মাস্ক ব্যবহারে সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষিত গফরগাঁওয়ে

অপরাধ ও আইন দেশের খবর

গফরগাঁও (ময়মনসিংহ)প্রতিনিধি।।

ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে মাস্ক ব্যবহারে সরকারি নির্দেশনা সব জায়গায় উপেক্ষিত হচ্ছে। সরকারি-বেসরকারি অফিস, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, হাট-বাজার, রাস্তা-ঘাট, গাড়ির স্ট্যান্ড সহ সব জায়গায় মাস্ক ছাড়া ও স্বাস্থ্যবিধি অমান্য করে মানুষ অবাধে চলাচল করছেন।

করোনার দ্বিতীয় ঢেউ সামলাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সতর্কতার প্রেক্ষিতে মন্ত্রী পরিষদের মাঠ প্রশাসন সংযোগ অধিশাখা থেকে গত ৩ নভেম্বর এ সংক্রান্ত নির্দেশনা মূলক চিঠি প্রেরণ করা হয়। ফলে মাঠ প্রশাসন দেশব্যাপী, ‘নো মাস্ক নো সার্ভিস’ জনসচেতনতামূলক প্রচারণা ও ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে মানুষকে মাস্ক পড়তে, স্বাস্থ্যবিধি মানতে বাধ্য করছেন।

কিন্তু গফরগাঁওয়ের মাঠ প্রশাসন এ ব্যাপারে খুবই উদাসীন। সরকারি-বেসরকারি অফিসগুলোতে কোথাও ‘নো মাস্ক নো সার্ভিস’ লেখা ষ্ট্রিকার থাকলেও কেউ মানছেন না। সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নে উপজেলা প্রশাসন ও থানা প্রশাসনের নেই কোন পদক্ষেপ। নেই ভ্রাম্যমান আদালতের কার্যক্রম। পরিস্থিতি যেন প্রাদুর্ভাবের পূর্বের অবস্থায় চলে গেছে। এ অবস্থায় গফরগাঁওয়ে করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রথম ঢেউ বা প্রাদুর্ভাবের শেষ পর্যায়ে করোনা সংক্রমণ অনেকটাই নিয়ন্ত্রনে ছিল।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দৈনিক একজন বা দুইজন নমুনা দিতে আসতেন। কোনদিন কেউ আসতেন না। কিন্তু স্বাস্থ্যবিধি না মানায় ও মাস্ক ব্যবহার না করায় দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হওয়ার পর থেকে সংক্রমণ বৃদ্ধি পেয়েছে। বৃহস্পতিবার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষ ১৭ জনের নমুনা ময়মনসিংহ বিশেসায়িত এসকে হাসপাতালে প্রেরণ করেছেন। এর মধ্যে দুইজনের পজিটিভ আসে। সংক্রমনের আশংকা ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে।

গফরগাঁও থানার অফিসার ইনচার্জ অনুকুল সরকার বলেন, এ বিষয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে কথা বলে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাইনুদ্দিন খান বলেন, ভ্যাকসিন না আসা পর্যন্ত মাস্ক পড়া ও স্বাস্থ্যবিধি মানাই করোনা থেকে বাঁচার একমাত্র উপায়। করোনার প্রাদুর্ভাবের সময় সবার মধ্যে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা ছিল। করোনার ভয়াবহতা ও স্বাস্থ্যবিধি বিষয়ে সচেতনতামূলক প্রচারণা ছিল। তাতে করোনা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়েছে। আবার সেই প্রচারণা দরকার।

উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) ও ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী অফিসার কাবেরী রায় বলেন, স্যার (নির্বাহী অফিসার) ট্রেনিংয়ে চলে যাওয়ায় আমাকে দুটি দপ্তর সামলাতে হচ্ছে। এ জন্য অফিস থেকে বের হতেই পারছিনা। তবে ২৯ নভেম্বর মাস্ক পড়া ও স্বাস্থ্যবিধি বিষয়ক একটি ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচারণা ও ভ্রাম্যমান আদালতের কার্যক্রম শুরু করবো।