মাতব্বরি নেই নুরু মাতুব্বরের,তাই বাবার পাশে নেই তারা !

চারিদিক স্পেশাল দেশের খবর

ফারজানা আক্তার মুন্নি,মাদারীপুর।।
এক সময় বাড়ি-গাড়ি সব ছিল তাঁর। এখন কিছুই নেই। সন্তানদের নামে সব লিখে দিয়ে এখন তিনি নি:স্ব। যে সন্তানদের জন্য না খেয়ে ঘাম ঝরিয়েছেন বাবা-সেই সন্তানরাই আজ বাবার খোঁজ রাখেননা। গত ১৫ বছর রাখেননি। জীবন সায়াহ্নে এসে বাবা এখন হাসপাতালের বিছানায় মৃত্যুর অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন। গত চার দিনেও কেউ হাসপাতালে খোঁজ নিতে আসেননি অসহায় এই বাবার। মাদারীপুরের এক সময়ের তাজ বিড়ি ফ্যাক্টরীর মালিক ও কোটিপতি ব্যবসায়ী নুরু মাতুব্বরের গল্প যে এমন হবে তা ভাবেননি সেখানকার কেউ-ই।
নুরু মাতুব্বর তাঁর চার সন্তানকে সব সম্পত্তি লিখে দেয় ১৫ বছর আগে। সম্পত্তি বাগিয়ে নেওয়ার পর সন্তানরা বাবার ওপর নির্যাতন শুরু করে। এক পর্যায়ে সন্তানদের কাছ থেকে সরে আসতে বাধ্য হন তিনি। গত ১৫ বছর ধরে মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরে দুবেলা খাবার খেয়ে কোন রকম বেঁচে আছেন এক সময়ের কোটিপতি নুরু মাতুব্বর। এরই মধ্যে কয়েকদিন ধরে খুব অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। মুমুর্ষ অবস্থায় কেউ একজন তাঁকে নিয়ে আসেন মাদারীপুর সদর হাসপাতালে। এ হাসপাতালের ফ্লোরে অযতœ অবহেলায় পড়ে আছেন তিনি। গত চার দিনেও তাঁর খোঁজ নিতে আসেনি সন্তানরা। যেকারনে সন্তানদের আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি বৃদ্ধ ওই বাবার চিকিৎসার ব্যবস্থা গ্রহণের আশ^াস দিয়েছেন উপজেলা প্রশাসন।
হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক মেডিকেল অফিসার ডাক্তার ইমরানুর রহমান জানান, গত রোববার মাদারীপুর সদও উপজেলার ঝিকরহাটি গ্রামের নুরু মাতুব্বরকে অজ্ঞাত এক ব্যক্তি অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করে দিয়ে গেছেন। গত চার দিনেও পরিবার থেকে ৬০ বছর বয়সী বাবার কোন খোঁজ নিতে আসেননি সন্তানরা। উন্নত চিকিৎসা প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন ডাক্তার ইমরানুর রহমান।
স্থানীয়রা জানান, বেশ কয়েক বছর আগে বন্ধ হয়ে যায় মাদারীপুরের চরমুগরিয়া এলাকার ‘তাজ বিড়ি ফ্যাক্টরী। পরে ফ্যাক্টরীর মালিক নুরু মাতুব্বর বাড়ি বিক্রি করে ছেলেকে লন্ডন পাঠান পড়াশুনা করাতে। লন্ডন থেকে ফিরে এসে ছেলে বিয়ে করে ঢাকায় ব্যবসা করছেন। পরে নুরু মাতুব্বরের বিঘার পর বিঘা জমি তিন মেয়ে ও এক ছেলে আবু সাহিদকে লিখে দেয়ার পাশাপাশি তাদের সভ্রান্ত পরিবারে বিয়েও দেন। অথচ, গত ১৫ বছর ধরে বাড়িছাড়া ওই বাবা। মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরে খাবার সংগ্রহ করলেও আজ চিকিৎসার অভাবে মৃত্যুশয্যায়। এমন ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী করেছেন এলাকাবাসী। অসুস্থ হওয়ার আগে তিনি চরমুগরিয়া বাজার এলাকায় একটি দোকানে রাতে পাহাদার হিসেবে কাজ করতেন। হাসপাতালের অন্যান্য রোগীরা বৃদ্ধাকে খাবার দিচ্ছে ও আদর আপ্যায়ন করছে।
নুরু হোসেন মাতুব্বরের মেয়ে শামসুর নাহার চৈতী বলেন, পারিবারিক ঝামেলার কারণে বাবার সাথে যোগাযোগ অনেকটাই বিচ্ছিন্ন। বাবা তার মতো করে থাকেন। আর আমরা মাকে নিয়ে আমাদের মত করে থাকি।
মাদারীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. সাইফুদ্দিন গিয়াস বলেন, এক বৃদ্ধ কয়েকদিন ধরে সদর হাসপাতালে অসুস্থ অবস্থায় পড়ে আছেন। তার খোঁজ খবর নিতে কেউ আসছেন না শুনে আমি আজ (২ সেপ্টেম্বর) সকালে হাসাপাতালে তাকে দেখতে যাই এবং তাঁর শারীরিক অবস্থার খোঁজ খবর নিয়ে আসি। তার ভরণপোষণ ও খোঁজ না নেয়ায় সন্তানদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান এই কর্মকর্তা।