যশোরে ভুয়া সাংবাদিক আটক!

অপরাধ ও আইন যশোর জেলার খবর

যশোর প্রতিনিধি।।
যশোরে সাংবাদিক পরিচয়ে ভুয়াকার্ড করে চাঁদাদাবি ও কার্ড তৈরী করে দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে টাকা নেয়ার অভিযোগে প্রদীপ কুমার সাহা নামে এক যুবককে আটক করেছে যশোরের নরেন্দ্রপুর ক্যাম্পের পুলিশ। প্রদীপ অভয়নগর উপজেলার রাজঘাট এলাকার রতন সাহার ছেলে। বর্তমানে সে যশোর সদর উপজেলার নরেন্দ্রপুর ইউনিয়নের রুপদিয়া বাজারের সুরত আলীর বাড়িতে ভাড়া থাকেন।
বাঘারপাড়া উপজেলার আন্দুলবাড়িয়া গ্রামের জয়দেব চক্রবর্তীর ছেলে সুমন চক্রবর্তী অভিযোগ করেছেন, তিনি রুপদিয়া বাজারে তার মামার একটি ওষুধের দোকানে কাজ করেন। প্রদীপ কুমার সাহা প্রায় সময় তার কাছে এসে নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দেয়। সে প্রস্তাব দেয়, ‘তোমাকে এমন একটি কার্ড করে দেবো যে কোন বিপদ হলে কাউকে কার্ডটি দেখালে সমস্যা সমাধান ও তুমি উদ্ধার হয়ে যাবে। এই কার্ড যার কাছে থাকবে পুলিশ তাকে সালাম দিয়ে চলবে।’ তিনি প্রলোভনে পড়ে নগদ ২ হাজার টাকা দেন। পরে কার্ড না পাওয়ার বিষয়টি জানতে চাইলে তাকে হুমকি দেয়া হয়। উল্টো সুমনের কাছে ১৫ হাজার টাকা চাঁদা চান প্রদীপ। চাঁদা না দিলে তাকে খুন জখমের হুমকি দেয়া হয়। গত ২০ তারিখে চাঁদার দাবিতে তার কাছে এসে জোর পূর্বক ৫ হাজার টাকা নিয়ে যায়। এই ঘটনায় তিনি স্থানীয় ক্যাম্পের পুলিশকে জানালে পুলিশের এসআই গোলাম মোর্তুজা শুক্রবার প্রদীপকে আটক করেন।
কোতয়ালি থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) শেখ তাসমীম আলম জানিয়েছেন, আটক প্রদীপ নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দেন। তার কাছে একটি কার্ড রয়েছে যেখানে পরিচয় লেখা আছে ‘ ন্যাশনাল ক্রাইম জার্নালিস্ট অ্যান্ড রাইটস ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও নির্বাহী পরিচালক জিএম মিজানুর রহমান।’ মিজানুর রহমান দৈনিক বাংলাদেশ বার্তার যশোর ব্যুারো প্রধান। এছাড়া হিউম্যাান রাইটস রিভিউ সোসাইটির খুলনা বিভাগীয় সভাপতি মিজানুর রহমান। আর প্রদীপ এই সংগঠনের খুলনা বিভাগীয় যুগ্ম মহাসচিব। যার বিভাগীয় অফিস রুপদিয়া বাজারে।
শেখ তাসমীম আলম জানিয়েছেন, কার্ডটি দেখে সন্দেহ হলে তিনি কয়েকজন সাংবাদিককে দেখান। সাংবাদিকরা ভুয়া বলে জানালে তাকে আটক করে মামলা দেয়ার প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে।
প্রদীপ জানিয়েছেন, তিনি কয়েকদিন হলো সাংবাদিকতা করছেন। তার নেতা জিএম মিজানুর রহমান সাংবাদিকতার কার্ডটি দিয়েছেন।
যশোরের কয়েকজন সাংবাদিক জানিয়েছেন, এই মিজানুর রহমান গত কয়েক বছর ধরে যশোরে সাংবাদিকতার পরিচয় দিয়ে নানা ফন্দি ফিকির করে আসছেন। মূলত ধান্দাবাজ হিসাবে পরিচিত। এক সময়কার কাঠ মিন্ত্রি মিজানুর সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে চাঁদাবাজির করে আসছে। এখন ভুঁইফোড় সংগঠন খুলে নতুন ধান্দাবাজিতে মেতেছেন।