সেই বাবার পাশে সন্তানরা নয়, এসেছে অন্যরা !

দেশের খবর

অহিদুজ্জামান বেপারী কাজল,মাদারীপুর।।
মাদারীপুরে চিকিৎসার অভাবে ৫ দিন ধরে হাসপাতালের ফ্লোরে পড়ে থাকা বাবার পাশে দাঁড়িয়েছে জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তর ও স্বেচ্ছাসেবি সংগঠন একুশে পদকপ্রাপ্ত চিত্রশিল্পী কাজী আনোয়ার হোসেন সমাজ কল্যান সংস্থা।
গুরুতর নুরু মাতুব্বরের দেখাশোনা করার জন্য অস্থায়ীভাবে একজন আয়া নিয়োগ দিয়েছে মাদারীপুরের সমাজসেবা অধিদপ্তর এবং একুশে পদকপ্রাপ্ত চিত্রশিল্পী কাজী আনোয়ার হোসেন সমাজ কল্যান সংস্থা ওষুধ কেনার জন্য ৫ হাজার টাকা দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে শুরু হয় তার চিকিৎসা কার্যক্রম।
মাদারীপুর সদর হাসপাতালের দায়িত্বে থাকা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. রাসেদুল জানান, গত রোববার থেকে হাসপাতালের দোতলার ফ্লোরে মুমুর্ষ অবস্থায় পড়ে আছেন এক সময়ের তাজ বিড়ি ফ্যাক্টরীর মালিক ও কোটিপতি ব্যবসায়ী নুরু মাতুব্বর। ৫ দিন পেরিয়ে গেলেও নুরু মাতুব্বরের পরিবারের কেউ খোঁজখবর নেয়নি। বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রচারের পর তার চিকিৎসার দায়িত্ব নেয় সমাজসেবা অধিদপ্তর। পরে তাকে দেখাশোনা করার জন্য আছিয়া আক্তার নামে একজন আয়া অস্থায়ীভাবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। গত ৪দিনে স্যালাইল ছাড়া কিছু না খেতে পারলেও এখন আয়ার মাধ্যমে বৃহস্পতিবার ভোর থেকে ফল ও নরম খাবার খাচ্ছেন তিনি। সঠিক চিকিৎসা পেলে নুরু আবারও স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবে বলে আশা সংশ্লিষ্টদের।
একুশে পদকপ্রাপ্ত চিত্রশিল্পী কাজী আনোয়ার হোসেন সমাজ কল্যান সংস্থার সাধারণ সম্পাদক কাজী আশিকুর হোসেন অপু বলেন, অসহায় এই বাবার জন্য আপাতত ওষুধ কিনতে ওই টাকা দেয়া হয়েছে। প্রয়োজনে আরো সহযোগিতা করা হবে।
এদিকে চিত্রশিল্পী কাজী আনোয়ার হোসেন সমাজ কল্যান সংস্থার পক্ষে চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করার জন্য সন্ধ্যায় সদর হাসপাতালে যান মৈত্রি মিডিয়া সেন্টারের সাধারণ সম্পাদক এসএম আরাফাত হাসান, শুভসংঘের মিলন মুন্সি, মো. কাজল, জুবায়ের জাহিদ, আমিনুল ইসলাম সোহানসহ বেশ কয়েকজন।
জানা যায়, কয়েক বছর আগে বন্ধ হয়ে যায় মাদারীপুরের চরমুগরিয়া এলাকার ‘তাজ বিড়ি ফ্যাক্টরী। পরে ফ্যাক্টরীর মালিক নুরু মাতুব্বর বাড়ি বিক্রি করে ছেলে আবু সাহিদকে লন্ডন পাঠান পড়াশুনা করাতে। লন্ডন থেকে ফিরে এসে ছেলে বিয়ে করে ঢাকায় ব্যবসা করছেন। পরে নুরু মাতুব্বরের বিঘার পর বিঘা জমি তিন মেয়ে ও এক ছেলেকে লিখে দেয়ার পাশাপাশি তাদের সভ্রান্ত পরিবারে বিয়েও দেন। অথচ, গত ১৫ বছর ধরে বাড়িছাড়া ৬৫ বছর বয়সী ওই বাবা। মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরে খাবার সংগ্রহ করলেও আজ চিকিৎসার অভাবে মৃত্যুশয্যয়।