শরণখোলায় জনতার মুখোমুখি প্রতিদ্বন্দি তিন প্রার্থী

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল দেশের খবর রাজনীতি

মহিদুল ইসলাম,শরণখোলা (বাগেরহাট)।।
এক মঞ্চে উঠে মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজমুক্ত সমাজ গড়ার অঙ্গীকার করেছেন বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলা পরিষদের উপ-নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দি তিন প্রার্থী। বুধবার (১৪ অক্টোবর) উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে ‘সংঘাত নয়, ঐক্যের বাংলাদেশ গড়ি’ প্রতিপাদ্যের আলোকে ‘জনতার মুখোমুখি’ অনুষ্ঠানে আওয়ামীলীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টি মনোনিত প্রার্থীরা এই অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

দি হাঙ্গার প্রজেক্টের সহযোগীতায় শরণখোলা সর্বদলীয় সম্প্রীতি উদ্যোগের আয়োজনে অনুষ্ঠিত ‘জনতার মুখোমুখি’ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সরদার মোস্তফা শাহিন। এদিন সকাল ১১টা থেকে প্রায় তিন ঘন্টা ধরে চলা অনুষ্ঠানের সঞ্চালনা করেন সর্বদলীয় সম্প্রীতি উদ্যোগের উপজেলা সমন্বয়কারী ও প্রেসক্লাবের সভাপতি ইসমাইল হোসেন লিটন এবং দি হাঙ্গার প্রজেক্ট খুুলনার আঞ্চলিক সমন্বয়কারী মাসুদুর রহমান রঞ্জু।

প্রশ্নত্তোর পর্বে আওয়ামীলীগ মনোনিত প্রার্থী রায়হান উদ্দিন শান্ত বলেন, শক্তি প্রয়োগ করে মাদক নির্মূল করা সম্ভব নয়। ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার প্রসার ঘটাতে পারলেই কেবলমাত্র এই ব্যাধী থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও দখলবাজদের নিয়ে আমি রাজনীতি করতে চাইনা। আমি নির্বাচিত হলে সবার সহযোগিতায় ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠা এবং সন্ত্রাসমুক্ত একটি পরিচ্ছন্ন শরণখোলা জনগণকে উপহার দিতে চাই।
বিএনপি মনোনিত প্রার্থী মতিয়ার রহমান খান বলেন আমি নির্বাচিত হই বা না হই শরণখোলার উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণে সব সময় ছিলাম এবং ভবিষ্যতেও এই ধারা অব্যাহত থাকবে। জনগণ যাকে নির্বাচিত করবে ভালো কাজে আমি তার সহযোগিতা করবো।

জাতীয় পার্টি মনোনিত প্রার্থী অ্যাডভোকেট শহিদুল ইসলাম বলেন জনগণ যদি আমাকে নির্বাচিত করেন তাহলে সুন্দরবন কেন্দ্রীক ইকোট্যুরিজম পার্ক বাস্তবায়নে উদ্যোগ গ্রহন, কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে মাদক সেবীদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনা এবং প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের নৈতিক শিক্ষা বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহন করা হবে।

ব্যাতিক্রমী এই অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন, শরণখোলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইদুর রহমান, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান হাসানুজ্জামান পারভেজ ও উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা অঞ্জন সরকার।
প্রতিদ্বন্দি তিন প্রার্থীই শরণখোলায় শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য একটি মাদমুক্ত সমাজ গঠনে ঐক্যমত পোষণ করেন। জনতার মুখোমুখি অনুষ্ঠানে নারী ভোটার, নতুন ভোটার, শ্রমজীবি, পেষাজীবি, শিক্ষক, সাংবাদিক, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহন করেন।