শ্রীলঙ্কা সফর স্থগিত নিয়ে যা বললেন ক্রিকেটাররা

খেলার খবর

চারিদিক স্পোর্টস।।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরার সময় দীর্ঘ হচ্ছে বাংলাদেশের। সেই মার্চের মাঝমাঝি থেকে খেলার বাইরে তামিম-মুশফিকরা। একের পর এক আন্তর্জাতিক সিরিজ স্থগিত হওয়ার পর ক্রিকেটাররা আশায় ছিলেন শ্রীলঙ্কা সিরিজে ফিরবেন মাঠে। কিন্তু শ্রীলঙ্কা সরকারের কোয়ারেন্টিন শর্তে শেষ পর্যন্ত স্থগিত হয়ে গেছে তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজ। তাতে মাঠে ফিরতে না পারায় যেমন হতাশা আছে, তেমনি ভালো দিকও দেখছেন ক্রিকেটাররা।

অভিষেকে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে রাতারাতি তারকা বনে যাওয়া তাসকিনের মুদ্রার উল্টো পিঠ দেখতেও সময় লাগেনি। নিত্যসঙ্গী হয়ে ওঠা ইনজুরির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে প্রতিনিয়ত চেষ্টা করে যাচ্ছেন ক্যারিয়ার গোছানোর। ২০১৮ সালের মার্চে খেলেছেন সর্বশেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ওই ম্যাচের পর পেরিয়ে গেছে আড়াই বছর। কিন্তু ফর্মহীনতা ও ইনজুরি মিলিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আর ফেরা হয়নি তাসকিনের। গত বিপিএলে ছন্দময় বোলিংয়ে জাতীয় দলের দরজায় কড়া নাড়লেও ইনজুরি সেই সম্ভাবনা শেষ করে দেয়।  শ্রীলঙ্কা সফরের আগে নিজেকে ভালোভাবেই প্রস্তুত করছিলেন তাসকিন। কিন্তু দুর্ভাগ্য, স্থগিত হয়ে গেছে সফরটি।

তাসকিন অবশ্য নিয়তি মেনে নিচ্ছেন, বলেছেন, ‘স্থগিত হওয়ার খবরটি শুনে একটু খারাপ লাগছে। সৃষ্টিকর্তা সেরা পরিকল্পনাকারী। তার ওপর আস্থা রাখতে হবে। আমি ক্যারিয়ার থেকে এটাই শিখেছি, হতাশ হওয়া যাবে না। তবে এমন একটা সময় শ্রীলঙ্কা সিরিজটা স্থগিত হলো, যখন আমি নিজেকে অনেকটাই গুছিয়ে ফেলেছিলাম। খুব আশায় ছিলাম মাঠে ফিরবো, অনেকদিন ধরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে খেলছি না। আমার জন্য খানিকটা হতাশারই বিষয়টি।’

লকডাউনে ফিটনেস নিয়ে ঘাম ঝরানোর প্রতিফলন দেখা যাচ্ছিল তাসকিনের বোলিংয়ে। গত কিছুদিন ধরে চলা অনুশীলনে ভয় ছড়ানো বোলিংয়ে কাবু করেছেন ব্যাটসম্যানদের। উন্নতির ধারা ধরে রেখে নিজেকে প্রস্তুত রাখতে চান ২৫ বছর বয়সী পেসার, ‘সামনে আরও সুযোগ আসবে। আমি আমার প্রস্তুতি অব্যাহত রাখবো। সবসময় নিজেকে প্রস্তুত রাখবো। অতীত অভিজ্ঞতা থেকে এটাই আমার অন্যতম শিক্ষা। আগে যে ভুল করেছি সেটা যেন আর না হয়।’

