নানা অভিযোগের মুখোমুখি সহকারী প্রোগ্রামার প্রাচী !

অপরাধ ও আইন দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল দেশের খবর যশোর জেলার খবর

অভয়নগর (যশোর) প্রতিনিধি।।

সহকারী প্রোগ্রামার উত্তরা শতুদ্রূ প্রাচী অভয়নগর উপজেলায় যোগদানের পর থেকে কর্মস্থলে অধিকাংশ সময় অনুপস্থিত থাকতেন। অনুপস্থিত থাকার কারণে নোটিশ প্রদান করলে কর্মকর্তার বিরুদ্ধে করেন নিপীড়নের অভিযোগ।যার পরিপ্রেক্ষিতে স্ট্যান্ডরিলিজ হয়েছেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন (পিআইও) কর্মকর্তা শরিফ মোহাম্মদ রুবেল এবং তদন্ত শুরু হয়েছে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নাজমুল হুসেইন খাঁনের বিরুদ্ধে। পিআইও’র কর্মকান্ডে বিব্রত উপজেলা প্রশাসন। কিন্তু ইউএনও’র বিরুদ্ধে অভিযোগ মেনে নিতে পারছেননা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানসহ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ। তারা সরাসরি অবস্থান নিয়েছেন সহকারী প্রোগ্রামার উত্তরা শতুদ্রূ প্রাচীর বিরুদ্ধে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০১৯ সালে উত্তরা শতুদ্রূ প্রাচী সহকারী প্রোগ্রামার হিসেবে বাগেরহাট জেলার মোংলা উপজেলায় যোগদান করেন। যোগদানের পর থেকে কর্মস্থলে অনুপস্থিতির কারণে তৎকালিন মোংলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বর্তমান জয়পুরহাট জেলা এডিসি (রাজস্ব) মো. রাহাত মান্নান কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করেন। প্রথম নোটিশ ২০১৯ সালের ২১ আগস্ট,যারস্মারক নং-৬০৭।

দ্বিতীয়টি একই বছরের ১৪ অক্টোবর। যার স্মারক নং-৭৮৯। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন সহকারী প্রোগ্রামার উত্তরা শতুদ্রূ প্রাচী। আটতে থাকেন ষড়যন্ত্র। বিষয়টি ফাঁস হওয়ার পূর্বেই বাগেরহাট জেলা প্রশাসক মামুনুর রশিদের সহযোগিতায় তাঁকে বদলি করা হয় ঢাকা আগারগাঁও আইটি কার্যালয়ে।পরবর্তীতে ২০২০ সালের মার্চ মাসে সহকারী প্রোগ্রামার হিসেবে অভয়নগরে যোগদান করেন উত্তরা শতুদ্রূ প্রাচী। যোগদানের পর থেকে সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে প্রায় সময় কর্মস্থলে থাকতেন অনুপস্থিত।

সরকারি কার্যক্রম বাধাগ্রস্থ হওয়ায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাকে বার বার মৌখিকভাবে শতর্কের পাশাপাশি কারণ দর্শানোর নোটিশ করেন। এবং যথা সময় কার্যালয়ে উপস্থিত থেকে বিধি মোতাবেক কার্যক্রম করার নির্দেশনা দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে সহকারী প্রোগ্রামার (এপি) গত ২২ ডিসেম্বর কর্মক্ষেত্রে নিপীড়ন ও প্রাণনাশের হুমকির বিষয়ে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা এবং নির্বাহী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সাতটি বিষয় তুলে ধরেন।

পরবর্তীতে আইসিটি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা শরিফ মো. রুবেলকে ক্লোজড করা হয়। যশোর জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নির্বাহী কর্মকতার বিরুদ্ধে শুরু হয় তদন্ত।

অপরদিকে গত ২৪ ডিসেম্বর নারী কর্মকর্তার (এপি) বিরুদ্ধে পাঁচটি বিষয় তুলে ধরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পাল্টা অভিযোগ করেন তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর। জানা গেছে, উত্তরা শতুদ্রূ প্রাচী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া করার সময় উশৃঙ্খলতার কারণে বহিস্কৃত হন। পরবর্তীতে তিনি ভারতে চলে যান।

সার্বিক বিষয়ে উত্তরা শতুদ্রূ প্রাচীর মুঠোফোনে কথা হলে তিনি জানান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এক বছর লেখাপড়া করেছি। বহিস্কৃত হয়নি। স্কলারশিপ নিয়ে ভারতে যায়। মোংলা ও অভয়নগর উপজেলায় থাকাকালিন আমার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ সঠিক নয়।

অভয়নগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নাজমুল হুসেইন খাঁন জানান, সহকারী প্রোগ্রামার উত্তরা শতুদ্রূ প্রাচী আমার বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যমূলকভাবে যে অভিযোগ করেছে তা সত্য নয়।

এ ব্যাপারে অভয়নগর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহ্ ফরিদ জাহাঙ্গীরের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, কর্মস্থলে অনুপস্থিত ও সরকারি কাজে অসহযোগিতা করতেন সহকারী প্রোগ্রামার উত্তরা শতুদ্রূ প্রাচী। আমার সামনে ইউএনও তাকে বার বার মৌখিকভাবে শতর্ক করেছেন। পরবর্তীতে তিনবার কারণ দর্শানোর নোটিশ করেন। কর্মস্থলে অনুপস্থিত, সরকারি কাজে অসহযোগিতা ও নোটিশ প্রদান করায় ক্ষিপ্ত হয়ে উত্তরা শতুদ্রূ প্রাচী ইউএনও’র বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যমূলকভাবে অনৈতিক অভিযোগ করেছেন।