সরকারি পুকুরের মাটি ইটভাটায়!

যশোর জেলার খবর

অভয়নগর (যশোর) প্রতিনিধি : যশোরের অভয়নগরে নওয়াপাড়া সরকারি মহাবিদ্যালয়ের পুকুর খননের মাটি ইটভাটায় বিক্রি করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) একটি প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৩০ লাখ টাকা ব্যয়ে পুকুরটি খনন করছে। ঠিকাদার স্থানীয় এক মাটি ব্যবসায়ীর কাছে বিক্রি করছে মাটি। তার হাত ঘুরে ওই মাটি যাচ্ছে ইট ভাটায়।

উপজেলা এলজিইডির অফিস সূত্রে জানা যায়, দেশে পুকুর ও খাল উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় নওয়াপাড়া সরকারি মহাবিদ্যালয়ের পুকুর খননের উদ্যোগ নেয়া হয়। এ জন্যে ৩০ লাখ ৩৫ হাজার ৯শ’৪৬ টাকা মুল্য নির্ধারণ করে দরপত্র আহবান করা হয়। ২৮ লাখ ৮৪ হাজার ১শ’৪৮ টাকা চুক্তিমুল্যে কাজ পায় ঝিনাইদহের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স শাহরিয়ার কনষ্ট্রাকশন। ২০২০ সালের ১৬ মার্চ কাজ শুরু করার কথা থাকলেও ঠিকাদার কাজ শুরু করে ২০২১ সালেরর জানুয়ারী মাসে।

সরেজমিনে দেখা যায়, দু’টি এস্কেভেটর দিয়ে পুকুর খননের কাজ চলছে। এস্কেভেটর দিয়ে পুকুরের মাটি কেটে ট্রাক ভর্তি করা হচ্ছে। সেই মাটি দু’টি ট্রাক করে যাচ্ছে স্থানীয় ইটভাটায়। ইতোমধ্যে দুই ইটভাটায় প্রায় এক হাজার ট্রাক মাটি বিক্রি করা হয়েছে।

মাটি ব্যবসায়ী রবিউল ইসলাম জানান ‘আমি প্রতি ট্রাক মাটি ২শ’৫০ টাকায় কিনেছি। ওই মাটি ৫শ’৫০ টাকায় ইটভাটায় বিক্রি করছি। মাটি পরিবহনের কারণে রাস্তা ভেঙ্গে যাচ্ছে, যা আমি পরে ঠিক করে দেব।’

ঠিকাদার মোসাব্বের হোসেন জানান, ‘আমি মাটি বিক্রি করছি না, শুধু পুকুর খনন করছি। পুকুর পাড়ে মাটি ফেলার জায়গা নেই। তাই যে মাটি নিতে চাচ্ছে তাকে মাটি দিয়ে দিচ্ছি।’

নওয়াপাড়া সরকারি মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ রবিউল হাসান বলেন ‘কে মাটি বিক্রি করছে তা আমি জানিনা। ঠিকাদারকে বলেছি দরপত্র মোতাবেক পুকুর খনন করতে হবে। অনিয়ম হলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

অভয়নগর উপজেলা প্রকৌশলী শ্যামল কুমার বসু জানান ‘পুকুর খননের মাটি প্রতিষ্ঠানেই ব্যবহার করতে হবে। প্রতিষ্ঠানে ব্যবহার করা না গেলে প্রতিষ্ঠানই সিদ্ধান্ত নেবে মাটি কি করা হবে।’

যশোর এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মির্জা ইফতেখার আলী জানান ‘পুকুর খননের মাটি বিক্রি করা যাবে না। ঠিকাদার যদি মাটি বিক্রি করে থাকে তাহলে হিসাব করে তার বিল থেকে সেটি কর্তন করা হবে।’

চারিদিক/এম