ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন গফরগাঁয়ের এক  ভ্যান চালক !

অপরাধ ও আইন দেশের খবর

নজরুল ইসলাম,গফরগাঁও (ময়মনসিংহ)।।

ময়মনসিংহের গফরগাঁও বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের লোকজনের অনিয়ম-গাফিলতির কারনে প্রায় তিন লাখ টাকার বকেয়া বিলের মামলা মাথায় নিয়ে পরিবার পরিজন ফেলে গ্রেফতার আতঙ্কে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন সজল মিয়া নামে এক অসহায় ভ্যান চালক। উপজেলার পাঁচবাগ ইউনিয়নের লামকাইন গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে।

জানা যায়, উপজেলার পাগলা থানাধিন পাঁচবাগ ইউনিয়নের লামকাইন গ্রামের মৃত ইদ্রিস আলীর ছেলে সজল মিয়া নিজ বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য স্থানীয় বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের নির্ধারিত ফরমে ২০১৬ সালের ১২ জুলাই আবেদন করেন। বিধি অনুযায়ী ব্যাঙ্ক ডিমান্ড জমা দেওয়ার পর তার নামে ৮০৬২৯৮ নম্বর মিটার অনুমোদন দেওয়া হয়। কিন্তু নির্বাহী প্রকৌশলীর স্বাক্ষরযুক্ত ডিমান্ড ফরমে অফিসের স্টোর কিপার দেলোয়ার হোসেন স্বাক্ষর দিয়ে ওই মিটার নম্বর কেটে ব্যবহার করা ১৭৮৮৬১ নম্বর মিটার লিখে দেন। পরে সজল মিয়ার বাড়িতে এই মিটার লাগানোর হয়। কিন্তু লাগানোর সময় মিটার রিডিং ছিল ১১৮৮৬ ইউনিট। অন্যদিকে সজল মিয়ার নামে অনুমোদনকৃত ৮০৬২৯৮ নম্বরের মিটারটি কোন ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানে ব্যবহার করায় ঐ মিটারের উচ্চ হারের বকেয়া বিল সজল মিয়ার নামে আসতে থাকে। তবে সজল মিয়ার বাড়িতে ব্যবহার করা মিটারের বিল সে পায়নি। এ অবস্থায় সজল স্থানীয় বিদুৎ অফিসে বারবার যোগাযোগ করেও কোন সমাধান পাননি। যার কাছে প্রতিকার চাইতে চান- সমাধানের কথা বলে তার কাছে মোটা অংকের টাকা দাবি করেন। ২০১৯ সালে ময়মনসিংহ জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে সজল মিয়ার নামে অনুমোদনকৃত ৮০৬২৯৮নম্বর মিটারের বকেয়া বাবদ ১ লাখ ৮০হাজার টাকার মামলা হয়। মামলা নম্বর ১৬৪৪/১৯। নিরুপায় হয়ে সজল মিয়া ধার-দেনা করে ১২ হাজার টাকা খরচ করে আদালত থেকে অগ্রিম জামিন নেন। বর্তমানে সজল মিয়ার নামে তার জন্য অনুমোদনকৃত ওই বিদ্যুৎ মিটারের বকেয়া জমেছে প্রায় ২ লাখ ৯৭ হাজার টাকা।

সজল মিয়া হত দরিদ্র একজন ভ্যান চালক। ভ্যান গাড়ি চালিয়ে যা আয় করেন তাই দিয়ে কোন রকমে সংসার চলে। বসত ভিটা ছাড়া কোন সম্পদ নাই যে বিক্রি করে এই বিপদ থেকে মুক্ত হবে। এখন ‘পুলিশ আসছে’ শুনলেই সজল মিয়া ভয়ে ঘর বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যান। ভ্যান চালক সজল মিয়া বলেন, ‘আমিতো কোন অপরাধ করছি না। কেল্লাইগা যে এই বিপদে পড়লাম আল্লাই জানে’।

পৌর শহরের এক ব্যবসায়ী বলেন, সজল মিয়া একজন হত দরিদ্র ভ্যান চালক। কয় টাকাই বা কামাই করেন! অথচ বিদ্যুৎ বিভাগের দায়িত্ব জ্ঞানহীনতার কারনে তিনি প্রায় তিন লাখ টাকার মামলা মাথায় নিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। এটা বাংলাদেশেই সম্ভব!!

গফরগাঁও বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের স্টোর কিপার দেলোয়ার হোসেনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কোন সমস্যা নাই। অনুমোদনকৃত মিটারটি নষ্ট ছিল বলে অন্য মিটার দেওয়া হয়েছে। অফিসে যোগাযোগ করলেই ঠিক হয়ে যাবে।

গফরগাঁও বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোফাজ্জল হোসেনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিষয়টি আদালতের বিচারাধিন থাকায় এ বিষয়ে আমার মন্তব্য করা ঠিক হবেনা।