হালিমের আকুতি : ‘নিজের যদি একখান ভ্যানগাড়ি ওইতো’!

চারিদিক স্পেশাল দেশের খবর

মহিদুল ইসলাম,শরণখোলা (বাগেরহাট)।।

‘করোনা পড়ছে পর কষ্টের আর শ্যাষ নাই। ভ্যানে এক-দুইজনের বেশি যাত্রী ওটতে চায়না। কামাইরুজি কইম্যা গ্যাছে। হারাদিন গাড়ি চালাইয়া মহাজনের ভাড়া মিডাইয়া এক-দ্যাড়শো টাহা পাই। অ্যাহন সংসার চালাইতে খুবই কষ্ট অয়। নিজের যদি একখান ভ্যানগাড়ি ওইতো তাইলে কোনোরহম বাইচ্যা থাকতে পারতাম’!

এমন ব্যাকুলতা প্রকাশ করে কথাগুলো বলেন বাগেরহাটের শরণখোলার রায়েন্দা ইউনিয়নের উত্তর তফালবাড়ি গ্রামের হতদরিদ্র ভ্যানচালক আব্দুল হালিম পহলান (৫৮)। প্রায় ৩০বছর ধরে তিন চাকার ভ্যান গাড়ি চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন। আগে পায়ে চালিত ভ্যান চালাতেন। এখন তা চলে ব্যাটারিতে। কিন্তু আজও পর্যন্ত নিজেরে একটি ভ্যান কেনার সামর্থ হয়নি তার। নিজের একটি ভ্যানগাড়ি থাকলে পরিবার-পরিজন নিয়ে খেয়েপরে বেঁচে থাকতে পারতেন বলে আকুতি জানান হতদরিদ্র আব্দুল হালিম।

আব্দুল হালিমের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মহাজনের কাছ থেকে প্রতিদিন দেড়শ টাকা চুক্তিতে ব্যাটারিচালিত ভ্যানগাড়ি ভাড়ায় নিয়ে চালান। কিন্তু করোনা শুরু হওয়ার পর থেকে যাত্রী কমে গেছে। মহাজনের ভাড়া শোধ করার পর এক-দেড়শ টাকা থাকে। অবিরাম বৃষ্টির ফলে খোলা ভ্যানে যাত্রী চলতে চায় না। তাই সাতশ টাকা দিয়ে একটি ট্যুরিস্ট ছাতা কিনে ভ্যানে লাগিয়েছেন।

হতাশা প্রকাশ করে আব্দুল হালিম জানান, সংসারে বৃদ্ধ মা, স্ত্রী-সন্তানসহ লোকসংখ্যা চারজন। ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ভিজিডি কার্ডের মাধ্যমে মাসে ৩০কেজি করে চাল তোলেন। তাতে পুরো মাস চলেনা। প্রতিদিন যা আয় হয় তা দিয়ে চাল কিনলে আর মাছ, তরিতরকারি কিনতে পারেন না। গত তিন দিন ধরে স্ত্রী হনুফা বেগম পাশের বাড়ি থেকে তিন সের করে চাল ধার এনে রান্না করছে। ভ্যান চালিয়ে রাতে চাল কিনে সেই ধারের চাল শোধ করতে হচ্ছে। এ অবস্থাতে বাড়িতে মেয়ে-জামাই বা আত্মীয়-স্বজন এলে লজ্জায় পড়তে হয়। মাত্র দুই কাঠা বাড়ির জমি ছাড়া আর কোনো সহায়-সম্বল নেই। তার এক ছেলে, দুই মেয়ে। ছেলে বেল্লাল পহলান বিয়ে করে আলাদা থাকে। বড় মেয়ে মহিমার বিয়ে হয়েছে। ছোট মেয়ে তামান্ন স্থানীয় গগণ মেমোরিয়াল দাখিল মাদরাসায় অষ্টম শ্রেণিতে পড়ে। আব্দুল হালিম পহলানের এখন একটি চাওয়া, যদি কোনোভাবে নিজে একটি ভ্যানগাড়ি কিনতে পারতেন তাহলে আর ভাড়া গুণতে হতো না। প্রতিদিন যা আয় হতো তা দিয়েই সংসার চালাতে পারতেন।

এব্যাপারে রায়েন্দা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান মিলন বলেন, দরিদ্র আব্দুল হালিমকে পরিষদ থেকে ভিজিটি কার্ড দেওয়া হয়েছে। তিনি যাতে একটি ভ্যান কিনতে পারেন সেই সহযোগিতাও করা হবে।

শরণখোলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সরদার মোস্তফা শাহিন বলেন, সুযোগ হলে উপজেলা পরিষদ থেকে হতদরিদ্র আব্দুল হালিমকে একটি ভ্যান কেনার জন্য আর্থিক সহায়তা করা হবে। এছাড়াও সরকারি অন্যান্য সহায়তা দেওয়া হবে তাকে।