাংলাদেশকে “তলাবিহীন ঝুড়ি” হিসেবে আখ্যায়িত করেছিলেন। কিন্তু অদম্য সাহসী এবং দূরদর্শী নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সব বাঁধাবিপত্তি উপেক্ষা করে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ পুনর্গঠনে আত্মনিয়োগ করেন।

তবে দুর্ভাগ্য আমাদের, মাত্র সাড়ে তিন বছরের মাথায় ১৯৭৫ সালের ১৫ আগষ্ট একাত্তরের পরাজিত শক্তি এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রকারীরা বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার মধ্য দিয়ে সদ্যজাত শিশু বাংলাদেশের অগ্রযাত্রাকে চিরতরে থামিয়ে দিতে চেয়েছিল এবং প্রাথমিকভাবে তারা সফলও হয়েছিল। দীর্ঘ একুশটি বছর সামরিক স্বৈরশাসকরা এবং অগণতান্ত্রিক শাসকরা দেশকে পিছনের দিকে নিয়ে যাওয়ার অপচেষ্টা করেছে।

কিন্তু বঙ্গবন্ধুর যোগ্য উত্তরসূরী, তাঁর কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বে ১৯৯৬ সালে দেশটি আবার সঠিক পথের দিশা পায়। ষড়যন্ত্রকারীদের ষড়যন্ত্র থেমে থাকে না। ফলে আবারো আট বছরের জন্য উন্নয়নের অগ্রযাত্রা থমকে যায়। তবে এতদিনে বাংলার জনগণ বুঝে যায় তাদের কর্তব্য। তাই ২০০৮ সালে সকল ষড়যন্ত্র ছিন্ন করে বাংলার মানুষ বঙ্গবন্ধু কন্যাকেই তাদের অবলম্বন হিসেবে বেঁছে নেয়। নতুন করে শুরু হয় উন্নয়নের পথে এগিয়ে চলা।

আজ ২০২১ সালের ঊষালগ্নে, স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীর প্রাক্কালে এবং যাঁর নেতৃত্বে আমরা স্বাধীন হয়েছিলাম, স্বাধীনতার সেই মহানায়ক, এই বাংলার রাখাল রাজা, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে ঘোষিত মুজিব বর্ষে দাঁড়িয়ে নির্দিধায় বলতে পারি, ‘একাত্তর সালে বাংলাদেশকে নিয়ে ভবিষ্যতবাণী করা সেই বোদ্ধাদের আমরা দাঁত ভাঙ্গা জবাব দিতে পেরেছি। দেশ এখন অনেক সূচকে সেই পাকিস্তান থেকে অনেক এগিয়ে, যাদের সাথে যুদ্ধ করে আমরা স্বাধীন হয়েছি।’

যে সব সূচকে আমরা পাকিস্তানসহ এশিয়ার অন্যান্য আরো কয়েকটি দেশ থেকে এগিয়ে আছি সেগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল- মানব সম্পদ উন্নয়ন, নারীশিক্ষা, নারীর ক্ষমতায়ন, স্বাস্থ্যসেবা, মা ও শিশু মৃত্যুর হার হ্রাসকরণ, গড় আয়ু, বৈদেশিক মুদ্রা মজুত, জিডিপি, বিদ্যুতায়ন, জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ, জঙ্গী ও সন্ত্রাস দমন, ক্ষুদা ও অপুষ্টির হার হ্রাসকরণ, শিক্ষার হার ও জন্ম নিয়ন্ত্রণ ইত্যাদি।

