অসহায় এক দম্পতির পাবলিক টয়লেটে বসবাসের গল্প!

চারিদিক স্পেশাল দেশের খবর

বোয়ালমারী-আলফাডাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি।।

পৃথিবীতে কেউ দারিদ্রতা নিয়ে জন্ম নেয় না। নিয়তি কাকে কোথায় নিয়ে যায় কেউ-ই তার বলতে পারে না। তবুও জীবিকার তাগিদে তা মেনে নিতে হয়! বেঁচে থাকার জন্য মানুষ বিভিন্ন কর্ম বেছে নিয়ে মাথা গোঁজার ঠাঁই খুঁজে বেড়ায়। মানুষ বিভিন্ন আশা নিয়ে স্বপ্ন দেখে, কিন্তু সব আশা পুরন হয়না। তেমনি এক দম্পতির সন্ধান পাওয়া গেছে বোয়ালমারীর পাবলিক টয়লেটে ঘরে।সরেজমিনে দেখা গেছে,ফরিদপুরের বোয়ালমারী পৌর সদর বাজারের টিনপট্টি এলাকায় গণশৌচাগারে দিনযাপন করছে শাহাদাত হোসেন ও তার স্ত্রী নারগিস বেগম ।

শাহাদত হোসেন জানান,  আমার  বাড়ি মাগুরা জেলার মোহাম্মদপুর উপজেলার পাচুড়িয়া গ্রামে। কিন্তু  জন্মের সময় মাকে হারিয়ে ৬ বছরে বাবা কে হারিয়ে আজ বোয়ালমারী উপজেলায় কোনো রকম থাকছি। তিনি বলেন, পৈতিক সম্পদ বলে কিছু নেই। নদী গর্ভে বিলীন হয়ে দারিদ্র্যতার কষাঘাতে এবং জীবিকার তাগিদে বোয়ালমারীতে চলে এসেছি। সেই সময় থেকে কাগজ কুড়িয়ে জীবন চালিয়ে নিচ্ছি। এই ভাবে জীবনের অনেক বছর পার করি, তারপর  জীবন সঙ্গী হিসেবে স্ত্রী নার্গিসের হাত ধরে চলেছি।

জীবনের পরিবর্তন করতে পারি নাই,এর মধ্যে বোয়ালমারী পৌরসভার  মেয়র মোজাফফর হোসেন বাবলু মিয়ার সাথে পরিচয় হয়। তিনি আমাকে মাস্টার রুলে দৈনিক ১৬০টাকা বেতনে বাজার ঝাড়–দারের চাকরি দেন এবং বোয়ালমারী হ্যালিপোর্টে সরকারি জায়গায় থাকার ব্যবস্থা করেন। কিন্তু পরিবারের অন্য সদস্যদের থাকার জন্য আমি ও আমার স্ত্রী  আজ বোয়ালমারি পাবলিক টয়লেট থাকার স্থান হয়েছে।

দৈনিক বাজার ঝাড়ুর কাজ করার পর মানুষের বাড়িতে কাজ করে যা পাই তাই খাই, আবার কিনেও খাবার খাই অনেক সময় না খেয়েও দিনোপাত করি। যদি সরকারি বা বেসরকারি কোন সংগঠন আমাদের থাকার ব্যবস্থা করে দিতো, তবে জীবনের শেষ দিনগুলো শান্তিতে হইতো থাকতে পারতাম। অনেকেই আসে খোঁজখবর নিয়ে যায় কিন্তু ভাগ্যের কোন পরিবর্তন হয়না। আমার একশতাংশ জমিও নেই যেখানে আমরা একটা ঘর করে স্বামী-স্ত্রী বসবাস করবো।

শৌচাগারের পাশের হোটেল ব্যবসায়ি আব্দুর রহমানের সাথে কথা বলে যানা যায়, শাহাদত ও নার্গিস নামে স্বামী-স্ত্রী প্রায় দুই বছর যাবত পাবলিক টয়লেটের ঘরে বসবাস করে। জর্জ একাডেমি স্কুলে খন্ডকালীন কাজের তাগিদে তারা এখন ওই স্কুলে থাকা শুরু করেছেন।