বাঘারপাড়ায় ভুয়া সমিতির কর্মকর্তা আটক : টাকা ফেরত পেতে কয়েকশ’ নারী-পুরুষ থানায়

অপরাধ ও আইন দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল দেশের খবর যশোর জেলার খবর

স্টাফ রিপোর্টার।।

যশোরের বাঘারপাড়ায় সূর্যের আলো সমবায় সমিতি লিঃ নামে একটি এনজিও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে গ্রাহকের  প্রায় ২০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে উঠেছে। এ অভিযোগে শুক্রবার বিকেলে সমিতির কথিত ম্যানেজার আসলামকে বাঘারপাড়ার নিয়ে আসে পুলিশ। এ খবর সর্বত্র ছড়িয়ে পড়লে থানায় জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করেন ভুক্তভোগি কয়েকশ নারী-পুরুষ। এ সময় বিচারের আশ্বাস দিয়ে তাদের নিবৃত করেন থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ আল মামুন। প্রতারক আসলাম বাসুয়াড়ী ইউনিয়নের শ্রীরামপুর গ্রামের লিয়াকত আলীর ছেলে।

জানাগেছে গত দুই মাস ধরে বাঘারপাড়া চৌরাস্থার হাজি সুপার মার্কেটের দ্বিতীয় তলায় জননী কম্পিউটার রুমের একাংশ ভাড়া নিয়ে সমিতির কার্যক্রম শুরু করে প্রতারক চক্র। মাসিক ৮ হাজার টাকা বেতনে গোপনে ১০ মহিলা কর্মী নিয়োগ দিয়ে উপজেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সাধারণ মানুষকে ঋণ দেওয়ার  নামে কয়েক লাখ টাকা হাতিয়ে নেয় এই সমিতি। কর্মীদের ৮ হাজার টাকা বেতনের কথা বলা হলেও প্রথম মাসে দেওয়া হয় ৫ হাজার টাকা। প্রতারণার বিষয়টি জানতেন না নিয়োগ পাওয়া কর্মীরা।

এদিকে হতদরিদ্র গ্রাহকরা ঋণের আশায় টাকা লগ্নি করে বেকায়দায় পড়েছেন। নারিকেলবাড়িয়া ইউনিয়নের শ্রীরামপুর গ্রামের মুনছুর আলীর স্ত্রী পান্না খাতুন ৫ হাজার টাকা দিয়েছিলেন ৫০ হাজার টাকা ঋণ পাওয়ার আশায়। আগামী রোববার তাকে ঋণ দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এর আগেই ফাঁস হয় প্রতারণার বিষয়। একই গ্রামের কাসেদ আলীর স্ত্রী পারিনা খাতুন ৩০ হাজারের জন্য দিয়েছিলেন ৩ হাজার ১০০ টাকা। উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের গৃহবধু শামছুন নাহার ১০ হাজার টাকা দিয়েছিলেন ১ লাখ টাকা ঋণ পাওয়ার আশায়।কিন্তু সমিতির প্রতারণার খবরে থানায় এসে কাঁন্নায় ভেঙ্গে পড়েন তিনি। মুনসুরা আর সাহিদা নামে দুগৃহবধু প্রত্যেকে ২০ হাজার টাকা দিয়েছিলেন ২ লাখ টাকা ঋণ পাওয়ার আশায়। সূর্যের আলো সমবায় সমিতির প্রতারণা ফাঁস হওয়ায় তারা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।

এদিকে প্রতারণর বিষয়টি জানতেন না নিয়োগ পাওয়া ১০ নারী কর্মী। তাদেরকে ৮ হাজার টাকা বেতনের কথা বলে দেওয়া হয়েছে ৫ হাজার টাকা। উদ্ভুদ এ পরিস্থিতিতে নারী কর্মীরা পড়েছেন বিপাকে। টাকা লগ্নিকারীরা এখন তাদেরকেই দুষছেন। তবে ওই প্রতারককে নারী কর্মীরা ধরিয়ে দেওয়ার ভূমিকা রেখেছেন।

সূর্যের আলো সমবায় সমিতির নারী কর্মী উপজেলার দোহাকুলা গ্রামের নীলা খাতুন জানান,‘আমরা বুঝতে পারিনি আমাদের নিয়োগ দিয়ে এমন প্রতারণার ফাঁদপাতা হয়েছিল। একই কথা বলেন অপর নারী কর্মী  ইন্দ্রা ও দোহাকুলা গ্রামের দুই সুরাইয়া। কথিত ম্যানেজারকে থানায় আনার পর ১০ নারী কর্মীই সেখানে উপস্থিত হয়ে প্রতারণার বিচার দাবি করেন।

এ বিষয়ে বাঘারপাড়া থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ আল মামুনের কাছে জানতে চাইলে তিনি পরে জানাবেন বলেন জানান। রাত পৌনে ৯ টার দিকে তার সেল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন কেটে দেন।

জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার তানিয়া আফরোজ বলেন ‘প্রতারক আসলামকে আটকের বিষয়টি আমাকে জনিয়েছেন ওসি সাহেব। আমি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলেছি