মেলেনি বাবার স্বীকৃতি: মা হয়েছেন মহম্মদপুরের সেই কিশোরী

অপরাধ ও আইন দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল

সুকান্ত চক্রবর্ত্তী, মহম্মদপুর (মাগুরা)
মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার নহাটা ইউনিয়নের পরমেশ্বরপুর গ্রামের ধর্ষনের শিকার সেই স্কুল ছাত্রী মা হয়েছেন। শনিবার সকালে মাগুরা সদর হাসপাতালে ওই স্কুল ছাত্রী একটি পুত্র সন্তানের জন্ম দিয়েছেন।
ধর্ষিতার পরিবারের লোকজন জানিয়েছেন,প্রসবজনিত ব্যথা উঠলে এদিন সকালে তাকে মাগুরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। দুপুরে ফুটফুটে একটি পুত্র সন্তানের জন্ম দেন কিশোরী মেয়েটি। বিকেলেই নবজাতকসহ তাকে গ্রামের বাড়ি পরমেশ্বরপুর নিয়ে আসা হয়। এ সময় নবজাতককে দেখতে কৌতুহলী মানুষ সেখানে ভীড় করতে শুরু করে।
মহম্মদপুর উপজেলার নাহাটা ইউনিয়নের পরমেশ্বরপুর গ্রামের ৮ম শ্রেণী পড়ুয়া ওই কিশোরীর সাথে মাগুরা সদর উপজেলার বেরইল পলিতা ইউনিয়নের ভাঙ্গুড়া গ্রামের শহিদুল ইসলামের ছেলে শাহাবুল ইসলামের (১৯) দীর্ঘদিন প্রেমের সম্পর্ক চলে আসছিল। এক পর্যায়ে অন্ত:স্বত্তা হয়ে পড়েন ওই কিশোরী। এ ঘটনায় গত ১৬ জুলাই মেয়েটির বাবা বাদী হয়ে অভিযুক্ত শাহাবুলের বিরুদ্ধে মহম্মদপুর থানায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। ওই দিনই পুলিশ শাহাবুলকে গ্রেফতার করে।
এদিকে এ ঘটনায় গত ১০ জুলাই স্থানীয় এক আওয়ামীলীগ নেতা সালিশ বৈঠকের আয়োজন করেন। ওই বৈঠকে শান্তিপূর্ণ সমাধান দেয়ার বদলে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ এনে কিশোরীর পরিবারকে ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করেন। যা দেয়ার জন্যে ১০ দিনের সময় বেধে দেয়া হয়। একই সাথে ধর্ষিতার পরিবারকে ৬ মাসের জন্য একঘোরে ঘোষণা করা হয়। ধর্ষিতার পরিবার নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টাকা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় ওই নেতার নির্দেশে একদল দুর্বৃত্ত গত ২০ জুলাই ধর্ষিতার বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় একটি গরু, চারটি ছাগল, একটি বাইসাইকেল, ভ্যানসহ বিভিন্ন মালামাল লুট করে নিয়ে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় ওই আওয়ামীলীগ নেতাসহ ১৬ জনের নামোল্লেখ করে মামলা করেন ধর্ষণের শিকার মেয়েটির বাবা।এ মামলায় সাত আসামী গ্রেফতার থাকলেও প্রধান আসামি মহম্মদপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের ওই নেতা আটক হয়নি। যে কারনে শংকায় রয়েছে অসহায় পরিবারটি।
শনিবার বিকেলে হাসপাতালে থেকে ধর্ষিতার নবজাতককে বাড়িতে আনা হলে তাদের দেখতে কৌতুহলী মানুষ ভিড় করে। এ সময় দিশেহারা হয়ে পড়ে ওই পরিবারের সদস্যরা। কাঁন্নায় ভেঙ্গে পড়েন মেয়েটির বাবা।
এদিকে এ ঘটনার সকল আসামিদের অবিলম্বে গ্রেফতার ও বিচারের দাবিতে বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠন মহম্মদপুর উপজেলা ও মাগুরা জেলা শহরে একাধিকবার মানববন্ধনসহ নানা কর্মসুচি পালন করলেও প্রভাবশারী আসামিরা এখনো ধরা ছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন। অন্যদিকে আসামি গ্রেফতার না করতে রাজনৈতিক নেতাদের চাপ ও প্রসাশনের গাফিলতি রয়েছে বলে ধর্ষিতার পরিবার দাবি করেছেন।
জানতে চাইলে মহম্মদপুর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তারক বিশ্বাস বলেন,‘মামলা দায়েরের পর ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি শাহাবুলকে গ্রেফতার করে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। অপর মামলায় সাবেক ইউপি সদস্যসহ ১৬ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে চাঁদা দাবি, মারপিট,জখমসহ বিভিন্ন অভিযোগ আনা হয়েছে’।