পাঁচ সহস্রাধিক গানের গীতিকার আবু সায়েম

বিনোদন

নজরুল ইসলাম,গফরগাঁও (ময়মনসিংহ) : ময়মনসিংহের গফরগাঁও বিআরডিবি’র হিসাব কর্মকর্তা আবু সায়েম (৩০) পাঁচ সহস্রাধিক ইসলামি গান, পল্লী গীতি, দেহতত্ত্ব, আধ্যাতিক, মরমী গান রচনা ও তিন সহস্রাধিক গানের সুর করেছেন। দুই শতাধিক গানের সুর তার মুখস্ত আছে। ডায়েরীর পাতায় পাতায় লিপিবদ্ধ গানগুলো তিনি সযত্নে আগলে রেখেছেন।

বাংলাদেশ টেলিভিশনের সঙ্গীত পরিচালক ড. গোলাম সারোয়ার দু’টি গানের সুর করেছেন। কলকাতার সংগীত শিল্পী চন্দ্র ঝা মিত্র দুটি ও রিংকুর সহযোগি শিল্পী পুর্ন মিলন দু’টিসহ অনেকেই তার লেখা গান করেছেন।

জানা যায়, উপজেলার সালটিয়া ইউনিয়নের রৌহা গ্রামের আব্দুস ছোবহানের ছেলে ও স্থানীয় বিআরডিবি’র হিসাব কর্মকর্তা আবু সায়েম ১৯৯৮ সাল থেকে গান লেখার চর্চা করছেন। ঐ সময় এই প্রতিবেদকের ‘গুচ্ছ গুচ্ছ প্রেম’ নামে একটি ছন্দবদ্ধ ছড়া সংকলন পড়ে আবু সায়েমের মনে গান রচনার ইচ্ছা জন্ম নেয়। এরপর স্থানীয় শহীদ বেলাল পাঠাগারের প্রতিষ্ঠাতা সর্বজন শ্রদ্ধেয় প্রয়াত শামছুল হকের সাথে যোগাযোগ করে কবিতা ও গানের বই পড়ায় মনোযোগী হন এবং গান লেখার চর্চা করতে থাকেন।

এক পর্যায়ে নিজের লেখা গান নিজের মতো সুর করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক ও ইউটিউবে প্রকাশ করতে থাকেন। পরে অনেকেই ফেসবুকের মাধ্যমে যোগাযোগ করে তার লেখা গান নিয়ে সুর করে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে পরিবেশন করেন অথবা নিজেদের ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশ করে জনপ্রিয়তা পান। কিন্তু কেউ কখনো গানের জন্য আবু সায়েমকে টাকা দেননি। তবে এ জন্য আবু সায়েমের কোন দুঃখ নেই। নিরবে নিবৃতেই তিনি চর্চা করছেন। বই পড়া ও গানের নেশায় পড়ে বাড়িতে বইয়ের বড় একটি সংগ্রহ গড়ে তুলেছেন। অবসর সময়টা কাটে তার বইয়ের রাজ্যে।

আবু সায়েম বলেন, ‘টাকা পাইনি এতে আমার কোন দুঃখ নেই। অনেকেই আমাকে বলেছেন ঢাকায় চলে আসেন যথাযথ মূল্যায়ন পাবেন এবং গীতিকার হিসাবে প্রতিষ্ঠা পেতে পারেন। কিন্তু চাকুরী-সংসার ফেলে যাওয়াতো সম্ভব নয়। আমার ছোট একটি সন্তান আছে ঠান্ডাজনিত কারণে প্রায় সময় অসুস্থ থাকে। যতদিন বেঁচে আছি বই পড়বো আর গীত রচনা করবো। একদিন না একদিন আমার রচনার মূল্যায়ন হবেই।’

চারিদিক/এম