লোহাগড়া পিআইও’র বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেছে সরকারি কর্মচারি সমন্বয় পরিষদ

অপরাধ ও আইন দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল

লোহাগড়া (নড়াইল) প্রতিনিধি।।
নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার বিভিন্ন অনিয়ম ও দূর্নীতির বিচারের দাবিতে ফুঁসে উঠেছে লোহাগড়া উপজেলা সরকারি কর্মচারি সমন্বয় পরিষদ। রাতের আঁধারে অফিসের নথিপত্র পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনাকে দূরভিসন্ধি হিসেবে দেখছেন তারা। নিজের অপকর্ম ঢাকতেই অফিসের প্রমানাদি পুড়িয়ে ফেলেছেন বলে মনে করেন উপজেলা সরকারি কর্মচারি সমন্বয় পরিষদ। এ ব্যাপারে গত ১৯ আগষ্ট সমাবেশের আয়োজন করে লোহাগড়া উপজেলা সরকারি কর্মচারি সমন্বয় পরিষদ। ওইদিন বিকেলে ক্লাব ভবনের সামনে অনুষ্ঠিত সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার কার্যালয়ের অফিস সুপার এসএম আইনুল হক। সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন শরিফুল ইসলাম, শহিদুর রহমান, মাওলানা আরিফুল ইসলাম,জাহিদ হোসেন, ফরমান আলী, ইনতাজ শেখ প্রমুখ।
সভায় বক্তরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সম্প্রতি লোহাগড়া উপজেলা প্রকল্প (বাস্তবায়ন) কর্মকতা নিজের অনিয়ম-দুর্নীতি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য ওই কর্মকর্তা গোপনে অফিসের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পুড়িয়ে ফেলেছেন। ধুরন্ধর ও সুচতুর ওই কর্মকর্তা নিজের অপকর্ম ঢাকার জন্য অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক মনিরুজ্জানের ওপর দায় চাপাচ্ছেন। এ ব্যাপারে গত ১৭ আগস্ট(সোমবার) মনিরুজ্জামান উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে কাগজ পোড়ানোসহ দূর্নীতির বিষয়ে তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের আবেদন করেছেন।
অভিযোগে জানাগেছে, লোহাগড়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয়ের গত ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে ১৭টি সেতু/কালভার্টের সিডিউল বিক্রির চার লাখ ৮৬ হাজার এবং এইচবিবি রাস্তার সিডিউল বিক্রির ছয় লাখ টাকা সরকারী কোষাগারে জমা না দিয়ে প্রকল্প (বাস্তবায়ন) কর্মকর্তা এসএমএ করিম আত্মসাত করে তৎকালিন অফিস সহকারী জিয়াউর রহমানকে অশ্লীলভাষায় গালিগালাজ করেন। অফিস সহকারি জিয়াউর রহমান এ সংক্রান্ত অভিযোগ এনে ২০১৯ সালের ৩০ ডিসেম্বর দূর্নীতি দমন কমিশনসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে দূর্নীতি দমন কমিশন তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য নড়াইলের জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দেন। এর প্রেক্ষিতে নড়াইল জেলা ত্রান ও পুর্নবাসন কর্মকর্তা মিজানুর রহমান গত ৬ জুলাই উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ে সিডিউল বিক্রির টাকা সরকারী কোষাগারে জমা না দিয়ে আত্মসাতের বিষয়ে তদন্তকালে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা এসএমএ করিম নথিপত্রাদি উপস্থাপন করেননি।এমনকি অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক মনিরুজ্জামানকে সংশ্লিষ্ট তথ্য উপস্থাপন করতে দেননি।
একাধিক সূত্রে জানাগেছে, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা এসএমএ করিম গত ২০১৮-১৯ অর্থ বছরের সেতু কালভার্ট ও ২০১৯-২০ অর্থ বছরের হেরিংবোন বন্ডকরন প্রকল্পের সিডিউল, সিএস শীটসহ সকল কাগজপত্র তার নিজ কক্ষের আলমারিতে সংরক্ষন করেন। যার তালা-চাবি অন্য কোন কর্মচারীর কাছে নেই। নিজের অপকর্ম ঢাকতে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সম্প্রতি দু’জন কর্মচারীর সহযোগিতায় রাতের আঁধারে অফিসের গুরুর্তপূর্ণ কাগজপত্র পুড়িয়ে দিয়েছেন বলে অভিযোগ।

এ ব্যাপারে উপজেলা সরকারি কর্মচারি সমন্বয় পরিষদের এসএম আইনুল হক বলেন, উক্ত কর্মকর্তা দীর্ঘদিন ধরে লোহাগড়া উপজেলায় অবস্থান করে নানা অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করে চলেছেন। শুধু তাই নয় তিনি কারণে অকারণে চতুর্থ শ্রেনীর কর্মচারিদের সাথে অহরহ দুর্ব্যবহার করে থাকেন। এর আগেও তিনি ওই অফিসের একজন কর্মচারীর সাথে অসৌজন্যমুলক আচরণ করেছেন। সে সময় তিনি সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে মাফ চেয়ে রক্ষা পান। তার এসব অপকর্মের কোন শাস্তি না হওয়ায় তিনি বর্তমানে বেপরোয়া হয়ে পড়েছেন। এ সময় প্রকল্প (বাস্তবায়ন) কর্মকর্তা এসএমএ করিমের শাস্তি দাবি করেন তিনি।