ইকোনোমিক ইন্টেলিজেন্ট ইউনিট এর ২০ মার্চ ২০২০ তারিখের রিপোর্ট অনুযায়ী মানব সম্পদ উন্নয়নে বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান ১০৬ তম, পাকিস্তান-১৩৪ তম এবং ভারত-১১৫ তম (সূত্র-প্রথম আলো, ৬.৪.২০১৯)। শিশু মৃত্যুর হার হ্রাসকরণ- বাংলাদেশে প্রতি এক হাজার জনে শিশু মৃত্যুর হার-২২, পাকিস্তানে ৫৮, ভারতে ৩০ (সূত্র-সময় টিভি, ৬.৯.২০২০)। গড় আয়ু- বাংলাদেশে ৭৩ বছর, পাকিস্তানে ৬৬ বছর। বৈদেশিক মুদ্রা মজুতে ২০.৩.২০১৯ তারিখ পর্যন্ত হিসাব অনুযায়ী বাংলাদেশে ৩ হাজার ১৬৯ কোটি ৮০ লাখ ডলার, পাকিস্তানে ১ হাজার ৪৮৮ কোটি ডলার (সূত্র-প্রথম আলো, ৬.৪.২০১৯)। শিক্ষার হার-বাংলাদেশে ৭৩.৯, পাকিস্তানে ৫৯.১৩। শিশুদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ তৈরীতে বাংলাদেশ শীর্ষে। রেটিং- বাংলাদেশ -৪.১, পাকিস্তান-৯.৭, ভারত-৫.৭। জন্ম নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ শীর্ষে। হার-বাংলাদেশ-২.০, পাকিস্তান-৩.৫, ভারত-২.২। জিডিপিতে বাংলাদেশ- ৩৩.৩, পাকিস্তান-১৯.৩, ভারত- ৩১.৬। বিদ্যুতায়নে বাংলাদেশ- ৮৫.২, পাকিস্তান-৭১.১, (সূত্র-সময় টিভি, ৬.৯.২০২০)। ক্ষুধা ও অপুষ্টির হার হ্রাসকরণে বাংলাদেশের অবস্থান-৮৬, পাকিস্তান-৯৪, ভারত-১০২ (সূত্র-প্রথম আলো, ১৬.১০.২০২০)। মাথাপিছু আয়, বাংলাদেশ-২ হাজার ৬৪ ডলার, পাকিস্তান-১ হাজার ৬৫২ ডলার। বেকারত্বের হার বাংলাদেশে ৪.১ শতাংশ, পাকিস্তানে ৫.৮ শতাংশ। কর্মক্ষেত্রে নারীদের উপস্থিতি; পাকিস্তানের চেয়ে বাংলাদেশ অনেক এগিয়ে (সূত্র-প্রথম আলো, ১৬.১২.২০১৯)।

দি ওয়ার্ল্ড ইকোনোমিক ফোরামের বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী উদীয়মান অর্থনীতির দেশ সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান-৩৪, পাকিস্তান-৫২, ভারত-৬২, শ্রীলংকা-৪০। ১০৩ টি দেশের অর্থনীতির তিনটি পৃথক স্তম্ভ যথাক্রমে- প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়ন, অন্তর্ভূক্তিমূলক উন্নয়ন ও প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে সমতা বিধান বিবেচনা করে উক্ত তালিকা করা হয়েছে। সংস্থাটি আরো বিবেচনা করেছে দেশগুলোর জীবনমান কেমন, পরিবেশ কতটা টেকসই এবং ভবিষ্যত প্রজন্ম কতটা সুরক্ষিত। (সূত্র-প্রথম আলো, ১৬.১০.২০১৯)। বিশ্বব্যাংকের ভবিষ্যতবাণী এবছর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে বাংলাদেশ শীর্ষ পাঁচে থাকবে এবং আন্তর্জাতিক সংস্থা এইচ এস ডিসি’র প্রতিবেদন অনুযায়ী ২০৩০ সাল নাগাদ বাংলাদেশ বিশ্বের ২৬ তম এবং ২০৩৫ সাল নাগাদ ২৫ তম অর্থনীতির দেশ হতে যাচ্ছে। বর্তমানে বাংলাদেশের অবস্থান ৪২ তম (সূত্র-ডেইলি স্টার, ৪.১০.২০১৮)।

উন্নতির সোপান :

