দুর্ধর্ষ জাফরিন বাঘারপাড়া থেকে গ্রেফতার

অপরাধ ও আইন অর্থনীতি আন্তর্জাতিক খেলার খবর চারিদিক স্পেশাল দেশের খবর ফিচার বিনোদন যশোর জেলার খবর রাজনীতি

যশোরের বাঘারপাড়া থেকে শেখ জাফরিন হাসান নামে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে খুলনা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
বৃহস্পতিবার রাতে খুলনা নগরীর খানজাহান আলী থানার মশিয়ালী এলাকায় নির্বিচারে গুলি করে তিনজনকে হত্যার ঘটনায় অন্যতম অভিযুক্ত এই জাফরিন। তাকে নিয়ে মশিয়ালি এলাকায় অস্ত্র উদ্ধারের অভিযানে নেমেছে পুলিশ।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, মশিয়ালিতে ট্রিপল মার্ডারের পর অভিযুক্তরা অনেকেই যশোরের অভয়নগর, বাঘারপাড়াসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় আত্মগোপন করেন বলে পুলিশের কাছে খবর ছিল। শুক্রবার অভয়নগরে অভিযান চালিয়ে জাহাঙ্গির নামে একজনকে ধরে নিয়ে যায় খুলনা পুলিশ।
চাঞ্চল্যকর এই ঘটনায় অভিযুক্তদের মধ্যে প্রথম সারিতে নাম রয়েছে জাফরিন হাসানের।
সূত্র জানায়, ট্রিপল মার্ডারের পর জাফরিন পালিয়ে যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার দেয়াপাড়া এলাকায় এসে আত্মগোপন করেন। সেখান থেকে অবস্থান বদলে তিনি চলে যান একই উপজেলার বলরামপুর-দাদপুর এলাকায় দূরসম্পর্কের এক আত্মীয়ের বাড়িতে।
কিন্তু জাফরিন যে এই এলাকায় আছেন, তা জেনে যায় পুলিশ। আজ শনিবার দুপুরে তাকে ধরতে খুলনা, যশোর ও বাঘারপাড়ার বিপুল সংখ্যক পুলিশ বলরামপুর-দাদপুর ঘিরে ফেলে। ঘটনা আঁচ করতে পেরে পালানোর চেষ্টা করেন জাফরিন। কিন্তু গ্রামবাসীর সহায়তায় পুলিশ তাকে ধরে ফেলতে সক্ষম হয়।
এই অভিযানে ইনসপেক্টর সৌমেন দাসের নেতৃত্বে যশোর ডিবির একটি চৌকষ দল অংশ নেয়। এই তথ্য সুবর্ণভূমিকে নিশ্চিত করেছেন ডিবির ওসি মারুফ আহমেদ।
খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের মুখপাত্র কানাইলাল সরকার ট্রিপল মার্ডারের মূল হোতা জাকারিয়ার ভাই ও অন্যতম সহযোগী জাফরিনকে গ্রেফতারের কথা নিশ্চিত করেছেন। আজ বিকেলে তাকে যশোরের বাঘারপাড়া থেকে গ্রেফতার করা হয় জানিয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তাকে নিয়ে মশিয়ালি এলাকায় অস্ত্র উদ্ধারের অভিযান চালানো হচ্ছে।
এদিকে, বহুল আলোচিত জাফরিন ও তার ভাইয়েরা এলাকায় নানা অপকর্ম করতে ক্ষমতাসীন দলের প্রভাব ব্যবহার করেন। জাফরিন বিভিন্ন সময় পুলিশের কর্মকর্তাদের সঙ্গে ছবি তুলে তা নিজের ফেসবুক ওয়ালেও পোস্ট করেছেন। আলোচিত রিজেন্ট গ্রুপের কর্ণধার সাহেদের কায়দায় জাফরিনও এই সব কর্মকর্তাদের সঙ্গে তার সখ্য রয়েছে বলে জনসমক্ষে তুলে ধরে নিজের প্রভাব বাড়ানোর তৎপরতায় লিপ্ত ছিলেন।
অন্যদিকে, মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি শেখ শাহজালাল হোসেন সুজন জানান, গ্রেফতার জাফরিন কখনোই ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি ছিলেন না। দেবদুলাল বাড়ৈ বাপ্পি ও শেখ সুজনের কমিটিতে তিনি ক্রীড়া সম্পাদক ছিলেন। কিন্তু অপকর্মের দায়ে তাকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল।
আর মহানগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান রাসেল বলছেন, জাফরিন আগের কমিটির ক্রীড়া সম্পাদক ছিলেন। ওই কমিটি থেকে তাকে বহিষ্কার করা হয়। পরে নতুন কমিটিতে সহ-সভাপতি করা হলেও দুইদিনের মাথায় তাকে বহিষ্কার করা হয়। যার কারণে কমিটিতে তার নাম নেই।
স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, এলাকায় মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি ও সুদের ব্যবসা ছিল জাফরিনের। ফেনসিডিলসহ আটকের পর তাকে ছাত্রলীগ থেকে বহিষ্কার করা হয়।
গত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে আটটা থেকে নয়টার মধ্যে খুলনা নগরীর খানজাহান আলী থানার মশিয়ালি এলাকায় প্রতিপক্ষের ওপর গুলি ছোড়ে জাফরিন ও তার তিন ভাই। ওই ঘটনায় তিনজন নিহত এবং অন্তত আটজন গুলিবিদ্ধ হন। এই হত্যাকাণ্ডের পর ক্ষিপ্ত জনতা পিটিয়ে মেরে ফেলে জাফরিনদের পক্ষের একজনকে।

মামলা
খুলনার মশিয়ালিতে ট্রিপল মার্ডারের ঘটনায় বহিষ্কৃত আওয়ামী লীগ নেতা জাকারিয়া ও তার ভাই জাফরিন ও মিলটনসহ ২২ জনের নামে মামলা হয়েছে। ওই ঘটনায় নিহত সাইফুল ইসলামের বাবা সাইদুল শেখ নগরীর খানজাহান আলী থানায় এ মামলাটি করেছেন।
খানজাহান আলী থানার ডিউটি অফিসার এসআই ধনঞ্জয় মামলা হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *