মহম্মদপুরে ফিরলো আঁখির মরদেহ

অপরাধ ও আইন দেশের খবর

সুকান্ত চক্রবর্তী, মহম্মদপুর (মাগুরা)।।

ঢাকায় ময়নাতদন্ত শেষে  বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) রাত ১১ টার দিকে মাগুরার মহম্মদপুরের কেরিনগর গ্রামের নিজ বাড়িতে  পৌঁছেছে আঁখির মরদেহ। বৃহস্পতিবার সকাল ৮ টায় তার নামাজে জানাযা অনুষ্ঠিত হবে বলে পারিবারিক সূত্রে জানাগেছে। মঙ্গলবার ঢাকায় শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ণ অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন অগ্নিদগ্ধ আঁখি। গত ১৫ ই আগস্ট সন্ধ্যা পৌনে ৭ টার দিকে মাগুরার  মোহাম্মদপুর উপজেলার কেরিনগর গ্রামের আকরাম  মোল্লার মেয়ে কলেজ ছাত্রী আকলিমা খাতুন (২১) নিজের শরীরে আগুন দিয়ে আত্মহত্যা করার চেষ্টা করে।আকলিমার বাবা মেয়েকে জোর করে বিয়ে দেয়ার চেষ্টা করায় সে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয় বলে অভিযোগ।স্থানীয়রা জানায়,আকলিমা খাতুনের সঙ্গে একই গ্রামের মাসুদ মোল্লার ছেলে নাজমুলের দীর্ঘদিনের প্রেমজ সম্পর্ক ছিল। ২০১৭ সালের ২৯ মার্চ দুই পরিবারের অমতে গোপনে বিবাহ করেন তারা। প্রথমে দুই পরিবারের কেউ এ বিয়ে মেনে না নিলেও কিছুদিন পর ছেলের পরিবার মেনে নেয। পরবর্তীতে গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের চাপে মেয়ের পরিবারও বিয়ে মেনে নিতে বাধ্য হয়।

নাজমুলের মা শাহনাজ পারভীন (৪০) জানান, আকলিমাকে আমরা কখনোই ছেলের বউ মনে করতাম না, সব সময় তাকে নিজের মেয়ের মত করে আদর করতাম। কিন্তু তার মা ও বাবা কখনোই মন থেকে এই বিয়ে মেনে নেয়নি। তিনি অভিযোগ করেন, আকলিমার মা নার্গিস আক্তার সব সময় মেয়েকে কু-পরামর্শ দিত। যে কারনে ২০১৯ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর তাদের ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। নাজমুলের ইচ্ছে ছিল নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে আবার ঘর বাঁধার। সেজন্য সে মাগুরার ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ নিচ্ছিল। শাহানাজ পারভীন আরো জানান,ঘটনার আগের দিন ১৪ই আগস্ট মেয়ের বাবা আকরাম মোল্লা ও মা নার্গিস আক্তার মেয়ের জন্য পাত্র দেখতে গিয়েছিলেন । এ নিয়ে মা-বাবার সাথে আকলিমার বাকবিতন্ডা হয়।এ ঘটনাকে কেন্দ্র করেই  আকলিমা নিজের শরীরে ডিজেল ঢেলে আত্মহত্যা করার চেষ্টা করে।বিষয়টি খতিয়ে দেখার অনুরোধ করেন সংশ্লিষ্ট এলাকাবাসী।