এখন তুলনামূলক কিছু তথ্যের ভিত্তিতে দেখা যাক বাংলাদেশ গত পঞ্চাশ বছরে কিভাবে বর্তমান পর্যায়ে পোঁছাল। ১৯৭৩-৭৪ অর্থ বছরে বাংলাদেশের রফতানি আয় ছিল-২৯৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। ২০১৯-২০ অর্থ বছরে এটা বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে-৩৯.৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে। ১৯৭৩-৭৪ অর্থ বছরে জিডিপি ছিল ৭ হাজার ৫৭৫ কোটি টাকা। ২০১৯-২০ তে ৩৬৯ গুণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৭ লাখ ৯৬ হাজার কোটি টাকা। ১৯৭৩-৭৪ অর্থ বছরে মাথা পিছু আয় ছিল-১২৯ ডলার। ২০১৯-২০ তে ১৬ গুণ বেড়ে হয়েছে ২ হাজার ৬৪ ডলার। ১৯৭৩-৭৪ অর্থ বছরে দারিদ্রের হার ছিল ৭০ শতাংশ। এখন এটা কমে ২০.৫ শতাংশে (তথ্য সূত্রঃ বিবিসি বাংলা, ২১ মার্চ ২০২১)। ১৯৭২-৭৩ সালে জাতীয় বাজেটের আকার ছিল ৭৮৬ কোটি টাকা। ২০১৮-১৯ সালে এটা দাঁড়ায় ৪ লাখ, ৬৪ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকা (তথ্য সূত্রঃ তোফায়েল আহমেদ, প্রথম আলো, ২৩ মার্চ ২০২১)।

এসব তথ্যসমূহের ভিত্তিতে সন্দেহাতিতভাবে বলা যায় পাকিস্তানের সাথে থাকলে আমরা নানান দিক দিয়ে পিছিয়ে থাকতাম। এই অর্জনগুলোই আমাদের স্বাধীনতার সুফল যার ভিত রচিত হয়েছিল বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাত ধরে। আর গত এক যুগে অর্থাৎ বঙ্গবন্ধু তনয়া শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক উন্নয়নে রেকর্ড সৃষ্টি করেছে।

১৯৭৫ সালে বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশের তালিকাভূক্ত হয়েছিল। বর্তমানে স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে দেশ বেরিয়ে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে উঠে এসেছে। ২০১৮ সালে ৩টি শর্ত-যথাক্রমে মাথাপিছু আয়, অর্থনৈতিক ঝুঁকি, মানবসম্পদ উন্নয়ন পূরণ করে এবং ২০২১ সালে পুনরায় উক্ত ৩টি শর্ত পূরনে প্রয়োজনীয় দক্ষতা দেখিয়ে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের কাতারে পৌঁছেছে। জাতিসংঘের নিয়ানুযায়ী কোন দেশ পরপর দুটি ত্রিবার্ষিক পর্যালোচনায় উত্তরণের মানদন্ড পুরণে সক্ষম হলে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের চূড়ান্ত সুপারিশ পায়। বাংলাদেশ সেই সুপারিশ পেয়েছে। উন্নয়নশীল দেশের কাতারে পৌঁছাতে জাতিসংঘের শর্তানুযায়ী মাথা পিছু আয় হতে হবে কমপক্ষে ১২৩০ ডলার। বর্তমান আমাদের মাথাপিছু আয় ২০৬৪ ডলার। অর্থনৈতিক ঝুঁকি ১০০ স্কোরের মধ্যে ৩২ এর নিচে হতে হয়। আমাদের স্কোর ২৫.২। মানবসম্পদ উন্নয়নের স্কোর হতে হয় ৬৬’র উপরে। আমাদের আছে ৭৩.২। এসব সূচকে বাংলাদেশের উন্নতির মুলে রযেছে রফতানি আয় বৃদ্ধি, রেমিটেন্স বৃদ্ধি, কৃষি-শিল্পের উৎপাদন বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি ইত্যাদি। পোষাক খাতে রফতানি এবং কর্মসংস্থান দুটোই বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে মোট রফতানি অয়ের ৮৩ শতাংশই আসে পোষাক খাত থেকে। (তথ্য সূত্রঃ বিবিসি বাংলা, ২১ মার্চ ২০২১)

এই উন্নয়ন শুধু কাগজে কলমে নয়, দৃশ্যমানও বটে। দেশ এখন প্রায় শতভাগ বিদ্যুতায়নের আয়তায়। এছাড়া বড় বড় অবকাঠামো, যেমন-পদ্মা ব্রিজ, রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুত প্রকল্প, বঙ্গবন্ধু টানেল, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট, উড়াল সেতু এখন আর স্বপ্ন নয়, বাস্তবের পথে। অর্থনৈতিক উন্নয়নে এই সাফল্য সম্ভব হয়েছে শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্ব আর ক্ষমতার ধারাবাহিকতা থাকায়। উন্নয়নের এই ধারা অব্যাহত থাকলে ২০৪১ সাল নাগাদ আমরা উন্নত দেশের কাতারে পৌঁছে যাব।

