অভয়নগরে সাংবাদিক দম্পতির ওপর সন্ত্রাসী হামলা, প্রধান অভিযুক্ত আটক

অপরাধ ও আইন দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল দেশের খবর যশোর জেলার খবর

অভয়নগর (যশোর) প্রতিনিধি।।

যশোরের অভয়নগরে দৈনিক সময়ের খবর অভয়নগর উপজেলা প্রতিনিধি ও নওয়াপাড়া প্রেস ক্লাবের দপ্তর সম্পাদক শাহিন আহমদ ও তাঁর স্ত্রী ইসফাত আরা আইরিনকে পিটিয়ে আহত করেছে সন্ত্রাসীরা। বুধবার (৬ জানুয়ারি) দুপুরে উপজেলার ধোপাদী গ্রামের নতুন বাজার সংলগ্ন নিজ বাড়িতে এ হামলার ঘটনা ঘটে।

আহত সাংবাদিক ও তাঁর স্ত্রীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার সাথে জড়িত ধোপাদী গ্রামের মৃত আব্দুর রাজ্জাক সরদারের ছেলে এস এম রিপন (৩৫) নামে এক সন্ত্রাসীকে আটক করেছে পুলিশ।

চিকিৎসাধীন সাংবাদিক শাহিনের স্ত্রী জানান, বুধবার দুপুরে তাদের ৮ বছর বয়সি কন্যা তাছনিয়ার সঙ্গে প্রতিবেশী এস এম রিপনের শিশুর বিবাদ হয়। এরই জের ধরে আনুমানিক বেলা সোয়া ২ টার সময় রিপন ও তাঁর স্ত্রী হীরা বেগম এবং তাদের সহযোগি একই গ্রামের আমিনুরের স্ত্রী ফরিদা বেগম তাদের বাড়িতে আসে। এসময় তারা অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করলে তার স্বামী প্রতিবাদ করে। এক পর্যায়ে রিপন তাঁর হাতে থাকা মোটা কাঠের লাঠি দিয়ে আমার স্বামীকে পেটাতে শুরু করলে অপর দুই নারীও লাঠি দিয়ে পেটাতে থাকে। ঠেকাতে গেলে তারা তাকেও পিটিয়ে জখম করে এবং পরিবারের সকলকে হত্যার হুমকি দিয়ে চলে যায়। পরে প্রতিবেশীরা রক্তাক্ত জখম অবস্থায় তাকে ও তার স্বামীকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। রাতে অভয়নগর থানায় হামলাকারী তিনজনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।

চিকিৎসাধীন সাংবাদিক ও তাঁর স্ত্রীর শারীরিক অবস্থার বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিক্যাল অফিসার ডা. সাদিয়া জাহান বলেন, সাংবাদিকের মাথা ও নাকে আঘাত করা হয়েছে। প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছে। শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তিনি শঙ্কামুক্ত কিনা তা ২৪ ঘন্টা পর বলা যাবে। সাংবাদিকের স্ত্রীর মাথায় আঘাতের চিহ্ন আছে, তিনি শঙ্কামুক্ত।

এ ব্যাপারে অভয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তাজুল ইসলাম জানান, সাংবাদিক ও তাঁর স্ত্রীকে নির্মমভাবে পিটিয়ে আহত করা হয়েছে। যা অত্যন্ত ঘৃণার কাজ। অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা হয়েছে। প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য দুই আসামি পলাতক আছে।

নওয়াপাড়া প্রেস ক্লাবের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নজরুল ইসলাম মল্লিক জানান, দপ্তর সম্পাদক শাহিন আহমেদ ও তাঁর স্ত্রীকে হত্যার উদ্দেশ্যে মারপিট করা হয়েছে। প্রেস ক্লাবের পক্ষ থেকে হামলাকারী সন্ত্রাসীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করা হচ্ছে।