দিল্লির আকাশে বাংলাদেশ বাংলাদেশ ধ্বনি

দেশের খবর

‘একসাথে লড়ি, একসাথে চলি, কিংবা ‘রক্তের বাঁধনে বাঁধা বন্ধন’ এমন হাজারো চেতনার শক্ত ভিত্তিতে দাঁড়িয়ে রয়েছে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক। বিশ্বের ইতিহাসে অন্যতম সেরা বন্ধুপ্রতীম দুই দেশ। যেকোনো বিপদ আপদ ও সংকট প্রয়োজনে দুটি দেশই নিঃস্বার্থভাবে একে অন্যের পাশে নিঃসঙ্কোচে দাঁড়িয়ে যায়। ইতিহাসের পাতা উল্টালে এমন চিত্র আমরা দেখতে পাই।’

হাঁটি হাঁটি পা পা করে বাংলাদেশ ও ভারতের কুটনৈতিক সম্পর্ক এখন পাঁচ দশকের। বাংলাদেশ তাঁর স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন করবে এই ২০২১ সালে। বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতাযুদ্ধে ভারতে ছিলো অকৃত্রিম সাহায্য ও সমর্থন। তাই স্বাধীনতা সুর্বণজয়ন্তীর বছর দুটি দেশের জন্যই বিশেষ অর্থবহ। তার ধারাবাহিকতায় বছরের শুরুতেই নতুন এক ইতিহাস রচিত হলো ভারতের রাজধানী দিল্লিতে।

মঙ্গলবার (২৬ জানুয়ারি) সকলে দিল্লির বাতাসে সুরের মুর্ছনায় অনুরণিত হয়েছে ‘বাংলাদেশ, বাংলাদেশ’ ধ্বনি। ভারতের গণতন্ত্র দিবস উপলক্ষে প্রতিবছর সেখানে কুচকাওয়াজের আয়োজন করা হয়। এবার ৭২তম দিবসেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। তবে সেখানে ভিন্নমাত্রা যোগ করে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের সরব উপস্থিতি। আর সেখানেই রচিত হয় নতুন ইতিহাস।

গণতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজের অংশ হিসেবে কিছুদিন আগেই দিল্লি গিয়েছিল বাংলাদেশের ১২২ সদস্য বিশিষ্ট সশস্ত্রবাহাীনির কন্টিনজেন্ট। প্রথমবারের মতো এই জমজমাট কুচকাওয়াজে অংশগ্রহণ করবেন-তাই সেখানে প্রস্তুতিও হয়েছে বেশ। মঙ্গলবার মূল কুচকাওয়াজে বাংলাদেশ সেনা ও নৌ ও বিমান বাহিনীর সদস্যদের নিয়ে গঠিত কন্টিনজেন্টের নেতৃত্ব দেন লে. কর্নেল আবু মোহাম্মদ শাহনুর শাওন। তার ডেপুটি হিসেবে রয়েছেন লে. ফারহান ইশরাক ও ফ্লাইট লে. সাবিত রহমান।

কুচকাওয়াজে লে. কর্নেল বেনজীর আহমেদের নেতৃত্বে একটি ব্যান্ড দলও অংশ নেন। সুরের ছন্দে ‘শোন একটি মুজিবরের থেকে লক্ষ মুজিবরের কণ্ঠস্বরের ধ্বনি প্রতিধ্বনি আকাশে বাতাসে ওঠে রণি… বাংলাদেশ, আমার বাংলাদেশ’ গানের পরিবেশনা মন ছুঁয়ে গেছে দিল্লিবাসীর।

কুচকাওয়াজে সালাম গ্রহণ করেন ভারতের রাষ্ট্রপতি শ্রী রামনাথ কোবিন্দ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। মন্ত্রিসভার সদস্য, উচ্চ পর্যায়ের সরকারি ও বেসরকারি কর্মকর্তারাও মনোমুগ্ধকর কুচকাওয়াজ প্রত্যক্ষ করেন।

এদিকে কুচকাওয়াজে বাংলাদেশ সশস্ত্রবাহিনীর সদস্যদের অংশগ্রহণ ও তাদের প্রস্তুতির ছবি নিয়মিতই প্রকাশ করা হয় ঢাকাস্থ ভারতীয় হাইকমিশনের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে। এছাড়া বাংলাদেশের সশস্ত্রবাহিনী নিয়ে ভারতীয় গণমাধ্যমসহ ফেসবুক টুইটারে ছিলো ভারতীয়দের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা।

প্রসঙ্গদ, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে এই বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী তথা সেনা, নৌ ও বিমান এই তিনবাহিনী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলো।

মুক্তিযুদ্ধের সামরিক রণকৌশলকে স্মরণে রেখে আজকের কুচকাওয়াজে অংশ নেওয়া সদস্যদের ১,২,৩,৪,৮,৯,১০ ও ১১ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট ও ১,২ও৩ ফিল্ড আর্টিলারি রেজিমেন্টে ভাগ হয়ে অংশ নেন।

স্বাধীনতা যুদ্ধে বাংলাদেশ নৌবাহিনী অপারেশন জ্যাকপটের মতো ঝুঁকিপূর্ণ ও দুঃসাহসিক অভিযান সফলভাবে পরিচালনা করেছেন। সেই অপারেশনে প্রতিপক্ষের ২৬টি জাহাজ, সমুদ্র ও নৌ বন্ধর ধ্বংস করা হয়েছিল। বিমানবাহিনী কমপক্ষে ৫০টি বিমানহামলা সফলভাবে পরিচালনা করতে সক্ষম হয়েছিল। সূত্র. এনডিটিভি, টুইটার,ফেসবুক।