ভারতের বিপক্ষে সর্বশেষ টেস্ট খেলেছেন ইমরুল কায়েস। স্কিল অনুশীলনের ক্যাম্পে থাকা বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান যারপরনাই হতাশ, ‘মাঠে ফেরার স্বপ্ন নিয়ে অনুশীলন শুরু করেছিলাম। কিন্তু সেটা হয়নি দেখে খারাপ লাগছে। এছাড়া আমি বেশ কিছুদিন ধরে দলের বাইরে ছিলাম। ফলে আমার জন্য শ্রীলঙ্কা সফরটি বাড়তি মোটিভেশন ছিল। তবে যেটা হয়েছে খারাপ হয়নি। কেননা কোনও ক্রিকেটারের পক্ষে ১৪ দিন কোয়ারেন্টিনে থেকে মাঠে খেলা সম্ভব নয়। আমাদের স্কিল ক্যাম্পও অব্যাহত থাকবে। এছাড়া শুনেছি ঘরোয়া ক্রিকেট শুরু হবে। শুরু হলে তো ভালোই, মাঠে ফেরা সম্ভব হবে।’

টেস্টে নিয়মিত মুখ হয়ে উঠেছেন মোহাম্মদ মিঠুন। ধীরে ধীরে ব্যাটে ধারাবাহিকভাবে রানও আসছে তার।  শ্রীলঙ্কা সফর না হওয়াতে হতাশা থাকলেও একদিক দিয়ে খুশিও ২৯ বছর বয়সী ডানহাতি ব্যাটসম্যান। সেটা কেমন? তার মুখেই শুনুন, ‘অনুশীলনের পুরোটা সময় আমরা দ্বিধায় ছিলাম। সবার মধ্যেই সিরিজ হবে কি হবে না, এই নিয়ে ভাবনা ছিল। মাথায় পরিষ্কার কোনও লক্ষ্য না থাকলে আসলে নিখুঁত কিছু হয় না। আমার দৃষ্টিতে সিরিজটা স্থগিত হয়ে একঅর্থে ভালোই হয়েছে। ১৪ দিন কোয়ারেন্টিন মেনে কোনও ক্রিকেটারের পক্ষেই খেলা সম্ভব নয়।’

২২ বছর বয়সী ব্যাটসম্যান নাজমুল হোসেন শান্ত  স্কিল অনুশীলনে বেশ ছন্দেই ছিলেন, সিরিজ স্থগিতে তারও মন খারাপ, ‘মাঠে ফেরার আকাঙ্ক্ষা ছিল। কিন্তু সিরিজ স্থগিত হওয়াতে হতাশা কিছুটা আছে।’ হতাশ হলেও এখন ঘরোয়া ক্রিকেটে ফেরার অপেক্ষায় নাজমুল, ‘ঘরোয়া ক্রিকেট শুরু হলে অবশ্যই ভালো হবে। অনেকদিন খেলা নেই। আমরা যারা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলছি, কেবল তাদের জন্যই নয়, যারা ঘরোয়া ক্রিকেটের ওপর নির্ভরশীল, তাদের জন্যও অনেক ভালো হবে।’

প্রথমবারের মতো টেস্টের প্রাথমিক দলে সুযোগ পেয়ে দারুণ উচ্ছ্বসিত ছিলেন মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। কিন্তু  সিরিজ স্থগিত হওয়ার খবরে মন ভেঙে গেছে বয়সভিত্তিক ক্রিকেট থেকে উঠে আসা এই তরুণের, ‘হয়তো টেস্ট খেলা হতো না। তবুও টেস্ট দলের সঙ্গে থাকাটা দারুণ ব্যাপার হতো। কিন্তু সিরিজটি না হওয়ায় ভীষণ খারাপ লাগছে। তারপরও সিদ্ধান্ত যেটা হয়েছে হয়তো ভালোর জন্যই হয়েছে। এ বছর সিরিজটি না হলে সুবিধাজনক সময়ে নিশ্চিতভাবেই হবে। এই মুহূর্তে যা করছিলাম, সেটা নিয়েই আরও ভালো করে কাজ করবো।’

-বাংলা ট্রিবিউন