সড়ক দখল করে ধান মাড়াই !

দেশের খবর

হায়াতুজ্জামান মিরাজ, আমতলী (বরগুনা)।।

বরগুনার আমতলী উপজেলার অভ্যন্তরিন সড়ক ও মহাসড়ক দখল করে পুরোদমে চলছে আউশ ধান মাড়াই ও খড়কুটা শুকানোর কাজ। কৃষকরা সরাসরি ক্ষেত থেকে ধান কেটে সড়কে রেখেই মাড়াই কাজ সেরে নিচ্ছে। এতে মানুষ ও যানবাহন চলাচলে বিঘœ সৃষ্টি হচ্ছে। ধানের অবশিষ্ট অংশ রাস্তায় পড়ে থাকার কারনে যে কোন সময় বড় ধরনের দূর্ঘটনা ঘটার আশংকা করছেন স্থানীয়রা। জানাগেছে, পটুয়াখালী- আমতলী- কুয়াকাটা আঞ্চলিক মহাসড়কের আমতলী অংশের শাখারিয়া থেকে বান্দ্রা পর্যন্ত ৩৭ কিলোমিটার এবং আমতলী- তালতলী সড়কের মানিকঝুড়ি থেকে কচুপাত্রা পর্যন্ত ১২ কিলোমিটারসহ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের আভ্যন্তরিণ পাঁকা সড়কে কৃষকরা ধান মাড়াই করছে। এ সড়কগুলো দিয়ে প্রতিদিন সহ¯্রাধিক পরিবহন বাস, ট্রাক, পিকআপ, ব্যাটারী চালিত রিক্সা, অটোরিকশা, মাহেন্দ্র ও মোটর সাইকেল চলাচল করে। এ সড়কগুলোর দু’পাশে শতাধিক স্থানে স্থানীয় কৃষকরা ক্ষেত থেকে ধান কেটে সড়কে রেখে মাড়াই কাজ করছে। মাড়াই শেষে খড়কুটা সড়কে বিছিয়ে রেখে শুকিয়ে নিচ্ছে। অন্যদিকে বৃষ্টিতে এগুলো ভিজে পঁচে গিয়ে সড়ক পিচ্ছিল আকার ধারণ করে। আবার এসব খড়কুটার উপর দিয়েই যানবাহনগুলো চলাচল করছে। এতে বড় ধরনের দূর্ঘটনার আশংঙ্কা করছে এসকল সড়কে চলাচলরত বিভিন্ন যানবাহন চালকরা।

সরেজমিনে ঘুরে দেখাগেছে, পটুয়াখালী- আমতলী- কলাপাড়া আঞ্চলিক মহাসড়কের শাখারিয়া, ব্রীকফিল্ড, কেওয়াবুনিয়া, মহিষকাটা, চুনাখালী, খানকা, সাহেববাড়ী, আমড়াগাছিয়া, শিকদারবাড়ী, ঘটখালী, উসশিতলা, ছুরিকাটা, মানিকঝুড়ি, খুড়িয়ার খেয়াঘাট, আকনবাড়ী, ফকিরবাড়ী, খলিয়ান, কল্যাণপুর, বান্দ্রা এবং আমতলী- তালতলী সড়কের দক্ষিন-পশ্চিম আমতলী, আলিশার মোর পাড়পাশিয়া, মধ্যতারিকাটা, তারিকাটা নামক স্থানে সড়কের দু’পাশের তিন ভাগের একভাগ দখল করে ও উপজেলার অভ্যন্তরিন সড়কের অধিকাংশ সড়ক দখল করে ধান আটি বেঁধে রেখে দিয়েছে। আবার অনেক স্থানে মেশিন দিয়ে ধান মাড়াই করে খড়কুটা শুকানোর জন্য সড়কে ফেলে রেখে দিয়েছে।

যাত্রীবাহী বাস চালক মোঃ মজিবুর রহমান, শানু মিয়া ও আব্দুস ছালাম বলেন, সড়কের বিভিন্ন স্থানে আটি বেঁধে ধান রেখে দেওয়া, মাড়াই করার কারনে আমাদের গাড়ী চালাতে অনেক সমস্যা হচ্ছে। তারা আরো বলেন, সড়কে খড়কুটা শুকানো ও তা বৃষ্টিতে ভিজে পঁচে সড়ক পিচ্ছিল আকার ধারন করেছে। এসব খড়কুটার উপড় দিয়েই আমাদের গাড়ী চালাতে হয়। এতে যে কোন মূহুর্তে ঘটে যেতে পারে বড় কোন দূর্ঘটনা।

সাহেববাড়ী- গাজীপুর সড়কে ধান মাড়াই সম্পর্কে  কৃষক শাহআলম হাওলাদার বলেন, কোথাও শুকনো জায়গা না থাকায় বাধ্যহয়ে এ সড়কেই ধান মাড়াইয়ের কাজ করছি।

পটুয়াখালী- আমতলী- কুয়াকাটা আঞ্চলিক মহাসড়কের মানিকঝুড়ি এলাকার কৃষক আঃ মন্নান বলেন, বৃষ্টির কারনে এখন সবখানে কাঁদা পানি। তাই ক্ষেত থেকে ধান কেঁটে আটি বেঁধে মাড়াইয়ের জন্য মহাসড়কে রেখেছি।

আমতলী- তালতলী সড়কের মধ্য তারিকাটা এলাকার মোঃ সুলতান হাওলাদার বলেন, কোথাও শুকনো জায়গা না থাকায় ধানের অবশিষ্ট খড়কুটা পাকা রাস্তায় শুকানোর জন্য রেখেছি।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আসাদুজ্জামান মুঠোফোনে বলেন, সড়ক দখল করে ধান মাড়াই ও খড়কুটা শুকাতে গিয়ে মানুষ এবং যানবাহন চলাচলে বাঁধা সৃষ্টি করা যাবে না। পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।