বাংলাদেশকে ভোলেননি উজবেক

খেলার খবর

চারিদিক ডেস্ক ।।
১৯৯২ সালে তিন রাশিয়ান ফুটবলার খেলতে এসেছিলেন ঐতিহ্যবাহী মোহামেডান স্পোর্টিংয়ে। তিনজনই ছড়িয়েছিলেন আলো। এদের মধ্যে স্ট্রাইকার আজামত আব্দু রহিমভ একটু অন্যভাবে স্মরনীয় হয়ে আছেন। লিগে একবারই নেমেছিলেন তিনি। মোহামেডানের হয়ে ১১ ম্যাচে ১৭ গোল করে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন! এর মধ্যে তিন ম্যাচে ১০ গোল অন্যতম। ২৮ বছর পরও রহিমভ মনে রেখেছেন মোহামেডান ও বাংলাদেশের ফুটবলকে।রহিমভ সঙ্গে এসেছিলেন মিডফিল্ডার সের্গেই নভিকম ও ডিফেন্ডার বরিস কুজনেসভ। রহিমভ পরবর্তীতে মাঠ মাতিয়েছেন উজবেকিস্তান জাতীয় দলের হয়ে। অন্য দুজন রাশিয়ার বিভিন্ন ক্লাবে খেলেছেন।অনলাইনে বাংলা ট্রিবিউনকে সঙ্গে আলাপকালে ২৮ বছর আগের স্মৃতি রোমন্থন করলেন রহিমভ এভাবে, ‘বাংলাদেশের খেলার স্মৃতি এখনও আমার হৃদয়ে জ্বলজ্বলে। এখানকার মানুষের মধ্যে ফুটবল নিয়ে উন্মাদনা ছিল দেখার মতো। মাঠে কিংবা ক্লাবের তাঁবুতে সবসময় সমর্থকদের ভিড় ছিল লক্ষণীয়। ভালো খেললে যেমন তারা প্রশংসা করতো তেমনি খারাপ করলে দুয়ো শুনতে হতো। যদিও এটা আমাদের উজবেকিস্তানসহ অনেক দেশেই আছে।’লিগে তিন ম্যাচে করেন ১০ গোল। প্রথম দুই ম্যাচে গোল করেন ৩টি করে, পরের ম্যাচে ৪ গোল। অর্থাৎ, টানা তিন ম্যাচে হ্যাটট্রিক! সেই সময় ক্লাবটির ম্যানেজার ছিলেন বর্তমানে বাফুফের সিনিয়র সহ-সভাপতির দায়িত্বে থাকা আব্দুস সালাম মুর্শদী, তিনি চ্যালেঞ্জও ছুঁড়ে দিয়েছিলেন সাবেক এই স্ট্রাইকারকে। সেটা কেমন ছিল? রহিমভের ভাষায়, ‘সেই সময় তিনি (সালাম মুর্শেদী) বলেছিলেন, তার গড়া ২৭ গোলের রেকর্ড ভাঙতে পারলে ৫ হাজার ডলার পুরস্কার দেবেন। কিন্তু আমি তো লিগের শুরু থেকে খেলতে পারিনি। পরে এসে যোগ দিয়েছিলাম। যদি শুরু থেকে খেলতে পারতাম তাহলে হয়তো গোলসংখ্যা আরও বেশি হতে পারতো।’লিগে সর্বাধিক গোল করেও সেবার মোহামেডানকে লিগ জেতাতে পারেননি রহিমভ। চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল আবাহনী লিমিটেড। সেই হতাশা এখনও আছে রহিমভ, ‘আমরা এসে দেখি আবাহনী থেকে ৩ পয়েন্ট পিছিয়ে মোহামেডান। শেষের দিকে আবাহনীর বিপক্ষে জিততে পারলে লিগ জেতার সম্ভবনা থাকতো। কিন্তু আমরা হেরেছি। হারের কারণও আছে। কিছুটা পায়ে ব্যথা ছিল। এছাড়া শেষ মাসের পারিশ্রমিক আমরা পাইনি। ক্লাব কর্মকর্তারা দেবো দেবো করেও দেননি। এর প্রভাব পড়েছে ম্যাচে।’সৈয়দ রুম্মন বিন ওয়ালি সাব্বির-ছাইদ হাসান কাননদের কথা এখনও মনে আছে রহিমভের, ‘সাব্বির ছিল আমার দেখা সেই সময়ের সেরা খেলোয়াড়। এছাড়া কানন ও কায়সার হামিদদের কথাও মনে পড়ে। আবাহনী ছিল চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী। দুই দলের দ্বৈরথটা বেশ জমতো। অনেকদিন হলেও ফেসবুকের মাধ্যমে অনেক বাংলাদেশি বন্ধুদের সঙ্গে কথা হয়। তখন বাংলাদেশের কথা বেশি মনে পড়ে।’রাশিয়া থেকে তখন আলাদা হয়ে গেছে উজবেকিস্তান। দেশটির হয়ে ২২টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন রহিমভ। গোল করেছেন ১১টি। ১৯৯৪ সালে এশিয়ান গেমসে সোনা জিতেছিল উজবেকিস্তান। রহিমভ ছিলেন অন্যতম কাণ্ডারি। সেমিফাইনালে দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে গোলটি এখনও তাদের দেশে অন্যতম সেরা গোল হিসেবে বিবেচিত।বর্তমানে এএফসি প্রো-লাইসেন্সধারী কোচ হিসেবে কোচিংয়ে আছেন। সবশেষ উজবেকিস্তান অনূর্ধ্ব-১৬ দলের কোচ ছিলেন। ৫৪ বছর বয়সী রহিমভ সুযোগ পেলে আবারও বাংলাদেশে আসতে চান, ‘খেলোয়াড়ি জীবন শেষে কোচিংয়ের সঙ্গে যুক্ত আছি। যদি কোনও সময় সুযোগ হয় বাংলাদেশে আসতে চাই। মাত্র এক মৌসুম এখানে খেলেছি। তারপরও এটা আমার অন্যতম প্রিয় দেশ। এই দেশের ফুটবল উন্মাদনা এখনও আমাকে টানে।’