সড়ক নয়,যেন মেঠোপথ!

চারিদিক স্পেশাল দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল দেশের খবর যশোর জেলার খবর

মাসুদ তাজ,অভয়নগর (যশোর)।।

‘সড়কের মধ্যে পণ্যবাহী একটি ট্রাক কাদায় পরিপূর্ণ গর্তে আটকা পড়েছে। মালামাল আনলোড করে ট্রাকটি গর্ত থেকে উঠানোর চেষ্টা করছেন কয়েকজন। ট্রাকের একজন শ্রমিক খিস্তি দিয়ে কি যেন বলছে। অবশ্য কাছে গিয়ে জানা গেল তার এই খিস্তির কারন! এমন দৃশ্য যে নতুন-তা নয়। প্রতিদিনই এমন দূর্ভোগের শিকার হন এ সড়কে চলাচলকারীরা’।

যশোরের অভয়নগরের শংকরপাশা-আমতলা সড়কের এমন বেহালদশা যেন দেখার কেউ নেই’! খানা-খন্দ ও কাদায় পরিপূর্ণ সড়কের ১৮ কিলোমিটার এখন জনদুর্ভোগে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। তাই দ্রুত সংস্কারের দাবি ভুক্তভোগি এলাকাবাসীর।

জানা গেছে, উপজেলার শ্রীধরপুর ইউনিয়নের শংকরপাশা ফেরিঘাট থেকে সিদ্ধিপাশা ইউনিয়নের আমতলা বাজার পর্যন্ত সড়কটি স্বাধীনতার পর এলজিইডি নির্মাণ করে। প্রতিদিন কয়েক হাজার মানুষ ও যানবাহন চলাচলের  এ সড়কটি উপজেলার শ্রীধরপুর, বাঘুটিয়া, শুভরাড়া ও সিদ্ধিপাশা ইউনিয়নে সাথে যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম। এছাড়া নড়াইল জেলার সাথেও সংযুক্ত আছে সড়কটি।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সড়কের শুরু থেকে প্রায় ১৮ কিলোমিটার পর্যন্ত খানা-খন্দ। কিছু কিছু স্থানে পিচের উপর ইটের সোলিং করা হয়েছে। কর্দমাক্ত পিচঢালা সড়কটি যেন গ্রামের মেঠোপথে পরিণত হয়েছে। সড়কে মধ্যে পণ্যবাহী ট্রাকসহ ছোট-বড় যানবাহন প্রায়-ই আটকা পড়ে কাদায় পরিপূর্ণ গর্তে। আর বৃষ্টি হলেতো মহাবিপদ হয়ে দাঁড়ায়।

আটকা পড়া পণ্যবাহি ট্রাকের চালক আব্দুর রহিম বলেন, কয়েকদিন আগে ট্রাকের তিনটি স্প্রিংপাতি পাল্টাতে হয়েছে। চলাচলের অনুপযোগী হওয়ায় মালিক এই সড়কে চলাচল করতে নিষেধ করেছেন। তবুও পেটের দায়ে এসেছি-বলছিলেন অসহায় আবÍদুর রহিম।

শংকরপাশ গ্রামের বাসিন্দা ও নওয়াপাড়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোজাফ্ফার আহমেদ জানান,প্রায় পাঁচ বছর আগে এই সড়কে সংস্কার কাজ হয়েছিল। এরপর জনপ্রতিনিধি ও এলজিইডি কর্তৃপক্ষের আশ্বাস ছাড়া  সংস্কারের কোন অগ্রগতি চোখে পড়েনি। জনদুর্ভোগ থেকে পরিত্রাণ পেতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।স্থানীয় শ্রীধরপুর ইউপি চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী বলেন,‘ শংকরপাশা-আমতলা সড়ক মেরামতের জন্য এমন কোন দপ্তর নেই যোগাযোগ করিনি। এখন আল্লাহ’র উপর ছেড়ে দিয়েছি। প্রতিদিন দুর্ঘটনা, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগী নিতে চরম বিড়ম্বনাসহ বিভিন্ন সমস্যার এই সড়ক এখন চার ইউনিয়নবাসীর জন্য অভিশাপে পরিণত হয়েছে। সরকারের সুদৃষ্টি প্রয়োজন।

বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলা প্রকৌশলী কামরুল ইসলাম সরদারের সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি জানান, শংকরপাশা-আমতলা সড়ক সংস্কারের টেÐার হয়েছে। প্রায় ২৪ কোটি টাকার কাজ দ্রুত সময়ের মধ্যে শুরু হবে।