সুতরাং, বাংলাদেশ আজ এক গৌরবময় মর্যাদার শিখরে পৌঁছেছে। যে মানুষটির জন্য আমরা আজ এই গৌরবের অংশীদার, যিনি বাঙালি জাতিকে একটা স্বাধীন সত্বা এনে দিলেন তিনি হলেন হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। গত বছর ১৭ মার্চ ছিল এই মহানায়কের শততম জন্মদিন। তাই বছরটিকে মুজিব বর্ষ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছিল। বছরব্যাপি সরকারি বেসরকারি পর্যায়ে গ্রহণ করা হয়েছিল নানা কর্মসূচী। কিন্তু মরণ ভাইরাস করোনা সমগ্র বিশ্বকেই এক অর্থে স্থবির করে দিয়েছে। বছরাধিককাল ধরে করোনার তান্ডবে আজকের তারিখ পর্যন্ত (২৩.৩.২০২১) সারা বিশ্বে প্রায় সাড়ে ২৭ লক্ষ মানুষ (২৭ লক্ষ ৩৭ হাজার ৭৫১ জন) মৃত্যু বরণ করেছ এবং আক্রান্ত হয়েছে প্রায় সাড়ে ১২ কোটি মানুষ (১২ কোটি ৪৩ লক্ষ ৯০ হাজার ৯২১ জন)। বাংলাদেশও করোনার ভয়াল ছোবল থেকে রেহাই পাইনি। উক্ত তারিখ পর্যন্ত এখানে মারা গিয়েছে প্রায় সাড়ে ৮ হাজারের অধিক মানুষ (৮ হাজার ৭৩২ জন) এবং আক্রান্ত হয়েছে সাড়ে ৫ লক্ষাধিক মানুষ (৫ লক্ষ ৭৭ হাজার ২৪১ জন)। দেশের অর্থনীতির উপর পড়েছে এক বিরাট ধাক্কা।

ভয়াবহ এ রকম পরিস্থিতিতে মুজিব বর্ষ উপলক্ষ্যে গৃহীত সব ধরণের কর্মসূচি হয় বাতিল করতে হয়েছে অথবা সংক্ষিপ্ত করতে হয়েছে। এটাই স্বাভাবিক। যে মানুষটি তাঁর সারাটা জীবন মানব কল্যাণে উৎসর্গ করেছেন, মানবিক বিপর্যয়ের এই সময়ে তাঁর জন্ম শতবার্ষিকী জাঁকজমকভাবে পালন করলে হয়ত তাঁর আত্মা শান্তি পাবে না। আবার যিনি আমাদের জন্য এত কিছু করলেন, আমাদেরকে বিশ্ব দরবারে একটি স্বতন্ত্র সত্বায় অধিষ্ঠিত করলেন, তাঁর জন্মশতবার্ষিকীর মত একটি মাইল ফলক একেবারে নিরবে নিভৃতে পার করাটাও আমাদের জন্য হবে চরম অকৃতজ্ঞতা।

বর্তমানে করোনার প্রকোপ অনেকটাই কমেছে। মানুষ ব্যাপক হারে টিকা গ্রহণ করছে। সরকার তাই মুজিব বর্ষকে বর্ধিত কলেবরে অর্থাৎ চলতি বছরটিকেও মুজিব বর্ষ হিসেবে পালন করার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছে। মানবিক বিপর্যয়ের বিষয়টি মাথায় রেখেই সীমিত আকারে নানা কর্মসূচীর মধ্য দিয়ে মুজিব বর্ষ পালিত হচ্ছে। আর আমরা আমাদের যার যার অবস্থান থেকে দেশের জন্য কাজ করার মধ্য দিয়ে জন্মশতবর্ষে বঙ্গবন্ধুর প্রতি আমাদের সর্বোচ্চ শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করতে পারি এবং উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রেখে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়তে আমাদের প্রয়াসই হবে তাঁর প্রতি সর্বোচ্চ শ্রদ্ধা জ্ঞাপন।

লেখক : প্রভাষক সন্তোষ দাস
সরকারি ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মহিলা কলেজ
ফকিরহাট, বাগেরহাট
ই-মেইল : santoshlipi71@gmail.com