সুউচ্চ ম্যুরালে জাগ্রত বঙ্গবন্ধু

দেশের খবর ফিচার

নাহিদ হাসান, ইবি :

‘একজন মানুষ হিসেবে সমগ্র মানব জাতি নিয়ে আমি ভাবি। একজন বাঙালি হিসেবে যা কিছু বাঙালিদের সাথে সম্পর্কিত তা আমাকে গভীরভাবে ভাবায়। এই নিরন্তর সম্পৃক্তির উৎস ভালোবাসা, অক্ষয় ভালোবাসা, যে ভালোবাসা আমার রাজনীতি এবং অস্তিত্বকে অর্থবহ করে তোলে।’

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বিখ্যাত এই উক্তিটি খোদাই করে লেখা রয়েছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) স্থাপিত ‘মৃত্যুঞ্জয়ী মুজিব’ ম্যুরালে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক সংলগ্ন ৫০ ফুট উচ্চতা বিশিষ্ট দৃষ্টিনন্দন ম্যুরালটির মূল প্রতিকৃতির ডান পাশে ৪ ফুট চওড়া ও ২০ ফুট উচ্চতার একটি দেয়ালে বঙ্গবন্ধুর স্বাক্ষরসহ বাংলা ও ইংরেজিতে লিপিবদ্ধ রয়েছে উক্তিটি। বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ করতে হলে প্রথমেই নজর কাড়ে সুউচ্চ ম্যুরালটি। আর তখনই চোখ আটকে যায় বঙ্গবন্ধুর অমর এই উক্তিতে। বহুবার পড়ার পরেও শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা ম্যুরালটির দিকে তাকিয়ে চেতনা ও ভালোবাসার দীক্ষা নেন প্রতিনিয়ত।

এছাড়াও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের সামনে রয়েছে ‘মুক্তির আহবান’ ও ‘শাশ্বত মুজিব’ নামের দৃষ্টিনন্দন আরো দু’টি ম্যুরাল। ম্যুরালগুলির মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও চেতনার সাথে সাথে তাঁর জীবন ও কর্ম তুলে ধরা হয়েছে।

মুক্তির আহ্বান

২০১৮ সালের ৭ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ সমাবর্তনে রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য মো. আবদুল হামিদ ‘মৃত্যুঞ্জয়ী মুজিব’ ম্যুরালটির উদ্বোধন করেন।

সংশ্লিষ্টদের দাবি, দেশে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালগুলোর মধ্যে দ্বিতীয় বৃহত্তম এটি। রড, সিমেন্ট ও পাথরে তৈরি মুর‌্যালটির মূল স্থাপনার উচ্চতা সিঁড়িসহ ৫০ ফুট এবং প্রস্থ ৩৮ ফুট। বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতির দৈর্ঘ্য ২৬ ফুট এবং প্রস্থ ১৭ ফুট। এর তিনটি সিঁড়ি রয়েছে। প্রায় ৩৭ লাখ টাকা ব্যায়ে নির্মিত হয় ম্যুরালটি।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী জালাল উদ্দীন তুহিন যৌথভাবে ম্যুরালটির অর্থায়ন করেন। ম্যুরালটির নকশা করেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক কনক কুমার পাঠক।

এদিকে, গত বছর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের সামনে বঙ্গবন্ধুর দু’টি ম্যুরাল নির্মিত হয়। এর একটি বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণ ও ছবি সংবলিত ম্যুরাল। যার নাম ‘মুক্তির আহবান’। এর মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণকে তুলে ধরা হয়েছে। ২৩ ফুট উচ্চতা বিশিষ্ট এই ম্যুরালে সাদা পাথরে লিপিবদ্ধ রয়েছে ঐতিহাসিক ভাষণটি। এর পাশেই রয়েছে বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণের ছবি। এর বিপরিত পাশে স্থাপিত হয়েছে ১৮ ফুট উচ্চতা বিশিষ্ট ম্যুরাল ‘শাশ্বত মুজিব’। বিভিন্ন রঙের মূল্যবান পাথর দ্বারা নির্মিত হয়েছে ম্যুরালটি। এতে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে অন্নদাশঙ্কর রায় ও টেরি প্র্যাচেটের দুটি উক্তি খোদাই করা রয়েছে। মুজিববর্ষকে স্মরণীয় করে রাখতে স্থাপিত হয় ম্যুরাল দুটি।

শাশ্বত মুজিব

গত বছরের ১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীতে এর উদ্বোধন করা হয়। হল কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে দু’টি সাত লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই ম্যুরাল দু’টিরও নকশা করেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক কনক কুমার পাঠক।

ম্যুরাল নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক ড. মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘আমাদের স্বাধীকার আন্দোলন ও স্বাধীনতা সংগ্রামে বঙ্গবন্ধুর অবদানকে মনে করিয়ে দেওয়ার একটি মাধ্যম এই ম্যুরালগুলো। এর দিকে চোখ পড়লেই আমাদের মনে বঙ্গবন্ধুর চেতনা ও দর্শন ভেসে উঠে। আমরা প্রতিনিয়ত তাঁর চিন্তা ও দর্শনে উদ্বুদ্ধ হই।’

চারিদিক/সাকিব