ফাল্গুনে রঙিন ভালোবাসা

দেশের খবর ফিচার

চারিদিক ডেস্ক : যদি তারে নাই চিনি গো সে কি আমায় নেবে চিনে/এই নব ফাল্গুনের দিনে… কবিগুরুর এই বসন্ত বন্দনায় বলে দেয় মনের গহীন কোণে অতি সূক্ষ্ম যে পুলক, সে তো কেবল বসন্তই জাগাতে পারে! এই বসন্ত কুসুম কোমল প্রেম ও ভালবাসার মানুষের কাছে আসার। প্রিয়জনের মুখ চেয়ে ফাগুনের সব রঙ মেখে নজরুলের গানে গলা ধরা যায় ‘আসে বসন্ত ফুল বনে সাজে বনভূমি সুন্দরী, চরণে পায়েলা রুমুঝুমু মধুপ উঠিছে গুঞ্জরি।’

এই বসন্তে আত্মার গহিনে লুকানো ভালোবাসার কথা প্রকাশে বাঙালির মনে আলোর নাচন লেগে থাকলেও এবারের বসন্তে ভালোবাসা প্রকাশের আরেক দিন একাত্ম হয়েছে। ১৪ ফেব্রুয়ারি ভালোবাসা দিবস আর পহেলা ফাল্গুন এ দুটি দিবস একাকার হয়ে প্রজন্মের আবেগ-মমতার শিখরে পৌঁছেছে।

দিবসটি উপলক্ষে নগরজুড়ে থাকবে উৎসব অনুষ্ঠান। ফাগুনে গাছে গাছে ফুটেছে শিমুল ও পলাশ। প্রকৃতি সেজেছে বাহারি রঙে। আর নগরে বসন্ত এসেছে তরুণ-তরুণীর বেশভূষায়। এই উৎসবের আমেজই রঙিন হয়ে উঠবে ভালোবাসা দিবসও।

ভালোবাসা নামের সেই অব্যক্ত অনুভূতিকে ব্যক্ত করতে বছরের আনুষ্ঠানিক দিন- ‘ভ্যালেন্টাইন্স ডে’ বা ‘ভালোবাসা দিবস’ নতুন মাত্রা যোগ করবে বসন্ত বরণে। অনুরাগ তাড়িত প্রেমিক-হৃদয় এফোঁড়-ওফোঁড় হবে প্রেম দেবতার ইশারায়।

রোমান পাদ্রি সেইন্ট ভ্যালেন্টাইনকে ক্রিশ্চিয়ান ধর্ম প্রচারের অভিযোগে ২৭০ সালে মৃত্যুদণ্ড দেন রোমের দ্বিতীয় ক্লডিয়াস। তিনি কারাগারে বন্দি থাকার সময় ছোট ছেলেমেয়েরা তাকে ভালোবাসার কথা জানিয়ে জানালা দিয়ে চিঠি ছুড়ে দিত। বন্দি সেইন্ট ভ্যালেন্টাইন চিকিৎসা করে জেলারের মেয়ের দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দেন। এভাবে মেয়েটির সঙ্গে তার যোগাযোগ ঘটে।

মারা যাওয়ার আগে মেয়েটিকে লেখা একটি চিঠিতে তিনি জানান, ‘ফ্রম ইউর ভ্যালেন্টাইন।’ অনেকে মনে করেন, এই সেইন্ট ভ্যালেন্টাইনের নামানুসারেই প্রথম জুলিয়াস ৪৯৬ খ্রিস্টাব্দে ১৪ ফেব্রুয়ারিকে ‘সেইন্ট ভ্যালেন্টাইন্স ডে’ হিসেবে ঘোষণা করেন।

চারিদিক/এম